সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ

স্বামী জীবিত থাকতে ও তাকে মৃত দেখিয়ে বিধবাভাতা উত্তোলন করছেন স্ত্রী। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২০ ১৮০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক:: স্বামী জীবিত থাকতে ও তাকে মৃত দেখিয়ে বিধবাভাতা উত্তোলন করছেন স্ত্রী। এভাবেই ২০১৬ সাল থেকে চলছে সরকারি টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনা।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ১০ নং কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ওই ভুয়া ভাতাভোগী প্রতি মাসে পাঁচশত টাকা করে পান। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বর শাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, ১২ হাজার টাকা নিয়ে আমিরোন বিবির নামে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন মেম্বর মোঃ মুজিবর মোল্লা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগে জানা গেছে, ১০ নং কোটাকোল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহের শেখ (৬৫) এর স্ত্রী আমিরোন বিবি।

লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিস ২০১৭ সালের ২০ আগষ্ট আমিরোন বিবির নামে বিধবা ভাতার কার্ড ইস্যু করেন। কার্ড নং- ২৭৯/১৭। ওই কার্ডের বিপরীতে সোনালী ব্যাংক মহাজন শাখার হিসাব নং-০১০১১৬৪৯। অভিযোগ রয়েছে, আমিরোন বিবি বিধবা ভাতার সরকারি টাকা তুললেও তার স্বামী এখনো জীবিত। ভাতা বইতে দেখা যায় ২০১৬ সালের জুলাই থেকে টাকা তোলা হয়েছে।

গত ২০ জুন কোটাকোল ইউপির ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর শাহানারা বেগম সহ বড়দিয়া এলাকার হিমু খান, মিলন খানসহ কয়েকজনে জেলা প্রশাসক ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন।

ওই অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, কোটাকোল ইউনিয়নের ৭ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বর মুজিবর রহমান স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বড়দিয়া গ্রামের মো. জাহের শেখের স্ত্রীর নামে নামে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা উত্তোলনের পর মেম্বর এবং ওই নারী টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।

অবশ্য এর আগে আমিরোন বিবি স্বামী জীবিত থাকতেও বিধবাভাতার টাকা উত্তোলন করছেন মর্মে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন একই এলাকার মো. লিকু মোল্লা। ওই অভিযোগে মহিলা মেম্মরকে দায়ি করা হয়।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্তের জন্য লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। স্বারক নং-১১জুন-৪৪২।

ভাতাভোগী আমিরোন বিবি বলেন, ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মোঃ মুজিবর মোল্লা ১২ হাজার টাকা নিয়ে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেছে।

স্বামী বেঁচে থাকতেও কেনো আমাকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিলেন প্রশ্নের জবাবে মেম্বর মো. মুজিবর মোল্যা বলেন, তোমরা গরীব মানুষ, ওই কার্ড করে দিছি তা সমস্যা কি। তোমরা খাও। আমিরোন বিবি কখনো কখনো বলছেন কার্ড করবার সময় মহিলা ও পুরুষ দুজন মেম্বরই ছিল।
এ বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের নিকট আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মো. লিকু মোল্লা। মো. লিকু মোল্লার স্ত্রী রিনা বেগম গত দুবারের ইউপি নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী ছিলেন। সামনে নির্বাচন তাই তারা আমাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করছেন।

৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মো. মুজিবর মোল্লা ভাতাভোগী আমিরোন বিবির স্বামী জাহের শেখ এখনো জীবিত স্বীকার করে বলেন, আমি কার্ড করে দিতে কোন টাকা নেইনি। কখনো আবার বলছেন, আমিরোনের ওই কার্ড আমি করিনি।

ওই এলাকার নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক লোকে অভিযোগ করেন, কোটাকোল ইউনিয়নে বিধবা বা বয়স্ক ভাতার অনেক ভুয়া কার্ড রয়েছে। চেয়ারম্যান ওই সব ভুয়া কার্ডের ব্যাপারে অবগত থাকলেও নিজে সুবিধা নিয়ে চুপ থাকেন।

কোটকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারিয়া হোসেন বলেন, ভুয়া ভাতা কার্ডের বিষয়টি শুনেছি। সাধারণত মেম্বররাই ওই সব কার্ড করে দেয়। আমি এসব ব্যাপারে কারো কাছ থেকেই কোন সুবিধা নেই না।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছি।

লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শামীম রেজা বলেন, ভাতা বই জব্দ করেছি। তদন্ত চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

স্বামী জীবিত থাকতে ও তাকে মৃত দেখিয়ে বিধবাভাতা উত্তোলন করছেন স্ত্রী। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:১৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:: স্বামী জীবিত থাকতে ও তাকে মৃত দেখিয়ে বিধবাভাতা উত্তোলন করছেন স্ত্রী। এভাবেই ২০১৬ সাল থেকে চলছে সরকারি টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনা।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ১০ নং কোটাকোল ইউনিয়নের বড়দিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ওই ভুয়া ভাতাভোগী প্রতি মাসে পাঁচশত টাকা করে পান। সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বর শাহানারা বেগম অভিযোগ করেন, ১২ হাজার টাকা নিয়ে আমিরোন বিবির নামে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন মেম্বর মোঃ মুজিবর মোল্লা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগে জানা গেছে, ১০ নং কোটাকোল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহের শেখ (৬৫) এর স্ত্রী আমিরোন বিবি।

লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিস ২০১৭ সালের ২০ আগষ্ট আমিরোন বিবির নামে বিধবা ভাতার কার্ড ইস্যু করেন। কার্ড নং- ২৭৯/১৭। ওই কার্ডের বিপরীতে সোনালী ব্যাংক মহাজন শাখার হিসাব নং-০১০১১৬৪৯। অভিযোগ রয়েছে, আমিরোন বিবি বিধবা ভাতার সরকারি টাকা তুললেও তার স্বামী এখনো জীবিত। ভাতা বইতে দেখা যায় ২০১৬ সালের জুলাই থেকে টাকা তোলা হয়েছে।

গত ২০ জুন কোটাকোল ইউপির ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর শাহানারা বেগম সহ বড়দিয়া এলাকার হিমু খান, মিলন খানসহ কয়েকজনে জেলা প্রশাসক ও লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন।

ওই অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, কোটাকোল ইউনিয়নের ৭ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বর মুজিবর রহমান স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বড়দিয়া গ্রামের মো. জাহের শেখের স্ত্রীর নামে নামে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিয়েছেন। ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা উত্তোলনের পর মেম্বর এবং ওই নারী টাকা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।

অবশ্য এর আগে আমিরোন বিবি স্বামী জীবিত থাকতেও বিধবাভাতার টাকা উত্তোলন করছেন মর্মে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন একই এলাকার মো. লিকু মোল্লা। ওই অভিযোগে মহিলা মেম্মরকে দায়ি করা হয়।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি তদন্তের জন্য লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। স্বারক নং-১১জুন-৪৪২।

ভাতাভোগী আমিরোন বিবি বলেন, ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মোঃ মুজিবর মোল্লা ১২ হাজার টাকা নিয়ে বিধবা ভাতার কার্ড করে দেছে।

স্বামী বেঁচে থাকতেও কেনো আমাকে বিধবা ভাতার কার্ড করে দিলেন প্রশ্নের জবাবে মেম্বর মো. মুজিবর মোল্যা বলেন, তোমরা গরীব মানুষ, ওই কার্ড করে দিছি তা সমস্যা কি। তোমরা খাও। আমিরোন বিবি কখনো কখনো বলছেন কার্ড করবার সময় মহিলা ও পুরুষ দুজন মেম্বরই ছিল।
এ বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের নিকট আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মো. লিকু মোল্লা। মো. লিকু মোল্লার স্ত্রী রিনা বেগম গত দুবারের ইউপি নির্বাচনে আমার প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী ছিলেন। সামনে নির্বাচন তাই তারা আমাকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করছেন।

৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বর মো. মুজিবর মোল্লা ভাতাভোগী আমিরোন বিবির স্বামী জাহের শেখ এখনো জীবিত স্বীকার করে বলেন, আমি কার্ড করে দিতে কোন টাকা নেইনি। কখনো আবার বলছেন, আমিরোনের ওই কার্ড আমি করিনি।

ওই এলাকার নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধীক লোকে অভিযোগ করেন, কোটাকোল ইউনিয়নে বিধবা বা বয়স্ক ভাতার অনেক ভুয়া কার্ড রয়েছে। চেয়ারম্যান ওই সব ভুয়া কার্ডের ব্যাপারে অবগত থাকলেও নিজে সুবিধা নিয়ে চুপ থাকেন।

কোটকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মারিয়া হোসেন বলেন, ভুয়া ভাতা কার্ডের বিষয়টি শুনেছি। সাধারণত মেম্বররাই ওই সব কার্ড করে দেয়। আমি এসব ব্যাপারে কারো কাছ থেকেই কোন সুবিধা নেই না।

লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য সমাজসেবা অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছি।

লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শামীম রেজা বলেন, ভাতা বই জব্দ করেছি। তদন্ত চলছে।