সংবাদ শিরোনাম ::
ঘোড়াঘাটে প্রাথমিক বৃত্তি প্রাপ্ত ৭৬ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ঝালকাঠিতে ডোপ টেস্টেপজেটিভ আসায় ২ মাদকসেবী আটক মামলা তেঁতুলিয়ায় পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সংকট ছয় পদের বিপরীতে দায়িত্বে একজন জুলহাস উদ্দীন, তেঁতুলিয়ায় ড্রেজারকাণ্ডে মৃত ৫ জনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা দাবীতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ মামরা প্রত্যারের দাবী উজিরপুরে উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে দুদকে আভিযোগ চুয়াডাঙ্গায় ভোরে নামাজ পড়ে ফেরার পথে সাপে কামড়ে এক মুসুল্লির মৃত্যু অভাবের সংসারে অসমাপ্ত ঘর, রেহানার পাশে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন। বাবুগঞ্জে সালিশ বৈঠকে হামলার অভিযোগ, আহত একই পরিবারের ৩ কাঠালিয়ায় কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত ঘোড়াঘাটে মাদক সেবলের বিস্তার ৬ মাদক সেবীর কারাদন্ড উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী

গোপালগঞ্জ মানব পাচার চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ০২ জন সদস্য গ্রেফতার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

র‌্যাব-৮ কর্তৃক গোপালগঞ্জ হতে লিবিয়ায় মানব পাচার চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট
০২ জন সদস্য গ্রেফতার। গত ২৮ মে ২০২০ইং তারিখে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলির দক্ষিণ শহর মিজদায় আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র অভিবাসন প্রত্যাশিদেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ না পাওয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। বিষয়টি র‌্যাব-৮ এর নজরে আসলে র‌্যাব-৮ এর অধীনে ১১টি জেলার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মানব পাচারকারীদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতঃ দ্রæত গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ জানতে পারে যে, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করছে। উক্ত চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইতালিতে সমভাবে সক্রিয়। এদের শিকার মূলত মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সের বেকার যুবকরা। বর্ণিত চক্রটি বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে যুবকদের লিবিয়ায় পাচার করে থাকে। তৎপরবর্তীতে লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা লিবিয়ার বন্দিশালায় তাদেরকে আটক রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং উক্ত বন্দীদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদেরকে লিবিয়া হতে নৌকাযোগে অবৈধ পন্থায় ইতালিতে গমনের সুযোগ করে দেয়া হয়। ক্ষেত্র বিশেষে বন্দীপ্রতি উক্ত চক্রটি পাঁচ থেকে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করে বলে র‌্যাব জানতে পারে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকষ দল কর্তৃক গত ০৩ জুন ২০২০ তারিখ ২২০০ ঘটিকায় গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানাধীন লোহাইর গ্রাম হতে ১। মোঃ সেন্টু শিকদার(৪৫), পিতাঃ মৃত রত্তন শিকদার, সাং-লোহাইড়, থানাঃ মুকসুদপুর, জেলাঃ গোপালগঞ্জ এবং যাত্রাবাড়ী গ্রাম হতে ২। মোছাঃ নার্গিস বেগম(৪০), স্বামীঃ মোঃ আঃ রব মোড়ল, সাং-যাত্রাবাড়ী, থানাঃ মুকসুদপুর, জেলাঃ গোপালগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা উক্ত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেন এবং প্রাপ্ত গোপন তথ্য সমূহের সত্যতা পাওয়া যায়। বর্ণিত চক্রের লিবিয়া অংশের অন্যতম প্রধান ১। মোঃ বশির শিকদার (ধৃত ১নং আসামী সেন্টু শিকদারের ভাই) ও ২। মোঃ সেলিম শেখ(৩৫)। চক্রটি লিবিয়া প্রবাসী ১। মোঃ বশির শিকদার(৩৫) ও মোঃ সেলিম শেখ(৩৫) এর নেতৃত্বে লিবিয়ার বন্দীশালায় পাচারকৃত বাংলাদেশি যুবকদেরকে অর্ধাহারে-অনাহারে রেখে নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং গ্রেফতারকৃত ১। মোঃ সেন্টু শিকদার(৪৫) ২। মোছাঃ নার্গিস বেগম(৪০)সহ বাংলাদেশে অবস্থানরত পাচারকারীরা ভিকটিমদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে। গ্রেফতারকৃত আসামী এবং পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ মোতাবেক মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাম্প্রতিককালে মানব পাচারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর গভীর নজরদারী রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে মানব পাচার চক্রের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতারে র‌্যাব-৮ এর অপারেশন তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

গোপালগঞ্জ মানব পাচার চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ০২ জন সদস্য গ্রেফতার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:২২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০

র‌্যাব-৮ কর্তৃক গোপালগঞ্জ হতে লিবিয়ায় মানব পাচার চক্রের সাথে সংশ্লিষ্ট
০২ জন সদস্য গ্রেফতার। গত ২৮ মে ২০২০ইং তারিখে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলির দক্ষিণ শহর মিজদায় আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র অভিবাসন প্রত্যাশিদেরকে অপহরণ করে মুক্তিপণ না পাওয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিসহ ৩০ জনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। বিষয়টি র‌্যাব-৮ এর নজরে আসলে র‌্যাব-৮ এর অধীনে ১১টি জেলার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মানব পাচারকারীদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতঃ দ্রæত গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ জানতে পারে যে, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারী চক্র ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মোটা অংকের বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার করছে। উক্ত চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ, লিবিয়া ও ইতালিতে সমভাবে সক্রিয়। এদের শিকার মূলত মধ্যবিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সের বেকার যুবকরা। বর্ণিত চক্রটি বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে যুবকদের লিবিয়ায় পাচার করে থাকে। তৎপরবর্তীতে লিবিয়ায় অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা লিবিয়ার বন্দিশালায় তাদেরকে আটক রেখে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে এবং উক্ত বন্দীদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করে। টাকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে তাদেরকে লিবিয়া হতে নৌকাযোগে অবৈধ পন্থায় ইতালিতে গমনের সুযোগ করে দেয়া হয়। ক্ষেত্র বিশেষে বন্দীপ্রতি উক্ত চক্রটি পাঁচ থেকে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করে বলে র‌্যাব জানতে পারে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ এর একটি চৌকষ দল কর্তৃক গত ০৩ জুন ২০২০ তারিখ ২২০০ ঘটিকায় গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানাধীন লোহাইর গ্রাম হতে ১। মোঃ সেন্টু শিকদার(৪৫), পিতাঃ মৃত রত্তন শিকদার, সাং-লোহাইড়, থানাঃ মুকসুদপুর, জেলাঃ গোপালগঞ্জ এবং যাত্রাবাড়ী গ্রাম হতে ২। মোছাঃ নার্গিস বেগম(৪০), স্বামীঃ মোঃ আঃ রব মোড়ল, সাং-যাত্রাবাড়ী, থানাঃ মুকসুদপুর, জেলাঃ গোপালগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা উক্ত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেন এবং প্রাপ্ত গোপন তথ্য সমূহের সত্যতা পাওয়া যায়। বর্ণিত চক্রের লিবিয়া অংশের অন্যতম প্রধান ১। মোঃ বশির শিকদার (ধৃত ১নং আসামী সেন্টু শিকদারের ভাই) ও ২। মোঃ সেলিম শেখ(৩৫)। চক্রটি লিবিয়া প্রবাসী ১। মোঃ বশির শিকদার(৩৫) ও মোঃ সেলিম শেখ(৩৫) এর নেতৃত্বে লিবিয়ার বন্দীশালায় পাচারকৃত বাংলাদেশি যুবকদেরকে অর্ধাহারে-অনাহারে রেখে নানাবিধ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং গ্রেফতারকৃত ১। মোঃ সেন্টু শিকদার(৪৫) ২। মোছাঃ নার্গিস বেগম(৪০)সহ বাংলাদেশে অবস্থানরত পাচারকারীরা ভিকটিমদের নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে। গ্রেফতারকৃত আসামী এবং পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ মোতাবেক মামলা দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাম্প্রতিককালে মানব পাচারের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপর গভীর নজরদারী রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের উপর ভিত্তি করে মানব পাচার চক্রের অন্যান্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতারে র‌্যাব-৮ এর অপারেশন তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।