বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

Notice :
প্রকাশ্যে ধূমপান করে তোপের মুখেপড়া এক তরুণীর ভিডিও ভাইরাল।চরমোনাই পীরের ওয়াজ মাহফিল বাতিল।বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যেন পদ্মা সেতু পার না হয় বললেন শাজাহান খান।জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভাতাপ্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার বয়স ৫০–এর নিচে।করোনা আক্রান্ত কনের অভিনব পদ্ধতিতে বিয়ে (ভিডিও)আবাসিক হোটেলে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ।পুলিশে হঠাৎ বড় রদবদল।ইউটিউবে যাত্রা শুরু করছেন মিজানুর রহমান আজহারী।
সর্বশেষ সংবাদ :
চরমোনাই’র মাহফিল শুরু’ মুসুল্লিদের ঢল। আজকের ক্রাইম-নিউজ পিরোজপুরে মসজিদের পাইলিং টাওয়ার নিচে পড়ে শ্রমিক নিহত। আজকের ক্রাইম-নিউজ কন্যা সন্তান বোঝা নয়, আশীর্বাদ”- পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা। আজকের ক্রাইম-নিউজ জাপা রাজনীতির মাঠে পরগাছা হয়ে থাকবে না : জিএম কাদের। আজকের ক্রাইম-নিউজ নাসিরের স্ত্রী তামিমার তালাকনামা প্রকাশ। আজকের ক্রাইম-নিউজ রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত। আজকের ক্রাইম-নিউজ নতুন প্রজন্মের প্রথম ভোট উন্নয়ন এর মার্কা নৌকায় হোক রাজিহার স্মার্ট কার্ড বিতরণ। আজকের ক্রাইম-নিউজ ৮ ব্যাংকে অফিসার পদে ২৪৭৮ জনের চাকরির সুযোগ। আজকের ক্রাইম-নিউজ এবার সায়েন্সল্যাব মোড়ও বন্ধ করে দিলেন শিক্ষার্থীরা। আজকের ক্রাইম-নিউজ টিকা নিলেন শেখ রেহানা। আজকের ক্রাইম-নিউজ
বানারীপাড়ায় চার বছর ধরে ১৪ হতদরিদ্র’র চাল ৩ ইউপি সদস্যের পেটে! আজকের ক্রাইম-নিউজ

বানারীপাড়ায় চার বছর ধরে ১৪ হতদরিদ্র’র চাল ৩ ইউপি সদস্যের পেটে! আজকের ক্রাইম-নিউজ

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি॥
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়ন পরিষদের তিন ইউপি সদস্যের
বিরুদ্ধে হতদরিদ্র ১৪ জনের স্বাক্ষর জাল করে ৪ বছর ধরে খাদ্যবান্ধব
কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বঞ্চিত ওই ১৪ ভুক্তভোগীর অভিযোগ
শুধু চাল নয়,খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম ও কার্ড থাকার পরেও নগদ
সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন । বঞ্চিতরা ওই তিন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে
শাস্তি দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ
আব্দুল্লাহ সাদীদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন
(দুদক) বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়েও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। চাল ও
নগদ সহায়তা থেকে বঞ্চিতরা হলেন, উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের ইউনিয়নের ১ নং
ওয়ার্ডের ইলুহার গ্রামের দিনমজুর (কার্ড নং ৫৭) মো. মনিরুল, দিনমজুর
(কার্ড নং ৬১) সাহাদাত হোসেন দিনমজুর (কার্ড নং ৫৩) মো. মজিবর,৭ নং
ওয়ার্ডের মলুহার গ্রামের দিনমজুর (কার্ড নং ৮১২) আব্দুল মজিদ, দিনমজুর
(কার্ড নম্বর ৮৫২) মো. সুলতান, কৃষক (কার্ড নং ৮১৭) জাকির হোসেন, দিনমজুর
(কার্ড নং ৮৬৩) আব্দুছ ছালাম, কৃষক (কার্ড নং ৮৬৭) মেজবা উদ্দিন, দিনমজুর
(কার্ড নং ৮৭২) মো. মাসুম, দিনমজুর (কার্ড নং ৮৬৬) মো. ফজলু, মেকার
জহিরুল,৯ নং ওয়ার্ডের মলুহার গ্রামের দিনমজুর (কার্ড নং ১০৬৭) আনোয়ার
হোসেন,ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী (কার্ড নং ১১১৩) মো. তারিক, দিনমজুর (কার্ড নং
১০৪৪) ইসরাত জাহান। আত্মসাতকারী অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের
১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম,৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম, ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য
ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু ।ভুক্তোভোগীরা
লিখিত অভিযোগে বলেন, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চাল দেয়ার কথা
বলে ওই তিন ইউপি সদস্য ২০১৬ সালে তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের
ফটোকপি নেন। তবে ২০২০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত এক মুঠো চালও পাননি তারা।
কার্ডটিও তারা চোখে দেখেননি। করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার দরিদ্রদের নগদ
সহায়তা দেবে এমন খবর জানতে পেরে ঈদ উল ফিতরের আগে তারা ইউনিয়ন পরিষদে
যোগাযোগ করেন। তখন জানতে পারেন তাদের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড
নম্বর রয়েছে। সেই কার্ডের বিপরীতে নিয়মিত চালও তোলা হয়েছে। অথচ তারা
কিছুই জানেন না। ভুক্তোভোগীরা লিখিত অভিযোগে আরও বলেন, ওয়ার্ডের ডিলার
মো. ইয়াছিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানান, ইউপি সদস্য আবুল কালাম
অভিযোগকারীদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের ৩ জনসহ ১২ জনের চাল উঠিয়ে নিয়েছেন।
এছাড়া কার্ডগুলো ইউপি সদস্য আবুল কালামের কাছে আছে। বিষয়টি জানাজানি হলে
ইউপি সদস্য আবুল কালাম অভিযোগকারীদের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের ৩ জনের কার্ড
ফেরত দেন। কার্ডগুলোতে দেখা যায় ২০১৬ সাল থেকে মোট ১৭ বার স্বাক্ষর জাল
করে প্রতি কার্ডের মাধ্যমে ৩০ কেজি করে ৫১০ কেজি চাল উত্তোলন করে
আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের এসব অনিয়ম জানাজানি হলে
আরও দু’টি ওয়ার্ডের চাল অত্মসাতের বিষয়টি বেরিয়ে আসে। একইভাবে ৭ নং
ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম ৮ জনের ও ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য
সিরাজুল ইসলাম মন্টু ৩ জনের চাল আত্মসাৎ করেছেন। ওই তিন ওয়ার্ডে ১৪ জন
দরিদ্রের ৫১০ কেজি করে ৭ হাজার ১৪০ কেজি চাল তিন ইউপি সদস্য আত্মসাৎ
করেছেন। সরকারি হিসেবে ১০ টাকা কেজি দরে যার মূল্য ৭ লাখ এক হাজার ৪ শত
টাকা। তবে ওই চালের বাজার মূল্য এর তিন গুনেরও বেশী। লিখিত অভিযোগে তারা
আরও অভিযোগ, ইলুহার ইউনিয়নে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির তালিকায় হতদরিদ্র
মানুষের নাম থাকার কথা থাকলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে
অস্তিত্বহীন ও গোপন রেখে অন্তত শতাধিক ব্যক্তির নাম স্থান পেয়েছে।
কার্ডের মাধ্যমে তাদের নামে চাল তুলে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ অবস্থায় ১৪
জনের কার্ডের বিপরীতে আত্মসাৎকৃত চাল ফেরত পেতে এবং চাল আত্মসাৎকারীর
বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত অভিযোগে তারা অনুরোধ করেন।
পাশাপাশি চাল না পেলেও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম ও কার্ড থাকায়
নগদ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। তারা জানান গত
সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে তাদের বঞ্চনার কথা তুলে
ধরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এছাড়া লিখিত অভিযোগের অনুলিপি বরিশাল জেলা
প্রশাসকের কার্যালয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডাকযোগে পৃথকভাবে দুর্নীতি দমন
কমিশন (দুদক) বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে
ওই ইউনিয়নের জনতা বাজারের ডিলার মো. ইয়াছিন বলেন, ঢালাওভাবে চাল না
দেয়ার অভিযোগ সঠিক না। যে কার্ড নিয়ে এসেছে তাকে চাল দেয়া হয়েছে। যাদের
কার্ড হারিয়েছে তাদের চালও কেউ না কেউ এসে তুলে নিয়ে গেছেন। একবার ১ নং
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদ ও স্থানীয় রব আমীন ১২ জনের
কার্ডের চাল তুলে নিয়ে গেছেন। চাল আত্মসাৎ প্রসঙ্গে ইলুহার ইউনিয়নের ১ নং
ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, তার ওয়ার্ডের ৩টি কার্ড ডিলার
ইয়াছিন হারিয়ে ফেলেছিল। এ কারণে তাদের চাল উত্তোলনে সমস্যা দেখা দেয়।
এরপরও তাদের চাল দেয়া হয়েছে। ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী
লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন, যারা এখন বলছেন চাল পাননি
তাদের বিগত সময়ে কার্ডের মাধ্যমে চাল নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা চাল
তোলেননি। তাদের গাফিলতির কারণেই তারা চাল পাননি। ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মন্টু বলেন, তালিকা
তৈরির পর ডিলার বা উপকারভোগীর কাছে কার্ড থাকার কথা। কিন্তু শুনেছি অনেকে
সেই কার্ড রক্ষণাবেক্ষণ করেননি। এসব কারণে হয়ত দু’একজন সময়মতো চাল পাননি।
বিষয়টি ডিলার ও উপকারভোগীরা ভালো বলতে পারবেন। এ প্রসঙ্গে ইলুহার ইউনিয়ন
পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহিদুল
ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে চালের দাম ও চাহিদা বেড়েছে। কিন্ত
চালের দাম যখন কম ছিল অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। কার্ড থাকা সত্ত্বেও
তারা চাল উত্তোলন করেননি। এখন তারাই এ ধরনের অভিযোগ তুলছেন। এ বিষয়ে
বানরীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান, লিখিত
অভিযোগ হাতে পেয়েছি। এ ব্যপারে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে। ###

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019
Bengali English