রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:০৯ অপরাহ্ন

Notice :
প্রকাশ্যে ধূমপান করে তোপের মুখেপড়া এক তরুণীর ভিডিও ভাইরাল।চরমোনাই পীরের ওয়াজ মাহফিল বাতিল।বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যেন পদ্মা সেতু পার না হয় বললেন শাজাহান খান।জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভাতাপ্রাপ্ত প্রায় দুই হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার বয়স ৫০–এর নিচে।করোনা আক্রান্ত কনের অভিনব পদ্ধতিতে বিয়ে (ভিডিও)আবাসিক হোটেলে জনপ্রিয় অভিনেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ।পুলিশে হঠাৎ বড় রদবদল।ইউটিউবে যাত্রা শুরু করছেন মিজানুর রহমান আজহারী।
সর্বশেষ সংবাদ :
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন)বরিশাল মোঃ নাইমুল হক এর পুলিশ সুপার(এস পি) হিসেবে পদোন্নতি। আজকের ক্রাইম-নিউজ বিয়ের জন্য চাপ, প্রেমিকাকে মেরে পুঁতে রাখল প্রেমিক! আজকের ক্রাইম-নিউজ নলছিটি থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ মোঃ আলী আহমেদ। আজকের ক্রাইম-নিউজ ঢাকাগামী লঞ্চের ধাক্কায় নারী যাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন। আজকের ক্রাইম-নিউজ নৌকার চেয়ে ৯ গুণ বেশি ভোটে জয়ী ধানের শীষ প্রার্থী। আজকের ক্রাইম-নিউজ বিয়ে না করে বেঁচে গেছি: সালমান খান। আজকের ক্রাইম-নিউজ বরিশালে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ গেল বাবা-ছেলের। আজকের ক্রাইম-নিউজ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরকে কুপিয়ে হত্যা। আজকের ক্রাইম-নিউজ ছাত্রলীগ নেতার এ কী কাণ্ড: টাকা ভাংতি না পেয়ে ভাঙলেন দোকান! আজকের ক্রাইম-নিউজ এখন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধী শক্তি বলা হচ্ছে : আসিফ নজরুল। আজকের ক্রাইম-নিউজ
মহেশপুরে বোনের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে ভাইয়েরা। আজকের ক্রাইম নিউজ

মহেশপুরে বোনের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে ভাইয়েরা। আজকের ক্রাইম নিউজ

সেলিম রেজা,মহেশপুর(ঝিনাইদহ)প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড় ইউপির রায়পুর ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত সামসুল হক মিস্ত্রীর কন্যা নাজমা খাতুনের নিজ জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করার অভিযোগ পাওয়াগেছে তার নিজ ভাই,ভগ্নিপতি ও ভাইয়ের ছেলের বিরুদ্ধে।

এই বিষয়ে নাজমা খাতুন বাদী হয়ে মহেশপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন,সেই মামলার অভিযুক্ত আসামিগন হলেন,উপজেলার কাজিরবেড় ইউপির রায়পুর ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত সামসুল হক মিস্ত্রীর পুত্র ১/সিরাজুল ইসলাম,কাছেদ আলীরপুত্র ২/আব্দুল আলিম,মৃত সামসুল হক মিস্ত্রীর পুত্র ৩/জালাল উদ্দীন,মৃত সামসুল হক মিস্ত্রীর পুত্র ৪/নজরুল ইসলাম,নুর আলম এর পুত্র ৫/আয়নাল হক,জালাল উদ্দিনের পুত্র ৬/সবুজ মিয়া।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলে সরোজমিনে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জহির উদ্দীন ও শতশত এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়,
নাজমা খাতুন তার বাবা-মায়ের সাথে বসবাস করত পরবর্তীতে তার পিতা মারা যাওয়ার পর লেখাপড়া করার পাশাপাশি একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করে তার উপার্জিত অর্থ দিয়ে মায়ের দেখাশোনা করত। একাধিক ভাই থাকলেও তার মাকে কেউ দেখাশোনা করতো না। যে কারণে নাজমা খাতুনের মা জীবিত থাকাকালীন প্রাপ্ত সম্পত্তি যার দলিল নং ৮৫৬,তারিখ-১৮-১০-২০১০ইং ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানাধীন পলিয়ানপুর ১৫নং মৌজার খতিয়ান নং-এসএ ১৫৩,হালদাগ নং-১২৬৭,দাগনং এসএ-২৬৫১ ও ২৬৫২,হালদাগনং-৪২৩৭,এর ৩৩৯ শতক জমির মধ্যথেকে ৩৬ শতক জমি ও যার দলিল নং- ৮৫৫,তারিখ- ১৮-১-২০১০ইং থানাধীন পলিয়ানপুর ১৫নং মৌজার খতিয়ান নং-আরএস হাল ১৪১৩,দাগনং এসএ-২৬৪৯ ও ২৬৫০,হালদাগনং-৪২৩৬ এর ২৩ শতক জমির মধ্যে থেকে ৬ শতক জমি এবং দলিল নং-৭২৬৫,তারিখ- ১৭-১০-১৭ইং থানাধীন ছয়ঘরিয়া মৌজার জেএলনং-১৬,খতিয়ান এর এস-২০৪,দাগনং-৩৯৯ এর ২২ শতক এর মধ্যে ৪ শতক জমি(বসত বাড়ীর জমি ও চাষের জমি)সর্বমোট ৪৬ শতক জমি নাজমা খাতুনের নামে তার মা রেজিষ্ট্রি করে দেয়। তখন থেকেই উক্ত জমি নাজমা খাতুনের দখলে থাকে। যার দলিল নং-৮৫৬,৮৫৫ ও ৭২৬৫।

এরপর থেকে নাজমা খাতুন লেখাপড়া শেষ করার পর ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি পায়, চাকরিসূত্রে সে ঢাকায় অবস্থান করে মাঝেমধ্যে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসত,এবং নিজের জমি দেখাশোনা করত। নাজমা খাতুন চাকুরির টাকা দিয়ে তার মায়ের সংসার খরচ চালাত। নাজমা খাতুন এর ভাইয়েরা তার মায়ের সংসার খরচের টাকা দিত না।চাকুরির চাপে একপর্যায়ে নাজমা খাতুনের বাড়িতে যাওয়া আরো কমে যায়,যে কারণে নাজমা খাতুন তার উপর উল্লেখিত জমি তার আপন ভাই অত্র মামলার ১নং সাক্ষী মনিরুল ইসলামকে দেখাশোনা ও চাষাবাদ এর দায়িত্ব অর্পণ করেন। মামলার এক নং সাক্ষী মনিরুল ইসলাম তার বোনের অর্থাৎ নাজমা খাতুন এর জমি দেখাশোনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মনিরুল ইসলাম এর অন্যান্য ভাই ভগ্নিপতি ও ভাইয়ের ছেলেদের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
উক্ত মামলা চলাকালীন নাজমা খাতুন এর মা ইন্তেকাল করেন।
বিরোধের জের ধরে এক পর্যায়ে নাজমা খাতুন এর ৩ ভাই মামলার আসামি নাজমা খাতুনের বসতবাড়ীর ৪শতক জমি জোরপূর্বক দখলকরে তাদের ভগ্নিপতি মামলার ২নং আসামির দখলে দেয়।পরে নাজমা খাতুনের ঘরের আসবাবপত্র,ফ্রিজসহ সাংসারিক সকল জিনিসপত্র ২নং আসামী দখল করে নেয়। নাজমা খাতুন মাঝেমধ্যে কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসলে মামলার আসামিগন নাজমা খাতুন কে তার বাড়িতে উঠতে দিত না। উক্ত বিরোধ নিয়ে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।গত ২৬-৩-২০১৮ইং তারিখে নাজমা খাতুন ছুটি নিয়ে মামলার এক নং সাক্ষী তার ভাই মনিরুল ইসলামের উপস্থিতিতে তার বাড়িতে গেলে আসামীগণ নাজমা খাতুন ও তার ভাই সাক্ষী মনিরুল ইসলাম কে মারধর করে ও সাধারন জখম করে।এবং বাড়ী থেকে বের করে দেয়।উক্ত আসামিগন নাজমা খাতুন ও ১ নং সাক্ষী কে হুমকি প্রদান করে বলে এই জমিতে পা রাখলে তোদেরকে খুন করে ফেলবো।উক্ত বিষয় নিয়ে নাজমা খাতুন গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট মীমাংসার কথা বল্লে,তারা তখন নাজমা খাতুন কে জানায় যে,তোমার ভাইয়েরা খারাপ প্রকৃতির লোক, তাদের আমরা কিছু বলতে পারবো না। তারপর নাজমা তার কর্মস্থলে ঢাকায় চলে যায়। এরপর গত ৩০-৫-২০১৮ইং তারিখে মামলার ১নং আসামীর নেতৃত্বে অন্য আসামীগন বেআইনি ভাবে দলবদ্ধ হয়ে ১৮-৮-২০১০ইং তারিখে নাজমা খাতুন এর জমিতে থাকা ৭০ হাজার টাকা মূল্যের মেহগনি গাছ ও ১০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বাবলা গাছ কাটতে থাকে। উক্ত গাছ কাটার সংবাদ পেয়ে মামলার ১নং সাক্ষী দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় তারপর বিবাদীদের গাছ কাটতে নিষেধ করলে ১নং সাক্ষী মনিরুল কে খুন করে লাশ ইছামতি নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।১ নং সাক্ষী মামলার ৫নং বিবাদীকে চোরাই গাছ ক্রয় করতে নিষেধ করে।৫নং বিবাদী ১নং সাক্ষী কে বলে আমি গাছ ক্রয় করব আপনার ক্ষমতা থাকলে বাধা দেন।স্বল্প মূল্যে অসাধুভাবে চোরাই গাছ ক্রয় করে বিবাদীগন।
নাজমা খাতুন এর গাছ কাটার সময় উক্ত মাঠে কাজ করা একাধিক লোকজন বাঁধা দিলে তাদেরকেও বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে বিবাদীগন।
নাজমার জমির পশ্চিম পাশের জমির মালিক লুৎফর রহমান গাছ কাটায় বাধা দিলে তাকেও হুমকি প্রদান করে।
তারা নাজমার জমির ওপর রোপনকৃত গাছ কেটে আনুমানিক ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি করে। এলাকাবাসী জানান,নাজমার ভাইয়েরা খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক,তাদের ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেনা।
বর্তমানে উক্ত মামলার আসামিগং এর ভয়ে নাজমা খাতুন এর ভাই ১নং সাক্ষী মনিরুল ইসলাম নাজমা খাতুন এর জমি দেখাশোনা করার দায়ে তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করছে ও জমিতে চাষাবাদ করতে বাধা প্রদান করছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী নাজমা খাতুন ও তার ভাই মনিরুল ইসলাম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন যে দ্রুত যেন এই বিষয়টি সমাধান করে তাকে তার ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জহির উদ্দিন জানান, প্রকৃতপক্ষে জমির মালিক নাজমা খাতুন,তার ভাইয়েরা জোরপূর্বক তার কাছ থেকে জমি ছিনিয়ে নেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরে আমরা এর মীমাংসা করতে চাইলে তার ভাইয়েরা আমাদের কথা মানে না।এ বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং পুলিশ মামলার তদন্ত ও চালাচ্ছে। উল্লেখ্য থাকে যে মামলার একাধীক আসামী মাদকের সঙ্গে জড়িত ও তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী নাজমা খাতুন,সাক্ষী তার ভাই মনিরুল ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন,দ্রুত যেন এইসব জোর পূর্বকজমি দখলকারী মাদক মামলার আসামিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2019
Bengali English