চালকের অভাবে এ্যাম্বুলেন্স গ্যারেজে তেঁতুলিয়া হাসপাতালের রোগী বহনে দূভোর্গ
- আপডেট সময় : ১১:২৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জুন ২০২৩ ১৮ বার পড়া হয়েছে

জাবেদুর রহমান জাবেদ, তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধিঃ তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি এ্যাম্বুলেন্সটি চালকের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে বন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে। জটিল বা দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র বহনে চরম দূভোর্গ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে।
জানাযায়, হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল মজিদ বাবু ক্যান্সার জনিত রোরেগ আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরে জুলাই মাসে মারা যান। তার মৃত্যুর পর এ্যাম্বুলেন্সটি চালকের অভাবেই দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে গ্যারেজে পড়ে আছে। এ্যাম্বুলেন্সটি চালু না থাকায় হাসপাতালের অনেক জটিল ও কঠিন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জনসাধারণ পঞ্চগড় বা ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে নিতে পারছে না। এদিকে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সটি বন্ধ থাকায় লক্কর-ঝক্কর মাইক্রোবাস নামক সাঁজানো বেসরকারিভাবে এ্যাম্বুলেন্সগুলো রোগী বহনে বাড়তি ভাড়া চাপিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া এসব এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দূরবর্তী হাসপাতালে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে মাঝপথে গাড়ী নষ্টসহ রোগীর স্বজনদের নানারকম দূভোর্গের স্বীকার হতে হয়। হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানাযায়, এ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল মজিদ বাবুয়া হাসপাতালে কর্মরত থাকাবস্থায় ২০২২ সালে জুন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪৭ জন রোগী বহন করেছেন। এ হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ২৪ ঘন্টায় ৯৫ জনের অধিক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আধুনিক সদর হাসপাতাল পঞ্চগড় বা ঠাকুরগাঁও নিয়ে গেছেন। তার মৃত্যুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার ব্যাক্তিগত জিপগাড়ী চালককে দিয়ে মাঝে মধ্যে এ্যাম্বুলেন্সটি চালানো হতো এবং ২০২৩ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ৫৪ জন রোগী বহন করা হয়েছে। কিন্তু বিধি অনুযায়ী জিপগাড়ী চালককে দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স চালানোর কোন পরিপত্র না থাকায় কর্তৃপক্ষ চালকের অভাবে তা গ্যারেজ বন্দি করে রেখেছে। এদিকে গাড়ীটি দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে বন্দি থাকায় ইঞ্জিন বিকল হওয়াসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। অন্যদিকে জনসাধারণের দূভোর্গের পাশাপাশি সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এব্যাপারে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আলী এহসান বলেন, সরকারি এ্যাম্বুলেন্স চালকের মৃত্যুর পর চালকের অভাবে গাড়ীটি গ্যারেজে রাখা হয়েছে। অত্র হাসপাতালে জরুরীভিত্তিতে এ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পঞ্চগড় সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পত্র পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের মৃত্যুর পর গাড়ীটি গ্যারেজে পড়ে আছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ্যাম্বুলেন্সটি জরুরী ভিত্তিতে চালুর ব্যবস্থা করা হবে।


























