বাবুগঞ্জে পরীক্ষার খাতা না দেখানোর অপরাধে সহপাঠিরা পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দিল সহপাঠির
- আপডেট সময় : ১০:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০২৩ ১৭ বার পড়া হয়েছে

বাবুগঞ্জ(বরিশাল)প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার খাতা সহপাঠিকে না দেখানোর অপরাধে কে কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোঃ সিহাব আহম্মেদ নামে পরীক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে সহপাঠীরা । এসময় পরীক্ষার্থী মোঃ সিহাবের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী ধাওয়া করে মাহিন নামে এক ছাত্রকে ধরে বিমান বন্দর থানা পুলিশের কাছে সোর্পাদ করেছে। আহত মোঃ সিহাব আহম্মেদকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনাটি ঘটেছে রোববার ২টায় চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা নামক এলাকায়। অহত মোঃ সিহাব আহম্মেদ বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠী কাজল খা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন স্বপনের ছেলে ।
আহত পরীক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে মোঃ সিহাব আহম্মেদ বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। পরীক্ষা শুরু থেকে বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একই কেদ্রে চাঁদপাশা হাইস্কুল এ্যান্ড কলেজের পরীক্ষার্থী মোঃ মুন্না সিহাবের খাতা দেখার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছে। সকল পরীক্ষায় তাকে খাতা দেখিয়ে সাহায্য করলেও রোববার রশায়ন ও পদার্থ বিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় সহযোগিতা না করায় বাড়ি ফেরার পথে বটতলা নামক স্থানে পৌছলে তার পথ গতিরোধ করে মোঃ মুন্না, মোঃ সোলায়মান ও মোঃ মাহিনসহ আরো অনেকে তাকে লোহার রড় দিয়ে পিয়ে গুরুতর জখম করে এতে তার হাত ভেঙে যায়।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা মোঃ ইকবাল আহমেদ স্বপন মাস্টার বলেন, আমার ছেলে ও আমার বোনের ছেলে বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রের একই কক্ষে চাঁদপাশা হাইস্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাও পরিক্ষা দিচ্ছে। একই কক্ষে পাশাপাশি বসায় ওরা আমার ছেলেকে খাতা দেখাতে বললে আমার ছেলে নিষেধ করে। পরে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বটতলা নামক স্থানে পৌঁছলে ওরা আমার ছেলে, আমার বোন ও ভাগিনাকে মারধর করে। স্থানীয়রা ধাওয়া করলে সবাই পালিয়ে গেলেও একজন কে স্থানীয়রা আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে আমি ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ এসে আটককৃত কে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। ওদের হামলার ঘটনায় আমার ছেলের হাত ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়। বর্তমানে আমার ছেলে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানাচ্ছি।
আহত পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে বটতলা নামক স্থানে পৌঁছালে অটোভ্যান থেকে নামিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।’
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পক্ষের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সিহাবের পিতা সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন স্বপন জানান বিমান বন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এয়ারপোর্ট থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ হেলাল উদ্দিন জানান এ ঘটনায় কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























