দিনাজপুরে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৪:৫৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৩ ১৭ বার পড়া হয়েছে
শফিকুল ইসলাম দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুরে বোরো মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা যেসব ক্ষেতের ধান তুলনামূলক বেশি পেকেছে সেইসব ক্ষেতের ধান আগে কাটছেন চাষিরা।
বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বোরো চাষি রায়হান মন্ডল বলেন, এইবার বোরো মৌসুমে আমি প্রায় ২১ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছি। এর মধ্যে ৫ বিঘা জমির ধানে পাক ধরেছে। শুক্রবার সকাল থেকে মাঠে ধান কাটার শ্রমিক লাগানো হয়েছে।এবছর আবহাওয়া ভালো থাকায় গতবারের চেয়ে এ বছর ধানের ফলন অনেক ভালো।
তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান কাটতে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আমার সব ক্ষেতের ধান কাটা ও মাড়াই শেষ হবে। আশা করছি প্রতি বিঘা জমি থেকে ২৫ থেকে ২৬ মণ করে ধান ঘরে তুলতে পারব।
আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার মেশিন দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করায় এবার শ্রমিক সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
বিরামপুর কৃষি অফিসার ফিরোজ আহমেদ বলেন, উপজেলায় এবার ১৬ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। গতবারের চেয়ে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। ৯৭ হাজার মেট্রিক টন ধান ঘরে তুলতে পারবেন কৃষকরা।
তিনি আরও বলেন, এবার ধান কাটা শ্রমিক সংকট হবে না। উপজেলায় ছোট-বড় ৫টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও ৭টি রিপার মেশিন দিয়ে বোরো চাষিরা ধান কাটা ও মাড়াই করছেন।
হাকিমপুর উপজেলার কৃষক মাহাবুর রহমান বলেন, আমি এইবার ৩ বিঘা জমিতে ইরি ধান লাগাইছি। মাঠে সবার চেয়ে আমার ধান ভালো হয়ছে। একবেলা খাওয়ায়ে ছয় জনকে ৩০০০ টাকা বিঘা চুক্তি নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছি। আল্লা দিলে ভালোই ধান ঘরত তুলমু এবার।”
হাকিমপুর কৃষি অফিসার বলেন, উপজেলার বেশির ভাগ মাঠে ধান কাটা শুরু করেছেন বোরো চাষিরা। এবার উপজেলায় ৭২৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। ৩০ হাজার ৩১২ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধান ক্ষেতে কোন ধানের রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হয়নি। ধানক্ষেতে কম্বাইন্ড হারভেস্টরের মাধ্যমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এতে করে শ্রমিক সংকট হবে না এবং অল্প ব্যয়ে, স্বল্প সময়ে কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের কৃষি উপ-পরিচালক বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এইবার শ্রমিক সংকট দেখা দিতে পারে তাই কৃষকের মাঝে কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণ করা হয়েছে।
রংপুর থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিক সরদার দুলাল মিয়া বলেন, প্রতি বছর আমরা হাকিমপুর হিলিতে ধান কাটতে আসি। এইবারও ২১ জন মিলে হাকিমপুর উপজেলার বেল খুরিয়া গ্রামের গোলাপ হোসেনের প্রায় ৩০বিঘা জমির ধান কাটার চুক্তি নিয়েছি। সাড়ে ৩ হাজার টাকা প্রতি বিঘা তিনি দিতে চেয়েছেন। তবে আমরা একটু বাড়িয়ে দিতে বলেছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন কাজ শেষে কিছু বাড়িয়ে দেবেন।
দুলাল মিয়া আরও বলেন, ২১ জন সদস্য মিলে প্রতিদিন ৫ বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াই করে গৃহস্থের ঘরে তুলে দিতে পারি। এতে করে খেয়ে-দেয়ে প্রত্যেকেই প্রতি দিন ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পাই।


























