সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

বরিশালের ঐতিহ্য মিয়াবাড়ি মসজিদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স ॥ ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ। অনন্য স্থাপত্যশৈলীর দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটি শুধু বরিশালের নয়, বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুর গ্রামে অবস্থিত দ্বিতল মসজিদে এখনো নিয়মিত নামাজ আদায় করেন নামাজিরা। এ ছাড়া বরিশালে আসা পর্যটকরা আসেন ঐতিহ্যপূর্ণ মসজিদটি দেখতে।

১৮ শতকে নির্মিত মোগলরীতির চারকোনা এই মসজিদের উপরিভাগে তিনটি ছোট আকারের গম্বুজ রয়েছে। মাঝের গম্বুজটি আকারে কিছুটা বড়। মসজিদের সামনের দেয়ালে চারটি মিনার এবং পেছনের দেয়ালে চারটি মিনারসহ মোট আটটি বড় মিনার রয়েছে। এ ছাড়া সামনে ও পেছনের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে আরো ১২টি ছোট মিনার রয়েছে। মসজিদের উপরিভাগ (সিলিং) ও সবগুলো মিনারে নিখুঁত ও অপূর্ব সুন্দর কারুকাজ খচিত।

উঁচু ভিত্তির ওপর নির্মিত মিয়াবাড়ির এ মসজিদের পূর্ব দিকে রয়েছে বিশালাকারে একটি দীঘি। দীঘির পানিতে মসজিদের প্রতিবিম্ব যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করে। বর্তমানে মসজিদটির দ্বিতীয় তলায় নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় তলায় উঠতে বাইরে থেকে দোতলা পর্যন্ত একটি প্রশস্ত সিঁড়ি রয়েছে। আর নিচতলায় কয়েকটি কক্ষে বর্তমানে থএকটি মাদরাসার কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া সিঁড়ির নিচের ফাঁকা জায়গায় রয়েছে দু’টি কবর।

প্রতিদিন মসজিদটি দেখতে অনেকে এলেও যাতায়াতে তাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। শহরের নবগ্রাম রোড থেকে মসজিদ পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হন পর্যটকরা। তবে এ পথে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা বা ইঞ্জিনচালিত থ্রি-হুইলারযোগে যাতায়াত করা যায়।

মিয়াবাড়ি মসজিদের মুসল্লি আর্শেদ আলী সিকদার (৭০) বলেন, মোগল আমলের এ স্থাপনাটি দেখতে অনেক মানুষই ছুটে আসেন। কিন্তু যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কটি সংস্কার না করায় যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে।

মিয়াবাড়ি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হায়াত মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি। তৎকালীন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নির্বাসিত হন তিনি। এ সময় তার জমিদারিও কেড়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ফিরে তিনি এলাকায় দু’টি দীঘি ও দ্বিতল এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মসজিদ কমপ্লেক্সে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত একটি ম্যাগাজিনের নির্বাহী সম্পাদক তৈয়বুর রহমান আজাদ এবং সহযোগী সম্পাদক জলিল সিদ্দিকী সবুজ বলেন, ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মসজিদটি খুবই দৃষ্টিনন্দন। এটির ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বরিশালের ঐতিহ্য মিয়াবাড়ি মসজিদ

আপডেট সময় : ০৬:১৮:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স ॥ ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ। অনন্য স্থাপত্যশৈলীর দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটি শুধু বরিশালের নয়, বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুর গ্রামে অবস্থিত দ্বিতল মসজিদে এখনো নিয়মিত নামাজ আদায় করেন নামাজিরা। এ ছাড়া বরিশালে আসা পর্যটকরা আসেন ঐতিহ্যপূর্ণ মসজিদটি দেখতে।

১৮ শতকে নির্মিত মোগলরীতির চারকোনা এই মসজিদের উপরিভাগে তিনটি ছোট আকারের গম্বুজ রয়েছে। মাঝের গম্বুজটি আকারে কিছুটা বড়। মসজিদের সামনের দেয়ালে চারটি মিনার এবং পেছনের দেয়ালে চারটি মিনারসহ মোট আটটি বড় মিনার রয়েছে। এ ছাড়া সামনে ও পেছনের দেয়ালের মধ্যবর্তী স্থানে আরো ১২টি ছোট মিনার রয়েছে। মসজিদের উপরিভাগ (সিলিং) ও সবগুলো মিনারে নিখুঁত ও অপূর্ব সুন্দর কারুকাজ খচিত।

উঁচু ভিত্তির ওপর নির্মিত মিয়াবাড়ির এ মসজিদের পূর্ব দিকে রয়েছে বিশালাকারে একটি দীঘি। দীঘির পানিতে মসজিদের প্রতিবিম্ব যেকোনো মানুষকে মুগ্ধ করে। বর্তমানে মসজিদটির দ্বিতীয় তলায় নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দ্বিতীয় তলায় উঠতে বাইরে থেকে দোতলা পর্যন্ত একটি প্রশস্ত সিঁড়ি রয়েছে। আর নিচতলায় কয়েকটি কক্ষে বর্তমানে থএকটি মাদরাসার কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়া সিঁড়ির নিচের ফাঁকা জায়গায় রয়েছে দু’টি কবর।

প্রতিদিন মসজিদটি দেখতে অনেকে এলেও যাতায়াতে তাদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়। শহরের নবগ্রাম রোড থেকে মসজিদ পর্যন্ত সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হন পর্যটকরা। তবে এ পথে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা বা ইঞ্জিনচালিত থ্রি-হুইলারযোগে যাতায়াত করা যায়।

মিয়াবাড়ি মসজিদের মুসল্লি আর্শেদ আলী সিকদার (৭০) বলেন, মোগল আমলের এ স্থাপনাটি দেখতে অনেক মানুষই ছুটে আসেন। কিন্তু যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কটি সংস্কার না করায় যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে।

মিয়াবাড়ি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা হায়াত মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি। তৎকালীন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নির্বাসিত হন তিনি। এ সময় তার জমিদারিও কেড়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ফিরে তিনি এলাকায় দু’টি দীঘি ও দ্বিতল এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

মসজিদ কমপ্লেক্সে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত একটি ম্যাগাজিনের নির্বাহী সম্পাদক তৈয়বুর রহমান আজাদ এবং সহযোগী সম্পাদক জলিল সিদ্দিকী সবুজ বলেন, ঐতিহ্যের সাক্ষী এই মসজিদটি খুবই দৃষ্টিনন্দন। এটির ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।