সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ

ঈদ যাত্রায় মোটরসাইকেল চালকদের বাধা দেবে না পুলিশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২ ১২২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স: যৌক্তিক কারণ দেখালে ঈদ যাত্রায় মোটরসাইকেল চালকদের বাধা দেবে না পুলিশ। তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ মোটরসাইকেলে বাড়ি যেতে পারবেন। বুধবার পুলিশের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মোটরসাইকেল চলাচলের বিধি নিষেধের বিষয় নিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এ কথা বলেন।

এদিকে বিআরটিএ মোটরসাইকেলে চলাচলে যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তা জনরোষ তৈরি করবে বলে মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সিদ্ধান্ত বাস্তব সম্মত নয় বলেও মনে করছে তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সিদ্ধান্তের কারণে মানুষের মধ্যে বাজে বার্তা যাচ্ছে। বিআরটিএর এ সিদ্ধান্তে জনরোষ তৈরি হবে।

শতশত মানুষ ঈদের সময় মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি যায়। পুলিশ কীভাবে তাদের ঠেকাবে। এটি বাস্তব সম্মত নয়। আমরা বিআরটিএকে জানিয়েছি, এ কাজ পুলিশের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়।

তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকলে পুলিশ সেখানে সহায়তা করবে। বাড়ি যাওয়ার যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে পুলিশ মোটরসাইকেল চালকদের ছেড়ে দেবে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, মোটরসাইকেল চালকদের আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত। ঢাকার আশপাশের জেলায় ১ থেকে ২ ঘণ্টার দূরত্বের পথ তারা পাড়ি দিতে পারেন।

একজন মোটরসাইকেল নিয়ে রংপুর পর্যন্ত চলে যাবে— এটি ঠিক নয়। নিজের ও পরিবারের কথা ভাবতে হবে। ঈদের সময় মহাসড়কে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চালালে তার নিজের জন্য ঝুঁকি তৈরি হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল চালানো একজন মানুষের নাগরিক অধিকার। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যান।

মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ সরকারি আদেশ। বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত ছাড়া এটি প্রতিপালন পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জিং।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বৈঠকে পুলিশের প্রতিনিধিও ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বুধবারও ডিএমপি কমিশনার ও হাইওয়ে পুলিশের প্রধানের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটি সরকারি আদেশ। এটি পালনের দায়িত্ব পুলিশের। আর আমাদের পর্যাপ্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত নেই।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঈদের সময় প্রতিটি মোটরসাইকেল আটকে তার বাড়ি যাওয়ার কারণ জানা যৌক্তিক নয়। ১ থেকে ২ মিনিট রাস্তা বন্ধ থাকলে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়। বৃহস্পিতবার থেকে ঢাকায় অন্তত ৮টি চেকপোস্টে পুলিশ থাকবে। সেখানে থাকবে ট্রাফিক পুলিশও।

এদিকে ঈদের আগে ও পরে সাতদিন মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধের সরকারি নির্দেশনা কীভাবে কার্যকর করা হবে তাও স্পষ্ট নয়। ‘যৌক্তিক’ প্রয়োজনে মোটরসাইকেলে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার অনুমতি হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে কীভাবে মিলবে তাও পরিষ্কার নয়।

বিআরটিএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদেশে নিবন্ধিত ৫৩ লাখ ৫ হাজার ৯৩৬টি যানবাহনের মধ্যে ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ২১৮টি মোটরসাইকেল। মোট যানবাহনের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮টি নতুন যানবাহন নিবন্ধন পেয়েছে। যার ২ লাখ ৫২ হাজার ২৩৩টি বা ৮৭ শতাংশই মোটরসাইকেল। রাজধানীতে নিবন্ধিত ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭৪টি যানবাহনের অর্ধেকেরও বেশি ৯ লাখ ৬ হাজার ২২১টি মোটরসাইকেল।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে চলতি বছরে সড়কে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার ৪২ শতাংশ মারা গেছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। গত জুনে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার প্রায় ৪০ শতাংশ ঘটেছে মোটরসাইকেলের কারণে। আর দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশই ১৮ থেকে ৩০ বছরের তরুণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঈদ যাত্রায় মোটরসাইকেল চালকদের বাধা দেবে না পুলিশ

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স: যৌক্তিক কারণ দেখালে ঈদ যাত্রায় মোটরসাইকেল চালকদের বাধা দেবে না পুলিশ। তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ মোটরসাইকেলে বাড়ি যেতে পারবেন। বুধবার পুলিশের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মোটরসাইকেল চলাচলের বিধি নিষেধের বিষয় নিয়ে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এ কথা বলেন।

এদিকে বিআরটিএ মোটরসাইকেলে চলাচলে যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তা জনরোষ তৈরি করবে বলে মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সিদ্ধান্ত বাস্তব সম্মত নয় বলেও মনে করছে তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সিদ্ধান্তের কারণে মানুষের মধ্যে বাজে বার্তা যাচ্ছে। বিআরটিএর এ সিদ্ধান্তে জনরোষ তৈরি হবে।

শতশত মানুষ ঈদের সময় মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি যায়। পুলিশ কীভাবে তাদের ঠেকাবে। এটি বাস্তব সম্মত নয়। আমরা বিআরটিএকে জানিয়েছি, এ কাজ পুলিশের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়।

তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকলে পুলিশ সেখানে সহায়তা করবে। বাড়ি যাওয়ার যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে পুলিশ মোটরসাইকেল চালকদের ছেড়ে দেবে।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, মোটরসাইকেল চালকদের আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত। ঢাকার আশপাশের জেলায় ১ থেকে ২ ঘণ্টার দূরত্বের পথ তারা পাড়ি দিতে পারেন।

একজন মোটরসাইকেল নিয়ে রংপুর পর্যন্ত চলে যাবে— এটি ঠিক নয়। নিজের ও পরিবারের কথা ভাবতে হবে। ঈদের সময় মহাসড়কে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চালালে তার নিজের জন্য ঝুঁকি তৈরি হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মুনিবর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল চালানো একজন মানুষের নাগরিক অধিকার। জীবনের প্রয়োজনে মানুষ এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যান।

মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ সরকারি আদেশ। বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত ছাড়া এটি প্রতিপালন পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জিং।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বৈঠকে পুলিশের প্রতিনিধিও ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বুধবারও ডিএমপি কমিশনার ও হাইওয়ে পুলিশের প্রধানের সঙ্গে কথা হয়েছে। এটি সরকারি আদেশ। এটি পালনের দায়িত্ব পুলিশের। আর আমাদের পর্যাপ্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত নেই।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঈদের সময় প্রতিটি মোটরসাইকেল আটকে তার বাড়ি যাওয়ার কারণ জানা যৌক্তিক নয়। ১ থেকে ২ মিনিট রাস্তা বন্ধ থাকলে দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা তৈরি হয়। বৃহস্পিতবার থেকে ঢাকায় অন্তত ৮টি চেকপোস্টে পুলিশ থাকবে। সেখানে থাকবে ট্রাফিক পুলিশও।

এদিকে ঈদের আগে ও পরে সাতদিন মহাসড়কে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধের সরকারি নির্দেশনা কীভাবে কার্যকর করা হবে তাও স্পষ্ট নয়। ‘যৌক্তিক’ প্রয়োজনে মোটরসাইকেলে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার অনুমতি হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে কীভাবে মিলবে তাও পরিষ্কার নয়।

বিআরটিএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদেশে নিবন্ধিত ৫৩ লাখ ৫ হাজার ৯৩৬টি যানবাহনের মধ্যে ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ২১৮টি মোটরসাইকেল। মোট যানবাহনের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮টি নতুন যানবাহন নিবন্ধন পেয়েছে। যার ২ লাখ ৫২ হাজার ২৩৩টি বা ৮৭ শতাংশই মোটরসাইকেল। রাজধানীতে নিবন্ধিত ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭৪টি যানবাহনের অর্ধেকেরও বেশি ৯ লাখ ৬ হাজার ২২১টি মোটরসাইকেল।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে চলতি বছরে সড়কে যত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তার ৪২ শতাংশ মারা গেছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। গত জুনে ২০৪ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার প্রায় ৪০ শতাংশ ঘটেছে মোটরসাইকেলের কারণে। আর দুর্ঘটনায় হতাহতদের প্রায় ৮০ শতাংশই ১৮ থেকে ৩০ বছরের তরুণ।