সংবাদ শিরোনাম ::
ভান্ডারিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েও দমানো যায়নি, এবার সাংবাদিক আসলামকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ছক! বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫

মাদরাসার ভেতরে গাঁজা সেবন, বাধা দেয়ায় নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মে ২০২১ ১৪০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেস্ক :: বগুড়ার শাজাহানপুরে জয়নাল আবেদীন (৭০) নামে মাদরাসার এক নৈশপ্রহরীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তানভিরুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদরাসার বারান্দায় গাঁজা সেবনে বাধা দেয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।

শনিবার (২৯ মে) বিকেলে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার তানভিরুল ইসলাম শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর উত্তরপাড়ার মিঠু মিয়ার ছেলে এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাতৃভূমির খবর নামের একটি পত্রিকার বগুড়া জেলা সংবাদদাতা।

জিজ্ঞাসাবাদে তানভিরুল ইসলাম পুলিশকে জানান, তিনি প্রায় রাতেই সাজাপুর উত্তরপাড়া দাখিল মাদরাসার অভ্যন্তরে গাঁজা সেবন করতেন। নৈশপ্রহরী জয়নাল আবেদীন তাকে নিষেধ করে আসছিলেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাদরাসার ভেতরে গাঁজা সেবন করছিলেন তিনি। বিষয়টি টের পেয়ে নৈশপ্রহরী তাকে গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তানভিরুল তাকে ধাক্কা দেন। নৈশপ্রহরীও তানভিরকে থাপ্পড় দিয়ে তার ঘরে যায় ঘুমাতে। সঙ্গে সঙ্গে তানভির ঘরে ঢুকে তার পেটে ছুরিকাঘাত করেন এবং ছুরি দিয়ে গলা কেটে দেন।

এরপর মাদরাসার পার্শ্ববর্তী পুকুরে চাকু ফেলে দিয়ে পুকুরের পানিতে হাত-মুখ পরিষ্কার করে বাড়িতে চলে যান। বাড়ি গিয়ে গোসল করে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শুক্রবার (২৮ মে) নৈশপ্রহরী খুনের খবর জানাজানি হলে গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মাদরাসায় মরদেহ দেখতে যান তানভির। তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে মরদেহের ভিডিও ধারণ শুরু করেন।

সেখানে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকরা তথ্য নিয়ে চলে গেলেও তানভির পুলিশের পিছু ছাড়ছিলেন না। তিনি সব কর্মকাণ্ড ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে পুলিশের আরেকটি দল মাদরাসা চত্বরে গেলে তানভির সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার কয়েকজন মাদকসেবীর নাম ঠিকানা দিয়ে পুলিশকে জানান তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তানভীরের অতি উৎসাহী আচরণে পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ আরও তিন যুবককে আটক করে। রাতে পুলিশ চারজনকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তানভীর হত্যার সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাদরাসার ভেতরে গাঁজা সেবন, বাধা দেয়ায় নৈশপ্রহরীকে কুপিয়ে হত্যা।

আপডেট সময় : ১২:৫৮:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ মে ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেস্ক :: বগুড়ার শাজাহানপুরে জয়নাল আবেদীন (৭০) নামে মাদরাসার এক নৈশপ্রহরীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তানভিরুল ইসলাম (২২) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মাদরাসার বারান্দায় গাঁজা সেবনে বাধা দেয়ায় তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।

শনিবার (২৯ মে) বিকেলে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার তানভিরুল ইসলাম শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর উত্তরপাড়ার মিঠু মিয়ার ছেলে এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাতৃভূমির খবর নামের একটি পত্রিকার বগুড়া জেলা সংবাদদাতা।

জিজ্ঞাসাবাদে তানভিরুল ইসলাম পুলিশকে জানান, তিনি প্রায় রাতেই সাজাপুর উত্তরপাড়া দাখিল মাদরাসার অভ্যন্তরে গাঁজা সেবন করতেন। নৈশপ্রহরী জয়নাল আবেদীন তাকে নিষেধ করে আসছিলেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাদরাসার ভেতরে গাঁজা সেবন করছিলেন তিনি। বিষয়টি টের পেয়ে নৈশপ্রহরী তাকে গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তানভিরুল তাকে ধাক্কা দেন। নৈশপ্রহরীও তানভিরকে থাপ্পড় দিয়ে তার ঘরে যায় ঘুমাতে। সঙ্গে সঙ্গে তানভির ঘরে ঢুকে তার পেটে ছুরিকাঘাত করেন এবং ছুরি দিয়ে গলা কেটে দেন।

এরপর মাদরাসার পার্শ্ববর্তী পুকুরে চাকু ফেলে দিয়ে পুকুরের পানিতে হাত-মুখ পরিষ্কার করে বাড়িতে চলে যান। বাড়ি গিয়ে গোসল করে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শুক্রবার (২৮ মে) নৈশপ্রহরী খুনের খবর জানাজানি হলে গ্রামের লোকজনের সঙ্গে মাদরাসায় মরদেহ দেখতে যান তানভির। তিনি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে মরদেহের ভিডিও ধারণ শুরু করেন।

সেখানে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকরা তথ্য নিয়ে চলে গেলেও তানভির পুলিশের পিছু ছাড়ছিলেন না। তিনি সব কর্মকাণ্ড ভিডিও ধারণ করছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে পুলিশের আরেকটি দল মাদরাসা চত্বরে গেলে তানভির সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার কয়েকজন মাদকসেবীর নাম ঠিকানা দিয়ে পুলিশকে জানান তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তানভীরের অতি উৎসাহী আচরণে পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ আরও তিন যুবককে আটক করে। রাতে পুলিশ চারজনকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তানভীর হত্যার সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।