সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়মের সত্যতা, পুনঃতদন্তে প্রশাসন রাজাপুরে বেহাল সড়ক পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন: দুই যুগের দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ চুয়াডাঙ্গায় রাইচ কুকারের সুইচ দেবার কালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু রহমতপুর সমিতি ঢাকা আহ্বায়ক কমিটি গঠন বিজয়নগরে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে নিহত ১ আহত ৫ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান পর্যটন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভাড়া ও উচ্চশব্দে সাউন্ড বক্স বাজানোর দায়ে অভিযান দর্শনায় বিজিবির অভিযানে ১৩ কোটি টাকার স্বর্ণসহ এক পাচারকারী আটক বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন

আমলাতন্ত্রের কাঠগড়ায় সাংবাদিকতা।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১ ৯৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোহেল সানি
Rule of Law – মূলকথা হচ্ছে Every body is equal to the eye of law. মানে সাধারণভাবে এটাকেই বলে আইনের শাসন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অন্যতম এ বৈশিষ্ট্যকে বুঝায় শাসক ও শাসিত একই আইনের অধীন।
Sir Ibor Jennings এর মতে, প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন বলতে বুঝায় সাংবিধানিক সরকার ব্যবস্থাকে। যে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুধু অনুমোদিত নয় বরং একটি উত্তম গুণ। আইনের শাসনের বৈশিষ্ট্য আপনাআপনি নির্গত হয়। তাই Justice Bhogaboti বলেন, আইনের শাসনের মূল উপাদান হলো যে, আইন অবশ্যই স্বেচ্ছাচারী বা অযৌক্তিক হবে না। কেননা আইনটি এমন আইন প্রণেতাদের কর্তৃক তৈরি, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
সরকারি দপ্তরে প্রথম আলো’র জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর বর্বর নির্যাতন ও থানায় সোপর্দকরণের দৃশ্যটা আমাকে আইনের শাসনের কথা মনে দারুণভাবে মনে করিয়েছে।
আমলা কর্তৃক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের টুটি চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা ও ফ্লোরে ফেলে পুলিশ বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখার লোমহর্ষক দৃশ্যকে আইনের পরিভাষায় কি বলবেন আমাদের আইন প্রণেতারা? যেখানে
কোন আইন প্রণেতার মুখে শুনতে পেলাম না সহমর্মিতার ভাষা। সেখানে আইন বাস্তবায়নকারী আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ আশা করি কিভাবে?
স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরের দুর্নীতির চিত্র গণমাধ্যম ফলাও করে প্রকাশ করে আসছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অযোগ্যতা, দায়িত্বহীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যায়যায় করেও মন্ত্রীর গদি যায়নি।
একমাত্র সামরিক সরকারের কাজ জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখা। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করলে কী কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয় – তা আমরা জিয়া-এরশাদ জামানায় দেখেছি। কিন্তু বর্তমান সরকার একটি সাংবিধানিক সরকার। প্রধানমন্ত্রীও সাংবাদিকবান্ধব। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই। আমার মন বলছিল, একজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে এমন বর্বর আচরণে উচ্চ আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের তলব করতে পারেন। দায়ী ব্যক্তিদের রাশ টেনে ধরতে পারেন। কেননা প্রশাসনিক কাজে বিচার বিভাগ ছয়টি উপায়ে আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করার ক্ষমতা রাখেন। যেমন, (১) কো-ওয়ারেন্টো (২) ম্যানডেমাস (৩) হেবিয়াস কর্পাস (৪) ইনজাংশন (৫) সার্টিওয়ারি (৬) প্রোহিবিশন। আমি এখনো আশাবাদী। বিচার বিভাগ আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল।
বর্তমান সরকারকেই
উদারপন্থী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা সত্ত্বেও এর বিরুদ্ধে তীব্রভাবে গড়ে ওঠা অসন্তোষ, ক্ষোভ-বিক্ষোভের বিষয়টি মাথায় রেখে একে নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজতে হবে। নাগরিকদের চিন্তা ও ইচ্ছাকে প্রশাসন ব্যবস্থায় সংযুক্ত করতে না পারলে প্রশাসন সচেতন ও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে না। আমলারা ক্ষমতার অপব্যবহার অন্যায় কাজ করেই যাবেন।
আমরা জানি দফতরগুলোতে জনপ্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রী শাসনবিভাগের প্রধান নির্বাহী। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যা করা প্রয়োজন তা তিনি স্থির করেন। জনগণের স্বার্থে নজর রেখেই প্রশাসনিক কাজের গতিধারা ঠিক করেন এবং আমলাদেরকে সেভাবে কার্য পরিচালনার নির্দেশ দেন। এই উপায়ে আমলাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে কি মন্ত্রীদের এই ক্ষমতা আছে? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
এটা ঠিক যে, আমলাতন্ত্রের বিপক্ষে যতকিছু বলা হোক না কেন, আধুনিক যুগেও আমলাতন্ত্রকে বাদ দিয়ে কোন রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থাই চলতে পারে না। তবে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। আমাদের আমলাতন্ত্র নিয়ে ঘেঁটেঘুটে দেখে মনে হলো, এগুলো করা যায়। যেমন, (১) অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রঃ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র একটা বড় সমস্যা। জনকল্যাণ ও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে বিশেষ প্রয়োজনীয়তা প্রবলভাবে অনুভূত হওয়ায় তা অনিশ্চিত আমলাতন্ত্রের জন্য বহুলাংশে ব্যাহত হচ্ছে।
(২) ক্ষমতার লিপ্সাঃ আমলাতন্ত্রীদের মধ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দুর্বার আকাঙ্খা লক্ষ্য করা যায়। তারা অনেক সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেন বা হরণ করতে বাধ্য হন। তাই আমলারা জনগণের কাছে একটা ভীতিস্বরূপ।
(৩) লাল ফিতার শাসনঃ এর অর্থ হলো পূর্ব নজীরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা। ফলে মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর ধরে একই বিষয় বিভিন্ন দপ্তরে বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় বন্দী থাকে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অহেতুক বিলম্ব ঘটে।
(৪) রুটিনমাফিক কার্যকলাপঃ আমলারা গণতান্ত্রিক ধারায় রুটিনমাফিক কাজ করেন। তারা এর বাইরে কিছুই করতে চান না, যে কারণে আমলাতান্ত্রিক কার্যক্রম নিস্প্রভ ও যান্ত্রিক হয়ে পড়ে।
(৫) বিভাগবাদঃ আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা সরকার ব্যবস্থায় বিভাগবাদ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন বিভাগ সৃষ্টির ফলে কর্মপরিধি ও প্রয়োজনের ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের স্ব-স্ব লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত থাকে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে পড়ে সংকীর্ণ।
(৬) সৃজনমূলক কর্মের অভাবঃ চাকরিতে পদোন্নতির জন্য আমলাদের বড় একটা উদ্যোগ আয়োজন করতে হয় না। এ কারণে আমলাতান্ত্রিক কর্মধারায় সৃজনমূলক কাজকর্মের অভাব দেখা দেয়। (৭) আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়াঃ সমাজ ব্যবস্থাতেও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। আমলাতন্ত্র ক্রমশ নিজেদের চিরস্থায়ী করতে প্রবৃত্ত হয়। তারা একে অপরের জন্য কাজ সৃষ্টি করে। নিজেদের অস্তিত্বকে চিরস্থায়ী ও পাকাপোক্ত করে তুলতে সচেষ্ট হয়।
যাহোক, আমলারা সচরাচর নিজেদেরকে জনস্বার্থে স্ব-নিয়োজিত অভিভাবক ও ব্যাখ্যা দানকারী হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন। কাজেই তাদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের প্রতি উদাসীনতা ও উদ্ধত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ কারণেই আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। সামরিক সরকারের মতো গণতান্ত্রিক সরকারও প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে রদবদল করে। স্থান বদল হয় কর্ম মানসিকতা তো রয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে এতে সুফল আসেনা বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি অস্বাভাবিক অসন্তোষ দেখা দেয়। আমলারা আরো দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে পড়ে। উন্নতির বদলে ঘটে অবনতি। যার দায়বহন করতে হয় সরকারকে।
লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমলাতন্ত্রের কাঠগড়ায় সাংবাদিকতা।

আপডেট সময় : ০৫:০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১

সোহেল সানি
Rule of Law – মূলকথা হচ্ছে Every body is equal to the eye of law. মানে সাধারণভাবে এটাকেই বলে আইনের শাসন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অন্যতম এ বৈশিষ্ট্যকে বুঝায় শাসক ও শাসিত একই আইনের অধীন।
Sir Ibor Jennings এর মতে, প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন বলতে বুঝায় সাংবিধানিক সরকার ব্যবস্থাকে। যে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুধু অনুমোদিত নয় বরং একটি উত্তম গুণ। আইনের শাসনের বৈশিষ্ট্য আপনাআপনি নির্গত হয়। তাই Justice Bhogaboti বলেন, আইনের শাসনের মূল উপাদান হলো যে, আইন অবশ্যই স্বেচ্ছাচারী বা অযৌক্তিক হবে না। কেননা আইনটি এমন আইন প্রণেতাদের কর্তৃক তৈরি, যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
সরকারি দপ্তরে প্রথম আলো’র জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ওপর বর্বর নির্যাতন ও থানায় সোপর্দকরণের দৃশ্যটা আমাকে আইনের শাসনের কথা মনে দারুণভাবে মনে করিয়েছে।
আমলা কর্তৃক সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের টুটি চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা ও ফ্লোরে ফেলে পুলিশ বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখার লোমহর্ষক দৃশ্যকে আইনের পরিভাষায় কি বলবেন আমাদের আইন প্রণেতারা? যেখানে
কোন আইন প্রণেতার মুখে শুনতে পেলাম না সহমর্মিতার ভাষা। সেখানে আইন বাস্তবায়নকারী আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ আশা করি কিভাবে?
স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরের দুর্নীতির চিত্র গণমাধ্যম ফলাও করে প্রকাশ করে আসছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অযোগ্যতা, দায়িত্বহীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যায়যায় করেও মন্ত্রীর গদি যায়নি।
একমাত্র সামরিক সরকারের কাজ জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করে তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখা। সংবাদপত্র সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করলে কী কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয় – তা আমরা জিয়া-এরশাদ জামানায় দেখেছি। কিন্তু বর্তমান সরকার একটি সাংবিধানিক সরকার। প্রধানমন্ত্রীও সাংবাদিকবান্ধব। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই। আমার মন বলছিল, একজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে এমন বর্বর আচরণে উচ্চ আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের তলব করতে পারেন। দায়ী ব্যক্তিদের রাশ টেনে ধরতে পারেন। কেননা প্রশাসনিক কাজে বিচার বিভাগ ছয়টি উপায়ে আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করার ক্ষমতা রাখেন। যেমন, (১) কো-ওয়ারেন্টো (২) ম্যানডেমাস (৩) হেবিয়াস কর্পাস (৪) ইনজাংশন (৫) সার্টিওয়ারি (৬) প্রোহিবিশন। আমি এখনো আশাবাদী। বিচার বিভাগ আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল।
বর্তমান সরকারকেই
উদারপন্থী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা সত্ত্বেও এর বিরুদ্ধে তীব্রভাবে গড়ে ওঠা অসন্তোষ, ক্ষোভ-বিক্ষোভের বিষয়টি মাথায় রেখে একে নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজতে হবে। নাগরিকদের চিন্তা ও ইচ্ছাকে প্রশাসন ব্যবস্থায় সংযুক্ত করতে না পারলে প্রশাসন সচেতন ও সংবেদনশীল হয়ে উঠবে না। আমলারা ক্ষমতার অপব্যবহার অন্যায় কাজ করেই যাবেন।
আমরা জানি দফতরগুলোতে জনপ্রতিনিধি হিসাবে মন্ত্রী শাসনবিভাগের প্রধান নির্বাহী। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে যা করা প্রয়োজন তা তিনি স্থির করেন। জনগণের স্বার্থে নজর রেখেই প্রশাসনিক কাজের গতিধারা ঠিক করেন এবং আমলাদেরকে সেভাবে কার্য পরিচালনার নির্দেশ দেন। এই উপায়ে আমলাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে কি মন্ত্রীদের এই ক্ষমতা আছে? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?
এটা ঠিক যে, আমলাতন্ত্রের বিপক্ষে যতকিছু বলা হোক না কেন, আধুনিক যুগেও আমলাতন্ত্রকে বাদ দিয়ে কোন রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থাই চলতে পারে না। তবে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। আমাদের আমলাতন্ত্র নিয়ে ঘেঁটেঘুটে দেখে মনে হলো, এগুলো করা যায়। যেমন, (১) অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রঃ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র একটা বড় সমস্যা। জনকল্যাণ ও দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে বিশেষ প্রয়োজনীয়তা প্রবলভাবে অনুভূত হওয়ায় তা অনিশ্চিত আমলাতন্ত্রের জন্য বহুলাংশে ব্যাহত হচ্ছে।
(২) ক্ষমতার লিপ্সাঃ আমলাতন্ত্রীদের মধ্যে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার দুর্বার আকাঙ্খা লক্ষ্য করা যায়। তারা অনেক সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেন বা হরণ করতে বাধ্য হন। তাই আমলারা জনগণের কাছে একটা ভীতিস্বরূপ।
(৩) লাল ফিতার শাসনঃ এর অর্থ হলো পূর্ব নজীরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করা। ফলে মাসের পর মাস এবং বছরের পর বছর ধরে একই বিষয় বিভিন্ন দপ্তরে বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় বন্দী থাকে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অহেতুক বিলম্ব ঘটে।
(৪) রুটিনমাফিক কার্যকলাপঃ আমলারা গণতান্ত্রিক ধারায় রুটিনমাফিক কাজ করেন। তারা এর বাইরে কিছুই করতে চান না, যে কারণে আমলাতান্ত্রিক কার্যক্রম নিস্প্রভ ও যান্ত্রিক হয়ে পড়ে।
(৫) বিভাগবাদঃ আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা সরকার ব্যবস্থায় বিভাগবাদ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন বিভাগ সৃষ্টির ফলে কর্মপরিধি ও প্রয়োজনের ব্যাপারে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের স্ব-স্ব লক্ষ্য অর্জনে নিয়োজিত থাকে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি হয়ে পড়ে সংকীর্ণ।
(৬) সৃজনমূলক কর্মের অভাবঃ চাকরিতে পদোন্নতির জন্য আমলাদের বড় একটা উদ্যোগ আয়োজন করতে হয় না। এ কারণে আমলাতান্ত্রিক কর্মধারায় সৃজনমূলক কাজকর্মের অভাব দেখা দেয়। (৭) আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়াঃ সমাজ ব্যবস্থাতেও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। আমলাতন্ত্র ক্রমশ নিজেদের চিরস্থায়ী করতে প্রবৃত্ত হয়। তারা একে অপরের জন্য কাজ সৃষ্টি করে। নিজেদের অস্তিত্বকে চিরস্থায়ী ও পাকাপোক্ত করে তুলতে সচেষ্ট হয়।
যাহোক, আমলারা সচরাচর নিজেদেরকে জনস্বার্থে স্ব-নিয়োজিত অভিভাবক ও ব্যাখ্যা দানকারী হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন। কাজেই তাদের বিরুদ্ধে জনসাধারণের প্রতি উদাসীনতা ও উদ্ধত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ কারণেই আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। সামরিক সরকারের মতো গণতান্ত্রিক সরকারও প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে রদবদল করে। স্থান বদল হয় কর্ম মানসিকতা তো রয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে এতে সুফল আসেনা বরং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি অস্বাভাবিক অসন্তোষ দেখা দেয়। আমলারা আরো দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে পড়ে। উন্নতির বদলে ঘটে অবনতি। যার দায়বহন করতে হয় সরকারকে।
লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।