সংবাদ শিরোনাম ::
বিজয়নগর উপজেলা আমতলী বাজারের vision এর নতুন শো রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, বাবুগঞ্জে নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজের উদ্বোধন বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১ ৯০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোহেল সানি
“প্রকৃতির নিয়মগুলো রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে নিউটন এলো, সেই সাথে হয়ে গেল আলো।” উক্তিটি আলেকজান্ডার পোপের। নিউটন সেই বিস্ময়কর প্রতিভাবান, যিনি বিশ্বপ্রকৃতি’র নিয়ম আবিষ্কার করেন। অনবধানতার অন্ধকার তাড়িয়ে মানুষের উপলব্ধির জগতকে আলোকিত করে। নিউটনতত্ত্ব আবিস্কৃত হবার আগে একাধিক বিজ্ঞানী প্রকৃতির নিয়ম সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন ব্যাখ্যা দিতেন। কিন্তু নিউটন তত্ত্ব রূপবদ্ধ গাণিতিক সূত্ররূপে বিচ্ছিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যাকে একীভূত করে এক সাধারণীকৃত সার্বিক উপলব্ধিতে নিয়ে যায় বিশ্বজগতকে। যেখানে পৃথিবীর যে কোন ধূলিকণা বা বস্তুখন্ডের চলাচল আর আকাশের গ্রহদের গতি এক অভিন্ন নিয়মে অন্তর্ভুক্ত।
সবসৃজনশীল কর্মের মধ্যেই অন্তর্নিহিত যে সাদৃশ্য তার মূলে আছে প্রতিভাবানদের দূরদৃষ্টি, মননশীলতা, স্বজ্ঞা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা। যা আপাতবিচ্ছিন্ন ঘটনামালার মধ্যে সাযুজ্য আবিষ্কার করে, উদ্ভাবন করে কার্যকরণের নিয়ম এবং তার বিশুদ্ধ প্রয়োগে উপনীত হয় দূরলক্ষ্যে।
অনেকগুলো স্তর অতিক্রম করতে হয় অসাধারণ বৈশিষ্ট্যে। সৃষ্টিশীলতার পক্ষে প্রথম প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং দৃষ্টির স্বচ্ছতা ও সততা। অনুভবের মূল্যায়ন এবং কল্পনা শক্তি যা দিয়ে সৃষ্টি করা যায়, রূপান্তর ঘটানো যায় সর্বোপরি উদঘাটন করা যায় ঘটনামালার মধ্যে নতুন সম্পর্ক। উদ্ভাবন শক্তি, যা উদ্ভাবককে দেয় সম্পূর্ণ অভিনব ও ভিন্ন উপলব্ধি, বিশ্লেষণ শক্তি ও সংকট সমাধানের নতুন দৃষ্টি। সবশেষে প্রয়োজন বিচার ক্ষমতা। কখন কিভাবে, কি পরিমাণে তার যোগ্যতা, দক্ষতা ও শক্তি প্রয়োগ করতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সমন্বিতভাবে। এ গুণগুলো যখন দক্ষতমভাবে সমন্বিত হয়, তখনই সৃষ্টি হয় প্রতিভা। প্রথিতযশা দার্শনিকের ভাষায় বলবো, সৃজনশীল কাজের প্রতিটি ধাপ যেহেতু অভিনব ও সম্ভাবনার অনিশ্চিত পথ ধরে অগ্রসর হয়, একমাত্র সাফল্যই সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মাপকাঠি। অভিব্যক্তি প্রবাহমান কালের মধ্যে, যা উন্মুক্ত, অপ্রত্যয়বর্তী ও সজীব। সৃজনশীলতাকে ধারণ করা যায় না একটি বদ্ধ ও পরিচিত সীমানার মধ্যে। সময়ের তীর সম্মুখদিকে ধাবমান। ঐতিহাসিক ঘটনাকে প্রত্যক্ষ ও বিশ্লেষণ করে ঘটনা ঘটে যাবার পর। কিন্তু যিনি ইতিহাসের নায়ক, ঘটনায় রূপকার, তাঁকে ঘটনার সম্ভাবনাকে উপলব্ধি ও অনুভব করতে হয় ঘটনা ঘটার আগে, অনিশ্চিত পথে।
স্বজ্ঞা ও কল্পনা শক্তি তাই প্রতিভাবান নেতৃত্বকে স্বপ্নদ্রষ্টা করে, সাধারণ্যে যা দূর্লভ। স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্বের প্রতিভা উপলব্ধি করতে হলে সহজ পথ হলো, স্বাধীনতা সংগ্রামের অভিযাত্রায় নেতার সামগ্রিক আয়োজন ও পরিচালনার সাফল্যের দিকে চোখ রাখা। বঙ্গবন্ধু তার দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রপঞ্চ ঘটনাকে যারা বিকৃতভাষ্যে উপস্থাপনের প্রয়াসী তারা অনর্থক নিজেদের বঞ্চিত করে। অথচ এদের জন্য মঙ্গল হতে পারে, যদি সহজদৃষ্টিতে স্বাধীনতার উজ্জ্বল প্রতিভাসকে শুধু অবলোকন বা উপভোগ করে স্বাধীনতার সুফলগুলো-যেমনটি স্বদেশের বৃক্ষ ও প্রাণীরাও উপভোগ করে।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আগে বিচ্ছিন্নভাবে বহু আন্দোলন হয়েছে। বিদ্রোহ হয়েছে, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু বাঙালি জাতির শোষণ বঞ্চনা, পশ্চাদপদতা ও পরাভব থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ যে স্বাধীনতা অর্জন এই উপলব্ধি ও তা অর্জনের জন্য জাতিকে উদ্ধুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করা এক মহৎ কর্মটি বঙ্গবন্ধু সম্পাদন করেন। এর শৈল্পিক ও সৃজনশীল, যার অপার মূল্য ও গুরুত্ব পরিমাপ্য শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধের সাফল্যে। সৃজনশীল মনই বিচিত্রসব রং এর বিন্দু ও রেখাকে সমন্বিত করে অর্থপূর্ণ দৃশ্যে। লাখো প্রাণের মূল্যে, নিযুত মুক্তিযোদ্ধার আত্মোৎসর্গে, স্বাধীনতাকামী মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বহুমাত্রিক এক প্রতিভাস। দেশপ্রেমের আলোকিত আভা ও আত্মপ্রত্যয়ের উজ্জ্বল শিখা ও প্রতিরোধ- বিজয় অর্জনের উত্তপ্ত মশাল যিনি বাঙালি জাতির মনে প্রজ্জ্বলিত করেন, তিনি শেখ মুজিব।
বাঙালি জাতির মনে যে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি আছে, তাদের উদ্দীপিত ও উদ্ভাসিক করা যে সম্ভব এই সত্য তিনি উদঘাটন করেন। স্বপ্ন দেখেও যা পারেননি শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দী। বাঙালির আত্মমর্যাদাবোধের আগুন প্রজ্জ্বলিত করে মনের উত্তাপ ও উজ্জ্বলতায় শেখ মুজিব তা আবিষ্কার করেন। তিনি কতটা অপরিহার্য ছিলেন, তার প্রমাণ-যখন দেখি,কত স্তিমিত ও অনুজ্জ্বল বাঙালি চেতনা সহস্র বছর ধরে। কী আশ্চর্য অন্ধকারে অসাধারণ উজ্জ্বল নক্ষত্ররূপী মূলনীতিগুলো হারিয়ে যায় একটি মানুষের হত্যায়। আকাশের কোন নক্ষত্রই কি এতো উজ্জ্বল, যা নিভে গেলে আকাশশুদ্ধ অন্ধকার হয়ে যায়? বাঙালি তার ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে অর্জিত জাতীয় চেতনায়, সেই মানুষগুলো তার প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে রাতারাতি বাংলাদেশী হয়ে যায়, যেমনটি ঘটে ব্যবহৃত সামগ্রী যেমন আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, জুতার বেলায়। শব্দ পরিবর্তন কোন নিরীহ ব্যাকরণের ব্যাপার নয়। প্রতিটি শব্দের অর্থ অর্জন করে ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে, এক সজীব মিথস্ক্রিয়ায়। ভারী পরমাণুগুলো যেমন সৃষ্টি হয় অতিকায় নক্ষত্রের প্রচন্ড উত্তপ্ত গহ্বরে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দুর্বিষহ যন্ত্রণা ও তীব্রসব উপলব্ধি আবহে তেমনি সৃষ্টি হয়েছে নতুন কিছু শব্দ। বিমূর্ত শব্দের উপরে এ আগ্রাসন কাকতালীয় ঘটনা নয়,গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার।
বিশ বছর ধরে গবেষণা করে নিউটন আলোক বিষয়ে বিশাল একটি পান্ডুলিপি রচনা করেন। একদিন সন্ধ্যায় তাঁর পোষা কুকুরটিকে ঘরে রেখে বাইরে হাঁটতে বের হন নিউটন। সুযোগে তাঁর কুকুরটি জ্বলন্ত মোমবাতি ফেলে দিয়ে পান্ডুলিপিটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিউটন এসে দেখেন তাঁর পান্ডুলিপি দাউ দাউ করে জ্বলছে। কুকুরটি আনন্দে নাচছে, সেই জ্বলন্ত শিখার চারপাশে। নিউটন মর্মান্তিক এদৃশ্য দেখে বলেন, এতো কষ্টের, দীর্ঘসাধনার ফসল যে পুড়ে যাচ্ছে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় দুঃখের নয়, এর চেয়েও বড় বেদনার হলো, কুকুর আনন্দে নাচছে অথচ বুঝতে পারছে না ও কি করেছে?
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মানবরুপী নরপশুরাও কি বুঝতে পেরেছিল কি করেছে ওরা?

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রকৃতির নিয়ম রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে বঙ্গবন্ধু এলো। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১

সোহেল সানি
“প্রকৃতির নিয়মগুলো রেখেছিল ঢেকে রাতের কালো, বিধাতার ডাকে নিউটন এলো, সেই সাথে হয়ে গেল আলো।” উক্তিটি আলেকজান্ডার পোপের। নিউটন সেই বিস্ময়কর প্রতিভাবান, যিনি বিশ্বপ্রকৃতি’র নিয়ম আবিষ্কার করেন। অনবধানতার অন্ধকার তাড়িয়ে মানুষের উপলব্ধির জগতকে আলোকিত করে। নিউটনতত্ত্ব আবিস্কৃত হবার আগে একাধিক বিজ্ঞানী প্রকৃতির নিয়ম সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন ব্যাখ্যা দিতেন। কিন্তু নিউটন তত্ত্ব রূপবদ্ধ গাণিতিক সূত্ররূপে বিচ্ছিন্ন ঘটনার ব্যাখ্যাকে একীভূত করে এক সাধারণীকৃত সার্বিক উপলব্ধিতে নিয়ে যায় বিশ্বজগতকে। যেখানে পৃথিবীর যে কোন ধূলিকণা বা বস্তুখন্ডের চলাচল আর আকাশের গ্রহদের গতি এক অভিন্ন নিয়মে অন্তর্ভুক্ত।
সবসৃজনশীল কর্মের মধ্যেই অন্তর্নিহিত যে সাদৃশ্য তার মূলে আছে প্রতিভাবানদের দূরদৃষ্টি, মননশীলতা, স্বজ্ঞা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা। যা আপাতবিচ্ছিন্ন ঘটনামালার মধ্যে সাযুজ্য আবিষ্কার করে, উদ্ভাবন করে কার্যকরণের নিয়ম এবং তার বিশুদ্ধ প্রয়োগে উপনীত হয় দূরলক্ষ্যে।
অনেকগুলো স্তর অতিক্রম করতে হয় অসাধারণ বৈশিষ্ট্যে। সৃষ্টিশীলতার পক্ষে প্রথম প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং দৃষ্টির স্বচ্ছতা ও সততা। অনুভবের মূল্যায়ন এবং কল্পনা শক্তি যা দিয়ে সৃষ্টি করা যায়, রূপান্তর ঘটানো যায় সর্বোপরি উদঘাটন করা যায় ঘটনামালার মধ্যে নতুন সম্পর্ক। উদ্ভাবন শক্তি, যা উদ্ভাবককে দেয় সম্পূর্ণ অভিনব ও ভিন্ন উপলব্ধি, বিশ্লেষণ শক্তি ও সংকট সমাধানের নতুন দৃষ্টি। সবশেষে প্রয়োজন বিচার ক্ষমতা। কখন কিভাবে, কি পরিমাণে তার যোগ্যতা, দক্ষতা ও শক্তি প্রয়োগ করতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সমন্বিতভাবে। এ গুণগুলো যখন দক্ষতমভাবে সমন্বিত হয়, তখনই সৃষ্টি হয় প্রতিভা। প্রথিতযশা দার্শনিকের ভাষায় বলবো, সৃজনশীল কাজের প্রতিটি ধাপ যেহেতু অভিনব ও সম্ভাবনার অনিশ্চিত পথ ধরে অগ্রসর হয়, একমাত্র সাফল্যই সৃজনশীল প্রক্রিয়ার মাপকাঠি। অভিব্যক্তি প্রবাহমান কালের মধ্যে, যা উন্মুক্ত, অপ্রত্যয়বর্তী ও সজীব। সৃজনশীলতাকে ধারণ করা যায় না একটি বদ্ধ ও পরিচিত সীমানার মধ্যে। সময়ের তীর সম্মুখদিকে ধাবমান। ঐতিহাসিক ঘটনাকে প্রত্যক্ষ ও বিশ্লেষণ করে ঘটনা ঘটে যাবার পর। কিন্তু যিনি ইতিহাসের নায়ক, ঘটনায় রূপকার, তাঁকে ঘটনার সম্ভাবনাকে উপলব্ধি ও অনুভব করতে হয় ঘটনা ঘটার আগে, অনিশ্চিত পথে।
স্বজ্ঞা ও কল্পনা শক্তি তাই প্রতিভাবান নেতৃত্বকে স্বপ্নদ্রষ্টা করে, সাধারণ্যে যা দূর্লভ। স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্বের প্রতিভা উপলব্ধি করতে হলে সহজ পথ হলো, স্বাধীনতা সংগ্রামের অভিযাত্রায় নেতার সামগ্রিক আয়োজন ও পরিচালনার সাফল্যের দিকে চোখ রাখা। বঙ্গবন্ধু তার দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রপঞ্চ ঘটনাকে যারা বিকৃতভাষ্যে উপস্থাপনের প্রয়াসী তারা অনর্থক নিজেদের বঞ্চিত করে। অথচ এদের জন্য মঙ্গল হতে পারে, যদি সহজদৃষ্টিতে স্বাধীনতার উজ্জ্বল প্রতিভাসকে শুধু অবলোকন বা উপভোগ করে স্বাধীনতার সুফলগুলো-যেমনটি স্বদেশের বৃক্ষ ও প্রাণীরাও উপভোগ করে।
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আগে বিচ্ছিন্নভাবে বহু আন্দোলন হয়েছে। বিদ্রোহ হয়েছে, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু বাঙালি জাতির শোষণ বঞ্চনা, পশ্চাদপদতা ও পরাভব থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ যে স্বাধীনতা অর্জন এই উপলব্ধি ও তা অর্জনের জন্য জাতিকে উদ্ধুদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ করা এক মহৎ কর্মটি বঙ্গবন্ধু সম্পাদন করেন। এর শৈল্পিক ও সৃজনশীল, যার অপার মূল্য ও গুরুত্ব পরিমাপ্য শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধের সাফল্যে। সৃজনশীল মনই বিচিত্রসব রং এর বিন্দু ও রেখাকে সমন্বিত করে অর্থপূর্ণ দৃশ্যে। লাখো প্রাণের মূল্যে, নিযুত মুক্তিযোদ্ধার আত্মোৎসর্গে, স্বাধীনতাকামী মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বহুমাত্রিক এক প্রতিভাস। দেশপ্রেমের আলোকিত আভা ও আত্মপ্রত্যয়ের উজ্জ্বল শিখা ও প্রতিরোধ- বিজয় অর্জনের উত্তপ্ত মশাল যিনি বাঙালি জাতির মনে প্রজ্জ্বলিত করেন, তিনি শেখ মুজিব।
বাঙালি জাতির মনে যে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি আছে, তাদের উদ্দীপিত ও উদ্ভাসিক করা যে সম্ভব এই সত্য তিনি উদঘাটন করেন। স্বপ্ন দেখেও যা পারেননি শেরেবাংলা ও সোহরাওয়ার্দী। বাঙালির আত্মমর্যাদাবোধের আগুন প্রজ্জ্বলিত করে মনের উত্তাপ ও উজ্জ্বলতায় শেখ মুজিব তা আবিষ্কার করেন। তিনি কতটা অপরিহার্য ছিলেন, তার প্রমাণ-যখন দেখি,কত স্তিমিত ও অনুজ্জ্বল বাঙালি চেতনা সহস্র বছর ধরে। কী আশ্চর্য অন্ধকারে অসাধারণ উজ্জ্বল নক্ষত্ররূপী মূলনীতিগুলো হারিয়ে যায় একটি মানুষের হত্যায়। আকাশের কোন নক্ষত্রই কি এতো উজ্জ্বল, যা নিভে গেলে আকাশশুদ্ধ অন্ধকার হয়ে যায়? বাঙালি তার ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে অর্জিত জাতীয় চেতনায়, সেই মানুষগুলো তার প্রকৃত পরিচয় হারিয়ে রাতারাতি বাংলাদেশী হয়ে যায়, যেমনটি ঘটে ব্যবহৃত সামগ্রী যেমন আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, জুতার বেলায়। শব্দ পরিবর্তন কোন নিরীহ ব্যাকরণের ব্যাপার নয়। প্রতিটি শব্দের অর্থ অর্জন করে ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে, এক সজীব মিথস্ক্রিয়ায়। ভারী পরমাণুগুলো যেমন সৃষ্টি হয় অতিকায় নক্ষত্রের প্রচন্ড উত্তপ্ত গহ্বরে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দুর্বিষহ যন্ত্রণা ও তীব্রসব উপলব্ধি আবহে তেমনি সৃষ্টি হয়েছে নতুন কিছু শব্দ। বিমূর্ত শব্দের উপরে এ আগ্রাসন কাকতালীয় ঘটনা নয়,গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার।
বিশ বছর ধরে গবেষণা করে নিউটন আলোক বিষয়ে বিশাল একটি পান্ডুলিপি রচনা করেন। একদিন সন্ধ্যায় তাঁর পোষা কুকুরটিকে ঘরে রেখে বাইরে হাঁটতে বের হন নিউটন। সুযোগে তাঁর কুকুরটি জ্বলন্ত মোমবাতি ফেলে দিয়ে পান্ডুলিপিটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিউটন এসে দেখেন তাঁর পান্ডুলিপি দাউ দাউ করে জ্বলছে। কুকুরটি আনন্দে নাচছে, সেই জ্বলন্ত শিখার চারপাশে। নিউটন মর্মান্তিক এদৃশ্য দেখে বলেন, এতো কষ্টের, দীর্ঘসাধনার ফসল যে পুড়ে যাচ্ছে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় দুঃখের নয়, এর চেয়েও বড় বেদনার হলো, কুকুর আনন্দে নাচছে অথচ বুঝতে পারছে না ও কি করেছে?
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মানবরুপী নরপশুরাও কি বুঝতে পেরেছিল কি করেছে ওরা?

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।