সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

তেঁতুলিয়ায় ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন বৃদ্ধ দম্পত্তির। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাবেদুর রহমান জাবেদ, তেঁতুলিয়া ( পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:- পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত আসমানি কবিতার লাইন গুলো যেন ফুটে উঠেছে তেঁতুলিয়ার এক বৃদ্ধ দম্পত্তির জীবনে। ঝুপরি ঘরেই বসবাস তাদের। অভাব অনটন আর এক বুক জ্বালায় ঝেঁকে বসেছে পরিবারটিকে। রাতে ছেড়া কাঁথা আর শাড়ী মুড়ায়ে ঘুমায় তারা।
উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের গড়াগছ গ্রামের কফিলউদ্দীন (৭০) ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম দম্পত্তির বাড়ির দৃশ্য। বেশ কয়েক বছর থেকে বিভিন্ন রোগে শোকে বেঁচে আছে তারা। এ যেন অন্য এক মানবেতর জীবন যাপন কফিল উদ্দিনের। কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাস থেকে মুক্তি পেতে শাড়ির আঁচল আর ছেড়া কাঁথাই যেন তাদের শান্তির পরশ। সামনে বর্ষায় তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিয়ে চিন্তায় ভুগছে ওই দম্পতি ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা বেড়া জরার্জীন পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়ি একটি ছোট্ট শোয়ার ঘর সামান্য দুরে দিনমুজুর ছেলের ঘর । পাশে অ-¯^াস্থ্যকর টয়লেট। পড়নে হালকা পাতলা শাড়ি, ঠান্ডায় সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। শত কষ্টের মাঝেও বেঁচে থাকতে চায় তারা। সংসারের অভাব অনাটনের কারনে একমাত্র সন্তানকে পড়ালেখা করতে পারেন নাই। বিয়ে করে দুই সন্তানের জনক। তাই সে দিনমুজুর হিসেবে অন্যের বাড়িতে কাজ করে থাকেন।
ছেলে শরিফুল জানান, এনজিও থেকে ঋন নিয়ে ৭/৮ বছর আগে একটি ঘরটি তৈরি করেছি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা,বাবা, স্ত্রী সন্তানসহ ৬ সদস্যেও পরিবার চালাতে হয়। যেখানে খাবার টাকাই জুটেনা সেখানে ঘর মেরামত করার মত কোন টাকা পয়সা পাবো কোথায়। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে আমার। আমার বাবা শীত সহ্য করতে না পেরে রাতে ছেড়া কাঁথা শাড়ির আঁচলে ঘুমায়। রাতে শীতের যন্ত্রনায় আমার মা বাবার ঘুম হয় না। সরকার আমার বাবাকে একটি ঘর দিলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকব।

কফিল উদ্দিন জানান, মুজিব শতবার্ষিকীতে ভুমিহীনদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই ঘর জুটেনি আমার ভাগ্যে। আমার কোন সহায় সম্পত্তি নেই, মাত্র ৩ শতক জমির উপর পলিথিনে মোড়ানো কুঁড়ে ঘরে আছি। আর সন্তানের প্রতিদিনে রোজগারের টাকায় আমার ওষুধসহ সংসারের অন্যান্য খরচ চলে। কফিল উদ্দিন কেঁদে কেঁদে বলেন, আমরা অনেক সময় ৩/৪ দিন পর্যন্ত না খেয়েও দিন কাটাই। কিন্তু কোন ব্যক্তিকে আমাদের কষ্টের কথা বুঝতে দেই না, আর বলেই বা কি লাভ। কোন ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের সহযোগিতা করে নাই। মুজুরি দেয়া আমার প¶ে সম্ভব হয় নয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তারেক হোসেন জানান, কফিল উদ্দিন সাহেবের বাড়িতে গিয়েছিলাম দেখেছি উনি একজন অসহায় মানুষ উনাকে সরকারি ভাবে ঘর নির্মান করে দেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বরাদ্দ আসলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে বলে আশা করছি।
এব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, আমরা তো এমন পরিবারই খুজে থাকি। যেখানেই এমন অসহায় লোক আছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি ঘর নির্মান করে দিয়ে থাকি। কফিল উদ্দিনকে ঘর নির্মান করে দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

তেঁতুলিয়ায় ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন বৃদ্ধ দম্পত্তির। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০১:০৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১

জাবেদুর রহমান জাবেদ, তেঁতুলিয়া ( পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:- পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত আসমানি কবিতার লাইন গুলো যেন ফুটে উঠেছে তেঁতুলিয়ার এক বৃদ্ধ দম্পত্তির জীবনে। ঝুপরি ঘরেই বসবাস তাদের। অভাব অনটন আর এক বুক জ্বালায় ঝেঁকে বসেছে পরিবারটিকে। রাতে ছেড়া কাঁথা আর শাড়ী মুড়ায়ে ঘুমায় তারা।
উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের গড়াগছ গ্রামের কফিলউদ্দীন (৭০) ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগম দম্পত্তির বাড়ির দৃশ্য। বেশ কয়েক বছর থেকে বিভিন্ন রোগে শোকে বেঁচে আছে তারা। এ যেন অন্য এক মানবেতর জীবন যাপন কফিল উদ্দিনের। কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাস থেকে মুক্তি পেতে শাড়ির আঁচল আর ছেড়া কাঁথাই যেন তাদের শান্তির পরশ। সামনে বর্ষায় তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিয়ে চিন্তায় ভুগছে ওই দম্পতি ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা বেড়া জরার্জীন পলিথিন মোড়ানো ঝুপড়ি একটি ছোট্ট শোয়ার ঘর সামান্য দুরে দিনমুজুর ছেলের ঘর । পাশে অ-¯^াস্থ্যকর টয়লেট। পড়নে হালকা পাতলা শাড়ি, ঠান্ডায় সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। শত কষ্টের মাঝেও বেঁচে থাকতে চায় তারা। সংসারের অভাব অনাটনের কারনে একমাত্র সন্তানকে পড়ালেখা করতে পারেন নাই। বিয়ে করে দুই সন্তানের জনক। তাই সে দিনমুজুর হিসেবে অন্যের বাড়িতে কাজ করে থাকেন।
ছেলে শরিফুল জানান, এনজিও থেকে ঋন নিয়ে ৭/৮ বছর আগে একটি ঘরটি তৈরি করেছি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে মা,বাবা, স্ত্রী সন্তানসহ ৬ সদস্যেও পরিবার চালাতে হয়। যেখানে খাবার টাকাই জুটেনা সেখানে ঘর মেরামত করার মত কোন টাকা পয়সা পাবো কোথায়। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে আমার। আমার বাবা শীত সহ্য করতে না পেরে রাতে ছেড়া কাঁথা শাড়ির আঁচলে ঘুমায়। রাতে শীতের যন্ত্রনায় আমার মা বাবার ঘুম হয় না। সরকার আমার বাবাকে একটি ঘর দিলে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকব।

কফিল উদ্দিন জানান, মুজিব শতবার্ষিকীতে ভুমিহীনদের ঘর বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেই ঘর জুটেনি আমার ভাগ্যে। আমার কোন সহায় সম্পত্তি নেই, মাত্র ৩ শতক জমির উপর পলিথিনে মোড়ানো কুঁড়ে ঘরে আছি। আর সন্তানের প্রতিদিনে রোজগারের টাকায় আমার ওষুধসহ সংসারের অন্যান্য খরচ চলে। কফিল উদ্দিন কেঁদে কেঁদে বলেন, আমরা অনেক সময় ৩/৪ দিন পর্যন্ত না খেয়েও দিন কাটাই। কিন্তু কোন ব্যক্তিকে আমাদের কষ্টের কথা বুঝতে দেই না, আর বলেই বা কি লাভ। কোন ইউপি সদস্য, ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের সহযোগিতা করে নাই। মুজুরি দেয়া আমার প¶ে সম্ভব হয় নয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তারেক হোসেন জানান, কফিল উদ্দিন সাহেবের বাড়িতে গিয়েছিলাম দেখেছি উনি একজন অসহায় মানুষ উনাকে সরকারি ভাবে ঘর নির্মান করে দেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বরাদ্দ আসলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে বলে আশা করছি।
এব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহা জানান, আমরা তো এমন পরিবারই খুজে থাকি। যেখানেই এমন অসহায় লোক আছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সরকারি ঘর নির্মান করে দিয়ে থাকি। কফিল উদ্দিনকে ঘর নির্মান করে দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।