ঘুষ কেলেংকারিতে ফেঁসে যাচ্ছেন কাঠালিয়া ভূমি কর্মকর্তা! আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ২০৭ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঠালিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমিত সাহা বেসরকারি চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে নিকট আত্মীয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে প্রতিমাসে ঘুষের লাখ লাখ টাকা প্রেরণ করেছে মর্মে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। মোবাইল কোর্ট, জমির নামজারী, সইমোহর পর্চা, জলাশয় সংস্কার (খাল ও পুকুর) প্রকল্প, গাছ বিক্রিসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে এ হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেছে বলে সরেজমিন অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ২২ বছর পর কাঠালিয়ার উপজেলা ভূমি অফিসে গত ০৮ অক্টোবর ২০২০ তারিখে যোগদানের পর মাত্র ৩ মাসে এসিল্যান্ড সুমিত সাহা ভূমি অফিস ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে বলেও স্থানীয় একাধিক সূত্র অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি ২০২১ইং তারিখ মশাবুমিয়া গ্রামের জৈনিক মো. অলিউল্লাহ আহাদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুমিত সাহার ঘুষ বাণিজ্যের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে প্রতিকার চেয়ে সচিব বরাবরে একটি অভিযোগ করেন।
অপরদিকে একটি সূত্র থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র ঘেটে দেখা গেছে- সুমিত সাহার ভাই রবিন সাহার ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড হিসাব নম্বর-০১৫২০৫০০২৫৩৭৪ এ গত ২৪ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ এক লক্ষ টাকা জমা করা হয়েছে, একই দিনে অন্য এক নিকট আত্মীয় সিবানী সাহা, যমুনা ব্যাংক লিমিটেড হিসাব নম্বর-০০৮৭০৩১০০০৮৬১৯ এ দুই লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছে।
এসিল্যান্ডের নিজ একাউন্ট ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড হিসাব নং ১১৮১০৫৫৫৩২৮০০ এ গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ ত্রিশ হাজার, ৩১ ডিসেম্বর চল্লিশ হাজার ও ১০ ডিসেম্বর পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা করেন। এছাড়া গত ২১ ডিসেম্বর ২০২০ ব্র্যাক ব্যাংকের ১৫০৩২০৩৬২৯৪২৪০০ হিসাব নম্বরে এক লক্ষ পনের হাজার টাকা জমা হয়েছে। যাহার রিসিভ নম্বর ৪০৪৩২৯২৬৪৩৫৫। সুমিত সাহা নাজ প্রোপারির্টিজ লিঃ, ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব নম্বর-১৫০৩২০৩৬২৯৪২৪০০১ এ প্রতি মাসে টাকা জমা করে থাকেন।
উল্লেখ্য যে, গত ২৫ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে কাঠালিয়ার মেসার্স ত্বহা ব্রিকস ফিল্ডে এসিল্যান্ড সুমিত সাহার নেতৃত্বে নানা অভিযোগ তুলে দশ লাখ টাকা দাবি ও টাকা না পেয়ে ভাটার অপর পাটনার মালিক মো. এনামুল হকের শ্বশুর হাবিবুর রহমান ও কর্মচারী মফিজুলকে আটক করে। পরে ৪লাখ টাকা নিয়ে আটক দুইজনকে ছেড়ে দিলেও জরিমানার রশিদে দুই লক্ষ টাকা লিখে দিয়ে বাকী ২ লাখ লোপাট করে দেন। এঘটনা সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসলে ঝালকাঠিসহ কাঠালিয়া এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী ২ জানুয়ারি মঙ্গলবারের মধ্যে এসিল্যান্ড সুমিত সাহা ও নাজির মাইনুলকে শোকজ করেন এবং শোকজের জবাব চাওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শোকজের যথার্থ জবাব না পেলে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।’


























