সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে গাবখান নদীর ভাঙন রোধের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন নতুন কমিটির উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে মিরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদের চিত্র রাজাপুরে মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ১, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৬ মাসের কারাদণ্ড বানারীপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন,মাদক কারবারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি কাঠালিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুসন্ধানের জের:সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি, নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা অপু সুগন্ধার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে দক্ষিণ ভূতেরদিয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাঁচাতে মানববন্ধনে শত শত শিক্ষার্থী। বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা ডাসার উপজেলা বিএনপি নেতা সালাম খান সরকারি গাছ কাটতে গিয়ে অবরুদ্ধ ঝালকাঠিতে শতবর্ষী গাছ কাটার ৬ মাসেও নেই আইনি ব্যবস্থা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

কাঠালিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুসন্ধানের জের:সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি, নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা অপু

কাঠালিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুসন্ধানের জের:সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি, নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা অপু

ঝালকাঠি প্রতিনিধি,মো:মেহেদী হাসান
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ এক চিকিৎসকের অবৈধ কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় তিন সংবাদকর্মী লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক এক জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতার ছত্রছায়ায় এই অপচিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি করা হয়।

​আজ (২৭ আগস্ট) কাঠালিয়া উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা হলেন—ইমরান মুন্সি, রাহাতুজ্জামান এবং মেহেদী হাসান।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, কাঠালিয়া সদরে ডিএমএফ ডা. সুজিত বৈদ্য দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গত বছরের ২২ মার্চ তার রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে অনুসন্ধানে ছিলেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

​এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে ডা. সুজিত বৈদ্যের পক্ষে অবস্থান নেন ভবন মালিক ও শেল্টারদাতা অপু শিকদার। জানা যায়, অপু শিকদার উপজেলা ছাত্রলীগের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে আজকের ঘটনায় সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে আসেন এবং এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটান।

​ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে অপু শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে যত অনিয়মই হোক, তা আমাকে জানিয়ে সংবাদ করতে হবে। তার কোনো রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বা ডকুমেন্টস না থাকলেও সে চিকিৎসা করবে, সেটা আমরা দেখব। এখানে ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) আছেন, প্রশাসন দেখবে; আপনারা সংবাদ প্রকাশ করতে পারবেন না।”

​এ সময় সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয় এবং একপর্যায়ে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন অপু শিকদার। তিনি আরও ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় বলেন, “আমরা যত অন্যায়ই করি, তা উপজেলা প্রশাসন দেখে না; তোমরা কেন সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছো?”

​স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সাবেক এক জেলা পরিষদ সদস্য এবং স্থানীয় ছাত্রলীগের এই নেতার প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই ধরনের অবৈধ অপচিকিৎসা ও নানা অনিয়ম চলে আসছে।

​ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO)-কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​এদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিবন্ধনহীন এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাধারণ রোগীদের প্রেসক্রিপশনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন (হায়ার এন্টিবায়োটিক) ওষুধ নির্বিচারে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা চললেও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর কোনো তদারকি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

​পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে হেনস্তা এবং চাঁদাবাজির এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। অবিলম্বে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা অপু শিকদার ও ভুয়া চিকিৎসক সুজিত বৈদ্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কাঠালিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুসন্ধানের জের:সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি, নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা অপু

কাঠালিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুসন্ধানের জের:সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি, নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা অপু

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ এক চিকিৎসকের অবৈধ কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় তিন সংবাদকর্মী লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক এক জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতার ছত্রছায়ায় এই অপচিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সাংবাদিকদের আটকে রেখে চাঁদা দাবি করা হয়।

​আজ (২৭ আগস্ট) কাঠালিয়া উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। হেনস্তার শিকার সাংবাদিকরা হলেন—ইমরান মুন্সি, রাহাতুজ্জামান এবং মেহেদী হাসান।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, কাঠালিয়া সদরে ডিএমএফ ডা. সুজিত বৈদ্য দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। গত বছরের ২২ মার্চ তার রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে অনুসন্ধানে ছিলেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

​এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে ডা. সুজিত বৈদ্যের পক্ষে অবস্থান নেন ভবন মালিক ও শেল্টারদাতা অপু শিকদার। জানা যায়, অপু শিকদার উপজেলা ছাত্রলীগের সাথে সরাসরি জড়িত। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে আজকের ঘটনায় সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে আসেন এবং এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটান।

​ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে অপু শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, “এখানে যত অনিয়মই হোক, তা আমাকে জানিয়ে সংবাদ করতে হবে। তার কোনো রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ বা ডকুমেন্টস না থাকলেও সে চিকিৎসা করবে, সেটা আমরা দেখব। এখানে ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) আছেন, প্রশাসন দেখবে; আপনারা সংবাদ প্রকাশ করতে পারবেন না।”

​এ সময় সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয় এবং একপর্যায়ে তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেন অপু শিকদার। তিনি আরও ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় বলেন, “আমরা যত অন্যায়ই করি, তা উপজেলা প্রশাসন দেখে না; তোমরা কেন সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছো?”

​স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সাবেক এক জেলা পরিষদ সদস্য এবং স্থানীয় ছাত্রলীগের এই নেতার প্রত্যক্ষ ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এই ধরনের অবৈধ অপচিকিৎসা ও নানা অনিয়ম চলে আসছে।

​ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নিতে কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UH&FPO)-কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​এদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিবন্ধনহীন এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে সাধারণ রোগীদের প্রেসক্রিপশনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন (হায়ার এন্টিবায়োটিক) ওষুধ নির্বিচারে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা চললেও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর কোনো তদারকি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

​পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে হেনস্তা এবং চাঁদাবাজির এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। অবিলম্বে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা অপু শিকদার ও ভুয়া চিকিৎসক সুজিত বৈদ্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।