সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে রুদ্ররূপ: বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাহাদ সুমন,
বিশেষ প্রতিনিধি
সন্ধ্যা কোন এলোকেশী তরুণীর নাম নয়,সন্ধ্যা একটি রাক্ষুসী নদীর নাম যার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বানারীপাাড়ার বিস্তীর্ণ জনপদ। এই সন্ধ্যার ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় ইতোমধ্যেই উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মনকাঠি, জম্বদ্বীপ,কাজলাহার, সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খোদাবখসা, খেজুরবাড়ী, চাখার ইউনিয়নের চাউলাকাঠি, সোনাহার হক সাহেবেরহাট,কালিবাজার, সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের নলশ্রী,দিদিহার, মসজিদবাড়ি,তালাপ্রসাদ, জিরারকাঠি ও দাসেরহাট, বাইশারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার, নাটুয়ারপাড়, উত্তরকুল, উত্তর নাজিরপুর, দান্ডয়াট শিয়ালকাঠি, ও বৌসেরহাট এবং ইলুহার ইউনিয়নের ইলুহার গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বেশিরভাগ অংশ উপজেলার মানচিত্রে থাকলেও সরেজমিন হারিয়ে গেছে। সন্ধ্যার ভাঙনে ধারাবাহিকভাবে হাজারো পরিবার হারিয়েছেন তাদের ভিটেমাটি ঘর -বাড়ি। বসতবাড়ি ছাড়াও সন্ধ্যা তার গর্ভে গ্রাস করেছে বহু রাস্তা-ঘাট মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ খেলারমাঠসহ ফসলিজমি। ভিটেমাটি ও ফসলিজমিসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো পরিবার। অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পে। বর্তমানে সন্ধ্যার যে রাক্ষুসেভাব তাতে নদী তীরের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে রাত-দিন পাড় করছেন। তবে শতবছর পেরিয়ে গেলেও নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগিরা। তারা জানান, বছর দুয়েক আগে সন্ধ্যার ভাঙ্গনরোধে তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম প্রথম বারের মতো হাজার হাজার বালুবর্তি জিও ব্যগ ফেলে নদী ভাঙ্গন রোধকরার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কারন সন্ধ্যার বুক কেটে যত্রতত্র বালু উত্তোলন করার ফলে নদীর তলদেশে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়ে গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙন আরও রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের উত্তর নাজিরপুর গ্রামের দান্ডয়াটের (ধানের হাট) সংলগ্ন মেসার্স মুনা ব্রিকসের একাংশ এবং হাটের দুটি দোকান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তর নাজিরপুর দান্ডয়াট জামে মসজিদ,গুচ্ছগ্রাম ও হাটের ৭/৮ টি দোকান ভাঙন হুমকির মুখে রয়েছে। এর আগে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খোদাবখ্সা গ্রামের বয়াতি বাডির বহু পুরনো জামে মসজিদ ও মসজিদ লাগোয়া আয়রণ ব্রীজটি নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরে বসবাসকারী পরিবার গুলোর। তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নদী ভাঙ্গন রোধে টেকসই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য দাবী জানিয়েছেন। সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ উত্তর নাজিরপুর গ্রামের মেসার্স মুনা ব্রিকসের স্বত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম মনির জানান,ইটসহ ভাটার একাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তিনি ৫/৭ লাখ চাকার ক্ষতির সন্মূখিন হয়েছেন। রাতে ভাঙায় তিনি ইট সরাতে পারেননি। দান্ডয়াটের চা দোকানী হাবিবুর রহমান ফকির ও মুদি দোকানী মারুফ ফকির জানান, রাতের আধারে মালপত্রসহ দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা সর্বশান্ত হয়ে পথে বসেছেন। এক রাতে তারা পথের ফকির হয়ে গেছেন। উত্তর নাজিরপুর জামে মসজিদের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন ফকির জানান ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে মসজিদটি। উপজেলার খোদাবখ্স গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান গত সোমবার দুপুরে বয়াতিবাড়ির বহু পুরনো মসজিদ ও এর সংলগ্ন ব্রিজ নদী গ্রাস করায় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ওই এলাকার বেশকিছু বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট যেকোন সময় নদী গর্ভে চলে যাবে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থরা ক্ষতিপূরণসহ নদী ভাঙনরোধে যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধসহ কার্যকরী পদক্ষেপ চান।
এদিকে এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ অন্তরা হালদার জানান, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে বরিশাল পানি উন্নয়নবোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। ###

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে রুদ্ররূপ: বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ

আপডেট সময় : ০৫:৫০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

রাহাদ সুমন,
বিশেষ প্রতিনিধি
সন্ধ্যা কোন এলোকেশী তরুণীর নাম নয়,সন্ধ্যা একটি রাক্ষুসী নদীর নাম যার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বানারীপাাড়ার বিস্তীর্ণ জনপদ। এই সন্ধ্যার ভাঙ্গা-গড়ার খেলায় ইতোমধ্যেই উপজেলার সদর ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মনকাঠি, জম্বদ্বীপ,কাজলাহার, সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খোদাবখসা, খেজুরবাড়ী, চাখার ইউনিয়নের চাউলাকাঠি, সোনাহার হক সাহেবেরহাট,কালিবাজার, সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের নলশ্রী,দিদিহার, মসজিদবাড়ি,তালাপ্রসাদ, জিরারকাঠি ও দাসেরহাট, বাইশারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার, নাটুয়ারপাড়, উত্তরকুল, উত্তর নাজিরপুর, দান্ডয়াট শিয়ালকাঠি, ও বৌসেরহাট এবং ইলুহার ইউনিয়নের ইলুহার গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের বেশিরভাগ অংশ উপজেলার মানচিত্রে থাকলেও সরেজমিন হারিয়ে গেছে। সন্ধ্যার ভাঙনে ধারাবাহিকভাবে হাজারো পরিবার হারিয়েছেন তাদের ভিটেমাটি ঘর -বাড়ি। বসতবাড়ি ছাড়াও সন্ধ্যা তার গর্ভে গ্রাস করেছে বহু রাস্তা-ঘাট মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ খেলারমাঠসহ ফসলিজমি। ভিটেমাটি ও ফসলিজমিসহ সব হারিয়ে নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হাজারো পরিবার। অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পে। বর্তমানে সন্ধ্যার যে রাক্ষুসেভাব তাতে নদী তীরের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে রাত-দিন পাড় করছেন। তবে শতবছর পেরিয়ে গেলেও নদী ভাঙ্গন রোধে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগিরা। তারা জানান, বছর দুয়েক আগে সন্ধ্যার ভাঙ্গনরোধে তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম প্রথম বারের মতো হাজার হাজার বালুবর্তি জিও ব্যগ ফেলে নদী ভাঙ্গন রোধকরার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। কারন সন্ধ্যার বুক কেটে যত্রতত্র বালু উত্তোলন করার ফলে নদীর তলদেশে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়ে গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙন আরও রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের উত্তর নাজিরপুর গ্রামের দান্ডয়াটের (ধানের হাট) সংলগ্ন মেসার্স মুনা ব্রিকসের একাংশ এবং হাটের দুটি দোকান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তর নাজিরপুর দান্ডয়াট জামে মসজিদ,গুচ্ছগ্রাম ও হাটের ৭/৮ টি দোকান ভাঙন হুমকির মুখে রয়েছে। এর আগে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের খোদাবখ্সা গ্রামের বয়াতি বাডির বহু পুরনো জামে মসজিদ ও মসজিদ লাগোয়া আয়রণ ব্রীজটি নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরে বসবাসকারী পরিবার গুলোর। তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নদী ভাঙ্গন রোধে টেকসই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য দাবী জানিয়েছেন। সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ উত্তর নাজিরপুর গ্রামের মেসার্স মুনা ব্রিকসের স্বত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম মনির জানান,ইটসহ ভাটার একাংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তিনি ৫/৭ লাখ চাকার ক্ষতির সন্মূখিন হয়েছেন। রাতে ভাঙায় তিনি ইট সরাতে পারেননি। দান্ডয়াটের চা দোকানী হাবিবুর রহমান ফকির ও মুদি দোকানী মারুফ ফকির জানান, রাতের আধারে মালপত্রসহ দোকানঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা সর্বশান্ত হয়ে পথে বসেছেন। এক রাতে তারা পথের ফকির হয়ে গেছেন। উত্তর নাজিরপুর জামে মসজিদের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন ফকির জানান ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে মসজিদটি। উপজেলার খোদাবখ্স গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান গত সোমবার দুপুরে বয়াতিবাড়ির বহু পুরনো মসজিদ ও এর সংলগ্ন ব্রিজ নদী গ্রাস করায় এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ওই এলাকার বেশকিছু বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট যেকোন সময় নদী গর্ভে চলে যাবে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থরা ক্ষতিপূরণসহ নদী ভাঙনরোধে যত্রতত্র বালু উত্তোলন বন্ধসহ কার্যকরী পদক্ষেপ চান।
এদিকে এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ অন্তরা হালদার জানান, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে বরিশাল পানি উন্নয়নবোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। ###