সংবাদ শিরোনাম ::
আর কত ভাঙলে কূল খুঁজে পাবে বাবুগঞ্জের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রামের মানুষ দর্শনাস্থ কেরুজ চিনিকল আবারও চিনিতে লোকসান,অন্য ৫ বিভাগে মুনাফা অর্জন ঝালকাঠিতে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির উদ্যোগে ৪ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ঝালকাঠিতে ১৪ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ, অভিযুক্ত আটক নবাগত পুলিশ সুপার হিসেবে ঝালকাঠিতে যোগদান ও দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন মেরিন সুলতানা ​ঝালকাঠির রাজাপুরে ভিডিও কলে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার সময় গৃহবধূর আত্মহত্যা ​ ঝালকাঠিতে রোহিঙ্গা সন্দেহে বাংলাদেশি পরিচয়ে পাসপোর্ট করতে আসা ২ নারী আটক বইকে নিজের পরম বন্ধু বানিয়ে নাও: কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ঝালকাঠিতে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তরুণদের নিয়ে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘যুব শান্তি মেলা বাবুগঞ্জে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক দগ্ধ, চিকিৎসার জন্য সাহায্য চান তার মা

দর্শনাস্থ কেরুজ চিনিকল আবারও চিনিতে লোকসান,অন্য ৫ বিভাগে মুনাফা অর্জন

দর্শনাস্থ কেরুজ চিনিকল আবারও চিনিতে লোকসান,অন্য ৫ বিভাগে মুনাফা অর্জন

মাহমুদ হাসান রনি,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনাস্থ কেরু এ্যান্ড কোম্পানি অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও চিনি বিভাগে লোকসান করলেও অন্য ৫ বিভাগে লাভ করেছে।ফলে সরকারি কোষাগার ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দিয়েছে।
মিল সূত্রে দর্শনাস্থ কেরু এ্যান্ড কোম্পানি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিনি বিভাগে লোকসান করলেও ৬ বিভাগ মিলে অর্জন করেছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা মুনাফা, যা কেরুজ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বকালের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের তুলনায় চিনি কারখানার লোকসানও এবার কিছুটা কমেছে।সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরুজ কমপ্লেক্স সরকারের রাজস্ব খাতে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দিয়েছে। এর পাশাপাশি চিনি কারখানার ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান পুষিয়েও প্রতিষ্ঠানটির নিট আয় হয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।উল্লেখ এবার কেরুজ কমপ্লেক্সের ছয়টি বিভাগের মধ্যে পাঁচটিই মুনাফা অর্জন করেছে। সবচেয়ে বেশি মুনাফা এসেছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বিভাগে ফরেন লিকার উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৮৬২ ক্রেস। এবং বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ক্রেস। একই সময়ে বোতলজাত বাংলা মদ উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮১০ কেস এবং বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮ কেস। সব মিলিয়ে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে মুনাফা অর্জন হয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। অন্যদিকে নয়টি খামারে ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, আকন্দবাড়িয়া পরীক্ষামূলক খামারে ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা, আকন্দবাড়িয়া বায়োফার্টিলাইজার বা জৈব সার কারখানায় এক কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরুজ কমপ্লেক্সের মোট মুনাফা হয়েছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। সে বছর চিনি কারখানায় লোকসান হয়েছিল ৬২ কোটি ১৮ লাখ ২২ হাজার ৪৫১ টাকা। একই অর্থবছরে ডিস্টিলারি বিভাগে মুনাফা ছিল ১৯০ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৮৪ টাকা। নয়টি বাণিজ্যিক খামারে ৩৮ লাখ ৯ হাজার ৭১২ টাকা, আকন্দবাড়িয়া পরীক্ষামূলক খামারে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ টাকা, বায়োফার্টিলাইজারে ৭৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যালে ৫ লাখ ২০ হাজার ৪৭৬ টাকা মুনাফা হয়েছিলো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কেরুজ কমপ্লেক্সের মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ হাজার ৫৬২ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়। এর মধ্যে কৃষকের জমি ছিল ৩ হাজার ৯৩৫ একর এবং কেরুজের নিজস্ব জমি ১ হাজার ৬২৫ একর। লক্ষ্য ছিল ৬৯ মাড়াই দিবসে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই এবং ৪ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন। দৈনিক গড় মাড়াই হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন এবং চিনি আহরণের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে পুরোনো চিনিকলেই মাড়াই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নির্ধারিত ৬৯ দিনের পরিবর্তে মাত্র ৫৯ দিন মাড়াই চলে। এ সময়ে আখ মাড়াই হয়েছে ৬৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন কম। চিনি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যা প্রায় ৮৫০ মেট্রিক টন কম। তবে চিনি আহরণের হার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না। মৌসুমে এ হার ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। দৈনিক গড় আখ মাড়াই হয়েছে ১ হাজার ৪২ মেট্রিক টন, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দর্শনাস্থ কেরুজ চিনিকল আবারও চিনিতে লোকসান,অন্য ৫ বিভাগে মুনাফা অর্জন

দর্শনাস্থ কেরুজ চিনিকল আবারও চিনিতে লোকসান,অন্য ৫ বিভাগে মুনাফা অর্জন

আপডেট সময় : ১২:৫৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দর্শনাস্থ কেরু এ্যান্ড কোম্পানি অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও চিনি বিভাগে লোকসান করলেও অন্য ৫ বিভাগে লাভ করেছে।ফলে সরকারি কোষাগার ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দিয়েছে।
মিল সূত্রে দর্শনাস্থ কেরু এ্যান্ড কোম্পানি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চিনি বিভাগে লোকসান করলেও ৬ বিভাগ মিলে অর্জন করেছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা মুনাফা, যা কেরুজ কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বকালের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগের অর্থবছরের তুলনায় চিনি কারখানার লোকসানও এবার কিছুটা কমেছে।সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরুজ কমপ্লেক্স সরকারের রাজস্ব খাতে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দিয়েছে। এর পাশাপাশি চিনি কারখানার ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান পুষিয়েও প্রতিষ্ঠানটির নিট আয় হয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।উল্লেখ এবার কেরুজ কমপ্লেক্সের ছয়টি বিভাগের মধ্যে পাঁচটিই মুনাফা অর্জন করেছে। সবচেয়ে বেশি মুনাফা এসেছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ বিভাগে ফরেন লিকার উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৮৬২ ক্রেস। এবং বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ক্রেস। একই সময়ে বোতলজাত বাংলা মদ উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮১০ কেস এবং বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮ কেস। সব মিলিয়ে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে মুনাফা অর্জন হয়েছে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। অন্যদিকে নয়টি খামারে ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, আকন্দবাড়িয়া পরীক্ষামূলক খামারে ৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা, আকন্দবাড়িয়া বায়োফার্টিলাইজার বা জৈব সার কারখানায় এক কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা মুনাফা অর্জিত হয়েছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরুজ কমপ্লেক্সের মোট মুনাফা হয়েছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। সে বছর চিনি কারখানায় লোকসান হয়েছিল ৬২ কোটি ১৮ লাখ ২২ হাজার ৪৫১ টাকা। একই অর্থবছরে ডিস্টিলারি বিভাগে মুনাফা ছিল ১৯০ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৮৪ টাকা। নয়টি বাণিজ্যিক খামারে ৩৮ লাখ ৯ হাজার ৭১২ টাকা, আকন্দবাড়িয়া পরীক্ষামূলক খামারে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ টাকা, বায়োফার্টিলাইজারে ৭৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যালে ৫ লাখ ২০ হাজার ৪৭৬ টাকা মুনাফা হয়েছিলো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কেরুজ কমপ্লেক্সের মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৫ হাজার ৫৬২ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়। এর মধ্যে কৃষকের জমি ছিল ৩ হাজার ৯৩৫ একর এবং কেরুজের নিজস্ব জমি ১ হাজার ৬২৫ একর। লক্ষ্য ছিল ৬৯ মাড়াই দিবসে ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই এবং ৪ হাজার ২৫৬ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন। দৈনিক গড় মাড়াই হার নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন এবং চিনি আহরণের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে পুরোনো চিনিকলেই মাড়াই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় নির্ধারিত ৬৯ দিনের পরিবর্তে মাত্র ৫৯ দিন মাড়াই চলে। এ সময়ে আখ মাড়াই হয়েছে ৬৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন কম। চিনি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন, লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় যা প্রায় ৮৫০ মেট্রিক টন কম। তবে চিনি আহরণের হার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না। মৌসুমে এ হার ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। দৈনিক গড় আখ মাড়াই হয়েছে ১ হাজার ৪২ মেট্রিক টন, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন।