বাবুগঞ্জের ইউএনওর তড়িৎ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ। শত চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না নবজাতককে
বাবুগঞ্জের ইউএনওর তড়িৎ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ। শত চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না নবজাতককে
- আপডেট সময় : ০৬:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীছাউনিতে জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে শত চেষ্টা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী সেখানে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পরে সংকটাপন্ন অবস্থায় নবজাতকটিকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৮ বছর বয়সী ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকালে যাত্রীছাউনিতে সন্তান প্রসবের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও গণমাধ্যমকর্মী সাইফুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসের প্রতিনিধি মোঃ সায়েম খানসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
নবজাতকটির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত তাকে ইউএনওর নিজস্ব গাড়িতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ওই নারীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, এটি অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক ঘটনা। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী সন্তান প্রসব করেছেন, বিষয়টি যারা প্রাথমিক পর্যায়ে দেখতে পেয়েছেন, তাদের উচিত ছিল তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ও নবজাতককে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া অথবা প্রশাসনকে জানানো। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজের গাড়িতে নবজাতককে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন মাহমুদের দাবি, সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সন্তান প্রসবের পরও দীর্ঘ সময় নবজাতকটি ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল এবং তার মা পাশে বসে ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জন্মের পর প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় নবজাতকটি কোনো ধরনের প্রাথমিক চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, জন্মের পর সময়মতো প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও উষ্ণতা নিশ্চিত না করা, দীর্ঘ সময় ঠান্ডা মেঝেতে পড়ে থাকা এবং নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে হাইপোথারমিয়া তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
নবজাতকের মৃত্যুর খবরে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ নেমে আসে। বিশেষ করে একজন অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর সন্তান জন্মের পরও দীর্ঘ সময় যথাযথ সহায়তা না পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে মানবিক দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনাটি শুধু একটি নবজাতকের মৃত্যুর খবর নয়; বরং সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের প্রতি তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা, সচেতনতা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার গুরুত্বও সামনে এনেছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত ৯৯৯, উপজেলা প্রশাসন বা নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে খবর দিলে হয়তো নবজাতকটির জন্য আরও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো।























