বাবুগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে নারীসহ ৪ জনকে গুরুতর জখম, ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ
বাবুগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে নারীসহ ৪ জনকে গুরুতর জখম, ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ
- আপডেট সময় : ০২:০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের বাবুগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। বর্তমানে তারা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো প্রধান অভিযুক্তরা কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩১ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণদিয়া এলাকায়। এ ঘটনায় ১ আগস্ট মো. জসিম উদ্দিন (৪৫) বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলাটি বাবুগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-০১, জিআর নম্বর-৪৪/২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জসিম উদ্দিন পেশায় মুদি দোকানি। আসামিরা তার আত্মীয় ও পাশাপাশি বসবাস করেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর পৈত্রিক সম্পত্তিতে গিয়ে ধান রোপণে বাধা ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাদী তার দোকান খুলে ভাই মো. মাহাবুবুর রহমান ও ভাতিজা নাঈম হোসেন নিলয়কে দোকানের সামনে রেখে বাসায় যান। এ সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিশোটা, রামদা, ছুরি, লোহার রড ও পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানের সামনে এসে হামলা চালান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামি মো. রিয়াজ রামদা দিয়ে মাহাবুবুর রহমানের মাথায় কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে তার কবজিতে গুরুতর জখম হয়। এরপর আমিনুল ইসলাম নাঈম হোসেন নিলয়ের মাথায় কোপ দিলে তার হাতেও গুরুতর জখম হয়।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। রানী বেগম তার হাতে থাকা বটি দিয়ে বাদীর স্ত্রীকে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় রিয়াজ ও আমিনুল ইসলাম রামদা দিয়ে ওই নারীর মাথা ও কানের ওপরের অংশে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আব্দুল খালেক মোল্লা নামের এক স্বজনও হামলার শিকার হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, অন্য আসামিরা লোহার রড, পাইপ, লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাদীসহ আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—মো. রিয়াজ (৩০), আমিনুল ইসলাম (১৬), মো. আবির (২৫), রানী বেগম (৪৫), মো. ফারুক হোসেন মোল্লা (৫৫), মো. শাজাহান হাওলাদার (৬২), মনোয়ারা বেগম (৫০), মো. মিরাজ হোসেন (৩৫) ও রিপা বেগম (৩০)। এছাড়া আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
আহত মাহাবুবুর রহমান, নাঈম হোসেন নিলয় ও এক নারীকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। অপর আহত আব্দুল খালেক মোল্লা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়াও বাদিপক্ষ যদি আসামিদের কোন খোঁজ পেয়ে থাকে তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাবে।























