বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান ও কর্মসংযোগ’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান ও কর্মসংযোগ’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

বরিশালে বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান ও কর্মসংযোগ’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার, ১০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০ টায় মিনিটে বরিশাল মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে বিদেশ-ফেরত অভিবাসী কর্মীদের স্থানীয় শ্রমবাজারে তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আয়োজনে এবং সুইজারল্যান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘রিইন্টিগ্রেশন অফ মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ‘বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান ও কর্মসংযোগ’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মোঃ এমদাদুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জনাব রক্ষিত ভট্টাচার্য, সিনিয়র ম্যানেজার, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। তিনি বাংলাদেশের অভিবাসন খাত, বিদেশ-ফেরত অভিবাসী কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং পুনরেকত্রীকরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বিদেশ-ফেরত অভিবাসী কর্মীরা দেশে ফিরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগসহ বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। বিদেশে অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে স্থানীয় শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে কার্যকরভাবে সংযুক্ত করা গেলে তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
বিদেশ-ফেরত কর্মীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ একটি বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা, কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি সংযোগ তৈরি করা গেলে বিদেশ-ফেরত কর্মীদের বেকারত্ব কমানো এবং তাদের আয়মূলক কর্মকাণ্ডে দ্রুত সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক জনাব এ কে এম সাহাবুদ্দিন আহমেদ।
কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক জনাব এ কে এম সাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক জনাব মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ জনাব গোলাম কবির এবং বরিশাল মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ জনাব আহমেদ আল ইমরান। এছাড়াও কর্মশালায় বরিশাল জেলার বিভিন্ন খাতের স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেঙ্গল বিস্কুট লিমিটেড, প্রিমিয়ার ফুটওয়্যার লিমিটেড, ফরচুন সুজ লিমিটেড, ইনটেক ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, এমইপি গ্রুপ, অমৃত কনজুমার ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড, রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড, আড়ং, প্রাণ গ্রুপ, জাহানারা কনসালটেশন লিমিটেড এবং আমিন ফ্যাশন লিমিটেডের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসী কর্মীদের প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় বিদেশ-ফেরত কর্মীদের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান কর্মসংস্থানের সুযোগ, নিয়োগকর্তাদের চাহিদা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কর্মীদের দক্ষতা ও স্থানীয় চাকরির চাহিদার মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনায় স্থানীয় নিয়োগকর্তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান ও সম্ভাব্য চাকরির সুযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও দক্ষতা এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কারিগরি দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ দক্ষতা, কর্মশৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ সম্পর্কে মতামত প্রদান করেন। তারা জানান, উপযুক্ত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থী পাওয়া গেলে বিদেশ-ফেরত কর্মীদের স্থানীয়ভাবে নিয়োগের সুযোগ রয়েছে এবং বিদেশে অর্জিত তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে তারা আগ্রহী। বিদেশ-ফেরত কর্মীদের চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিভি ব্যাংক তৈরি এবং নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য চাকরিপ্রার্থীদের কার্যকর সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি যোগাযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, স্থানীয় নিয়োগকর্তা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সমন্বয় জোরদার করা গেলে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরি সংযোগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে বিদেশ-ফেরত কর্মীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণ আরও কার্যকর ও টেকসই করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, মনোসামাজিক সহায়তা, কর্মসংস্থান সংযোগ, অ্যাডভোকেসি ও অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।



















