মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর কিশোর রাফিজকে হত্যা,প্রধান আসামী গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানাধীন চিলাভালকী গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আক্তারুজ্জামানের ছেলে মোঃ রাফিজ মিয়া (১৫) কে গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭ টার সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে কৌশলে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটক রাখে। একই দিনগত রাত ১১ টার দিকে অপহরকরা রাফিজের দাদীর মোবাইল ফোনে কল করে ভিকটিমের কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলিয়ে ১২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকি দিয়ে রাখে। পরবর্তীতে অপহরকরা একই নম্বর হতে একাধিকবার কল করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় নিহত রাফিজের দাদী আমেনা বেগম অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১, তাং-১০/০৬/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫) এর ৭/৮/৩০ রুজু হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলে কর্মরত এসআই আশিকুর রহমান, এসআই সৌমিত্র সাহা, এএসআই মোঃ রজিবুল হক, এএসআই আরিফুল ইসলাম এবং আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোঃ হোসেন আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানাধীন নলিয়া গ্রাম রেলস্টেশন জামালপুর বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে গত ২৬ জুন ভোর সাড়ে ৪ টার সময় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণপূর্বক হত্যা মামলার পলাতক চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার শিবপুর গ্ৰামের শুকুর আলীর ছেলে প্রধান আসামী মোঃ লাল্টু মিয়া (৪১) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিমের পিতা দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে অবস্থান করায় তাকে অপহরণ করলে প্রবাসী পিতার নিকট হতে মোটা অংকের টাকা আদায় করা সম্ভব হবে বলে আসামীরা পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক পারস্পরিক যোগসাজসে আসামীরা গত ৫ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় ভিকটিমকে ফোনে ডেকে মোটরসাইকেলযোগে চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন কুতুবপুরে জনৈক মজিদের জমি সংলগ্ন অর্জুন খালের নিকট নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমের হাত-পা বেঁধে মারধর করে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিকট কল করে নির্যাতনের চিৎকার শুনিয়ে ১২ (বার লক্ষ) লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে একই দিনগত রাত সাড়ে ১১ টার সময় গ্রেফতারকৃত আসামীসহ অন্যান্য আসামীরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে ভিকটিমকে হত্যা করে এবং লাশ অর্জুন খালে ফেলে রাখে। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পরেও একাধিকবার আসামী লাল্টু মোবাইল ফোনে মুক্তিপণের টাকা দাবি অব্যাহত রাখে।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন কুতুবপুরের লাল ব্রিজ মাঠ সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে জনৈক মজিদের জমির পুকুর হতে ভিকটিম রাফিজ মিয়ার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ।
বিচারার্থে গ্রেফতারকৃত আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামী আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামী লিটনের নামে ইতোপূর্বে ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ড ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এবং আলমডাঙ্গা থানায় পৃথক ৩টি হত্যা মামলা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষে আজ শনিবার বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসকল তথ্য জানানো হয়েছে।
























