সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাবুগঞ্জে জামায়াতের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বাবুগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত মাদারীপুরে ড্রাম বিস্ফোরণে শিশু শ্রমিকের করুণ মৃত্যু চাঞ্চল্যকর ঘটনা: চোরের আঙুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেললেন গৃহবধূ, মোবাইল নিয়ে চম্পট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান

বরিশালে অস্ত্র-মাদকসহ চিহ্নিত মাদক সম্রাট রাসেল মেম্বার আটক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
বরিশালের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী একাধিক মামলার আসামি বরিশাল সদর উপজেলা ৩নং চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রাসেল হালদার কে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ।

আজ শুক্রবার সকালে চরবাড়িয়া গাজীর খেয়াঘাট সংলগ্ন রাসেলের বাসার পাশে বিল থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। এসময় তার নিকট থেকে বেশ কয়েকটি দেশি অস্ত্র ও ৩৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাও একাধিক মামলার আসামি চরবাড়িয়ার রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

তাকে আটকের জন্য বরিশাল পুলিশের সকল ইউনিট তৎপর ছিল। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য থাকার পরে সকালে রাসেলকে আটকের উদ্দেশ্যে তার বাসার আশপাশে অবস্থান নেয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাসেল বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টা করে বাড়ির পাশে বিলের ভিতর থেকে পালাতে গেলে গোয়েন্দা ইন্সপেক্টর সগীরের নেতৃত্বে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে।

আটকের সময় রাসেলের সাথে অনেক ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে তবে রাসেলের সহযোগী ল্যাপটপ বাবু থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের কেও আইনের আওতায় আনা হতে পারে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তথ্য বলছে রাসেল হাওলাদার দেড় যুগ যাবৎ মাদকের ব্যবসা করে আসছে। তার নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তিনি গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারপর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (পলাতক) মোঃ মাহাতাব হোসেন সুরুজ অনুসারী হয়ে মাদক বিক্রির টাকা গরিবের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের পদটি বাগিয়ে নেয়।

কিন্তু ইউপি মেম্বার হবার পর তার মাদক বিক্রি চেহারা ও ক্ষমতা আরো পাল্টে যায়। এর কারণ পূর্বে পালিয়ে পালিয়ে মাদক বিক্রি করলেও ইউপি সদস্য হবার পরে চেয়ারম্যান সুরুজের ঘনিষ্ঠজন ভাবার কারণে ওপেনে মাদক বিক্রি শুরু করে।

যেহেতু রাসেল আওয়ামী লীগের প্রতিটি অনুষ্ঠানে জনবল ও অর্থ সরবরাহ করতো তাই তিনি ওই এলাকার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কাছে। ফলে তার মাদক বিক্রি যে বাধা গুলো ছিল এগুলো তিনি কাটিয়ে ওঠে তবে বরিশাল মেট্রোপলিটনের পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জুলাই আগস্ট বিপ্লবের পরে বরিশালে যোগদান করলে চরবাড়ীয়ার মাদক সম্রাট রাসেল ও কাশিপুরের অপর মাদক ডিলার একাধিক মামলার আসামি রাসেলের বিরুদ্ধে তার কাছে অভিযোগ আসতে শুরু করে।

এরপরই তিনি কঠোর হস্তে দমন করার লক্ষ্যে স্থানীয় থানা পুলিশ সহ তার গোটা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করে এবং গোয়েন্দা পুলিশের নেতৃত্বে দুই রাসেল কে আটকের জন্য জোরে সোরে মাঠ চষে বেড়ায়।

এক পর্যায়ে গত রোজার মধ্যে কাশীপুরের রাসেলকেও তিনি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও কাউনিয়া থানার সহযোগিতায় সরাসরি পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আজ সকালে দেশীয় আধুনিক একাধিক অস্ত্র সহ তাকে আটক করা হয়।

তার নিকট থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বলছেন রাসেলের কাছে একটি অবৈধ রিভাল বার থাকে যেটি উদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযান অব্যহত রয়েছে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আরো অনুরোধ জানিয়ে বলেন সমাজের অসঙ্গতি ও মাদক বিক্রেতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে এতে পুলিশের সহযোগিতা শতভাগ অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বরিশালে অস্ত্র-মাদকসহ চিহ্নিত মাদক সম্রাট রাসেল মেম্বার আটক

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৫

আজকের ক্রাইম ডেক্স
বরিশালের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী একাধিক মামলার আসামি বরিশাল সদর উপজেলা ৩নং চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রাসেল হালদার কে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ।

আজ শুক্রবার সকালে চরবাড়িয়া গাজীর খেয়াঘাট সংলগ্ন রাসেলের বাসার পাশে বিল থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। এসময় তার নিকট থেকে বেশ কয়েকটি দেশি অস্ত্র ও ৩৮০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাও একাধিক মামলার আসামি চরবাড়িয়ার রাসেল হাওলাদারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরেই অভিযোগ রয়েছে।

তাকে আটকের জন্য বরিশাল পুলিশের সকল ইউনিট তৎপর ছিল। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য থাকার পরে সকালে রাসেলকে আটকের উদ্দেশ্যে তার বাসার আশপাশে অবস্থান নেয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাসেল বুঝতে পেরে পালানোর চেষ্টা করে বাড়ির পাশে বিলের ভিতর থেকে পালাতে গেলে গোয়েন্দা ইন্সপেক্টর সগীরের নেতৃত্বে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করে।

আটকের সময় রাসেলের সাথে অনেক ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে তবে রাসেলের সহযোগী ল্যাপটপ বাবু থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের কেও আইনের আওতায় আনা হতে পারে বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তথ্য বলছে রাসেল হাওলাদার দেড় যুগ যাবৎ মাদকের ব্যবসা করে আসছে। তার নামে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তিনি গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তারপর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (পলাতক) মোঃ মাহাতাব হোসেন সুরুজ অনুসারী হয়ে মাদক বিক্রির টাকা গরিবের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের পদটি বাগিয়ে নেয়।

কিন্তু ইউপি মেম্বার হবার পর তার মাদক বিক্রি চেহারা ও ক্ষমতা আরো পাল্টে যায়। এর কারণ পূর্বে পালিয়ে পালিয়ে মাদক বিক্রি করলেও ইউপি সদস্য হবার পরে চেয়ারম্যান সুরুজের ঘনিষ্ঠজন ভাবার কারণে ওপেনে মাদক বিক্রি শুরু করে।

যেহেতু রাসেল আওয়ামী লীগের প্রতিটি অনুষ্ঠানে জনবল ও অর্থ সরবরাহ করতো তাই তিনি ওই এলাকার একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের কাছে। ফলে তার মাদক বিক্রি যে বাধা গুলো ছিল এগুলো তিনি কাটিয়ে ওঠে তবে বরিশাল মেট্রোপলিটনের পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জুলাই আগস্ট বিপ্লবের পরে বরিশালে যোগদান করলে চরবাড়ীয়ার মাদক সম্রাট রাসেল ও কাশিপুরের অপর মাদক ডিলার একাধিক মামলার আসামি রাসেলের বিরুদ্ধে তার কাছে অভিযোগ আসতে শুরু করে।

এরপরই তিনি কঠোর হস্তে দমন করার লক্ষ্যে স্থানীয় থানা পুলিশ সহ তার গোটা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ টিম গঠন করে এবং গোয়েন্দা পুলিশের নেতৃত্বে দুই রাসেল কে আটকের জন্য জোরে সোরে মাঠ চষে বেড়ায়।

এক পর্যায়ে গত রোজার মধ্যে কাশীপুরের রাসেলকেও তিনি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও কাউনিয়া থানার সহযোগিতায় সরাসরি পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আজ সকালে দেশীয় আধুনিক একাধিক অস্ত্র সহ তাকে আটক করা হয়।

তার নিকট থেকে মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বলছেন রাসেলের কাছে একটি অবৈধ রিভাল বার থাকে যেটি উদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযান অব্যহত রয়েছে। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে আরো অনুরোধ জানিয়ে বলেন সমাজের অসঙ্গতি ও মাদক বিক্রেতাদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে এতে পুলিশের সহযোগিতা শতভাগ অব্যাহত থাকবে।