সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক। ঘোড়াঘাটে রাঘব, বোয়ালদের বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন, পৌর বিএনপির মানব বন্ধন গৌরনদীতে স্কুলের টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডে তদন্ত কমিটি গঠন আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব কেদারপুর ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকার পারভেজ মৃধার। বানারীপাড়ায় বিশ্ব নবীকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবককে জুতার মালা পড়িয়ে ঘুরানো হলো

নৌকা না হারানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইউএনওর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শহীদুল ইসলাম শহীদ প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে এবারের ভোট ব্যবস্থাপনা ছিল অন্যরকম। কুয়াশার রাতে নদীপথে নৌকা না হারাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছিল উপজেলা প্রশাসনের। নদীপথের আট কিলোমিটার অংশে চারটি বাঁকে স্থাপিত ছিল ১২০টি খুঁটি। প্রতিটি খুটিতে ছিল বিশেষ স্টিকার সম্বলিত নম্বর। যা অন্ধকারে টর্চের আলোয় তা জ্বলজ্বল করে। চারটি বাঁকের প্রতিটিতে হ্যান্ডমাইকসহ ছিলেন পাঁচ-ছয়জনের দল। তাঁরা বাঁকে দাঁড়িয়ে নৌকাকে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে এবার দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্গম চরের ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৫ আসন। ফুলছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের চারটিই ব্রহ্মপুত্রের ওপারে অবস্থিত। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে এরেন্ডাবাড়ি, ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও গজারিয়া (আংশিক)। উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৫৭টি। এরমধ্যে চারটি ইউনিয়নের ২৯টি কেন্দ্র দুর্গম চরাঞ্চলে। মুল ভুখন্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এরেন্ডাবাড়ি, ফুলছড়ি ও ফজলুপুর ইউনিয়নের ২৭টি ও গজারিয়া ইউনিয়নের দুইটি কেন্দ্র চরে অবস্থিত। কালিরবাজারস্থ ফুলছড়ি উপজেলা হেড়কোয়াটার থেকে এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের দুরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে নদীপথে আট কিলোমিটার। এসব কোন্দ্রের মধ্যে ঘুরে ঘুরে যেতে হয়। পানি কম থাকার কারণে কিছু কেন্দ্রে যেতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লেগে যায়। এরেন্ডাবাড়ি, কিশামতধলি, চরহরিচন্ডি, পাগলারচর, ডাকাতিয়ারচর ও ফেন্ডশীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌঁছাতে পাঁচঘন্টা পযন্ত সময় লাগে।

পুর্ববর্তী সকল নির্বাচনে ভোটগ্রহন শেষে ফেরার পথে নিশানা ভুলে যেতেন মাঝিরা। রাতের অন্ধকারে দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি দিতে অনেক সময় নৌকাই হারিয়ে যেত। ফলে এসব কেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহন কর্মকর্তারা ভোররাত চার-পাঁচটার আগে কখনো উপজেলা হেডকোয়াটারে পৌঁছাতে পারেননি। গত ৪ জানুয়ারির নির্বাচনে একটি কেন্দ্র পরদিন ভোর সাড়ে ছয়টায় উপজেলা সদরে পোঁছায়।

এ বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনে এই প্রথম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাঈদ। উপজেলার বালাসিঘাট থেকে এরেন্ডাবাড়ির নদীপথে চারটি বাঁক। এসব বাঁকে মোট ১২০টি খুঁটি স্থাপন করা হয়। প্রত্যেক খুঁটিতে বিশেষ স্টিকার সম্বলিত নম্বর দেওয়া হয়। যা অন্ধকারে টর্চের আলোয় জ্বলজ্বল করে। চারটি বাঁকে চারটি নৌকার প্রতিটিতে হ্যান্ডমাইকসহ ছিলেন পাঁচ-ছয়জনের দল। তাঁরা বাঁকে দাঁড়িয়ে নৌকাকে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া ওই চারটি বাঁকে আটটি বড় চার্জার লাইট খুঁটিতে বেঁধে দেওয়া হয়। এ কাজে স্থানীয় দুটি বেসরকারি সংস্থা সহায়তা করে। সুত্রটি জানায়, ওই চারটি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৫৬ হাজার ১২ জন। ভোট পড়েছে ২০ হাজার ৬৯৩টি। অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৯৪ ভাগ ভোট পড়ে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গোপনীয়তা রক্ষা করে চর এলাকায় ১১৩ জন স্থানীয় ব্যক্তিকে সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে রাখা হয়। কারণ ভোটের বাক্স নিয়ে ফেরার পথে কেউ হামলার প্রস্তুতি নিলে তা প্রশাসনকে জানাতে পারে। এবারের নির্বাচনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে গাইবান্ধা-৫ আসনের ফুলছড়িতে নবাগত ইউএনও প্রশংশিত হয়েছেন। এ ছাড়া কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে ফুলছড়ির ইউএনও আবু সাঈদ বলেন, নির্বাচনের সপ্তাহ তিনেক আগে যোগদানের পর প্রথমেই চর এলাকার কেন্দ্রগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। তারপরই সমস্যা সমাধানে নৌকার মাঝি, থানা পুলিশ, র‌্যাব, এনজিও, সাংবাদিক, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব ও গ্রামপুলিমের সঙ্গে সভা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সকলের আন্তরিকতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নৌকা না হারানোর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইউএনওর

আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৪

শহীদুল ইসলাম শহীদ প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার চরাঞ্চলে এবারের ভোট ব্যবস্থাপনা ছিল অন্যরকম। কুয়াশার রাতে নদীপথে নৌকা না হারাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ছিল উপজেলা প্রশাসনের। নদীপথের আট কিলোমিটার অংশে চারটি বাঁকে স্থাপিত ছিল ১২০টি খুঁটি। প্রতিটি খুটিতে ছিল বিশেষ স্টিকার সম্বলিত নম্বর। যা অন্ধকারে টর্চের আলোয় তা জ্বলজ্বল করে। চারটি বাঁকের প্রতিটিতে হ্যান্ডমাইকসহ ছিলেন পাঁচ-ছয়জনের দল। তাঁরা বাঁকে দাঁড়িয়ে নৌকাকে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে এবার দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্গম চরের ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত গাইবান্ধা-৫ আসন। ফুলছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের চারটিই ব্রহ্মপুত্রের ওপারে অবস্থিত। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে এরেন্ডাবাড়ি, ফুলছড়ি, ফজলুপুর ও গজারিয়া (আংশিক)। উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ৫৭টি। এরমধ্যে চারটি ইউনিয়নের ২৯টি কেন্দ্র দুর্গম চরাঞ্চলে। মুল ভুখন্ড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন এরেন্ডাবাড়ি, ফুলছড়ি ও ফজলুপুর ইউনিয়নের ২৭টি ও গজারিয়া ইউনিয়নের দুইটি কেন্দ্র চরে অবস্থিত। কালিরবাজারস্থ ফুলছড়ি উপজেলা হেড়কোয়াটার থেকে এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের দুরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে নদীপথে আট কিলোমিটার। এসব কোন্দ্রের মধ্যে ঘুরে ঘুরে যেতে হয়। পানি কম থাকার কারণে কিছু কেন্দ্রে যেতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লেগে যায়। এরেন্ডাবাড়ি, কিশামতধলি, চরহরিচন্ডি, পাগলারচর, ডাকাতিয়ারচর ও ফেন্ডশীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পৌঁছাতে পাঁচঘন্টা পযন্ত সময় লাগে।

পুর্ববর্তী সকল নির্বাচনে ভোটগ্রহন শেষে ফেরার পথে নিশানা ভুলে যেতেন মাঝিরা। রাতের অন্ধকারে দীর্ঘ নৌপথ পাড়ি দিতে অনেক সময় নৌকাই হারিয়ে যেত। ফলে এসব কেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহন কর্মকর্তারা ভোররাত চার-পাঁচটার আগে কখনো উপজেলা হেডকোয়াটারে পৌঁছাতে পারেননি। গত ৪ জানুয়ারির নির্বাচনে একটি কেন্দ্র পরদিন ভোর সাড়ে ছয়টায় উপজেলা সদরে পোঁছায়।

এ বাস্তবতায় এবারের নির্বাচনে এই প্রথম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছিলেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাঈদ। উপজেলার বালাসিঘাট থেকে এরেন্ডাবাড়ির নদীপথে চারটি বাঁক। এসব বাঁকে মোট ১২০টি খুঁটি স্থাপন করা হয়। প্রত্যেক খুঁটিতে বিশেষ স্টিকার সম্বলিত নম্বর দেওয়া হয়। যা অন্ধকারে টর্চের আলোয় জ্বলজ্বল করে। চারটি বাঁকে চারটি নৌকার প্রতিটিতে হ্যান্ডমাইকসহ ছিলেন পাঁচ-ছয়জনের দল। তাঁরা বাঁকে দাঁড়িয়ে নৌকাকে সঠিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া ওই চারটি বাঁকে আটটি বড় চার্জার লাইট খুঁটিতে বেঁধে দেওয়া হয়। এ কাজে স্থানীয় দুটি বেসরকারি সংস্থা সহায়তা করে। সুত্রটি জানায়, ওই চারটি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৫৬ হাজার ১২ জন। ভোট পড়েছে ২০ হাজার ৬৯৩টি। অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৯৪ ভাগ ভোট পড়ে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গোপনীয়তা রক্ষা করে চর এলাকায় ১১৩ জন স্থানীয় ব্যক্তিকে সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে রাখা হয়। কারণ ভোটের বাক্স নিয়ে ফেরার পথে কেউ হামলার প্রস্তুতি নিলে তা প্রশাসনকে জানাতে পারে। এবারের নির্বাচনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে গাইবান্ধা-৫ আসনের ফুলছড়িতে নবাগত ইউএনও প্রশংশিত হয়েছেন। এ ছাড়া কোন অভিযোগও পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে ফুলছড়ির ইউএনও আবু সাঈদ বলেন, নির্বাচনের সপ্তাহ তিনেক আগে যোগদানের পর প্রথমেই চর এলাকার কেন্দ্রগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করা হয়। তারপরই সমস্যা সমাধানে নৌকার মাঝি, থানা পুলিশ, র‌্যাব, এনজিও, সাংবাদিক, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সচিব ও গ্রামপুলিমের সঙ্গে সভা করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সকলের আন্তরিকতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না।