সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেটে নতুন করে করোনা ভাইরাসের হানা, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ১১ শিক্ষকের ১১ শিক্ষার্থীর স্কুলের পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থীর নাম জানেন না প্রধান শিক্ষক এসএসসির ফলে খুলনা সবার শীর্ষে, দ্বিতীয় যশোর—তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা বাবুগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে নারীসহ ৪ জনকে গুরুতর জখম, ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি কেউ বাগেরহাটে পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সভা শিশু, গর্ভবতী মা ও প্রবীণদের পুষ্টিতে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা নদীর ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কাজের উদ্বোধন বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান ও কর্মসংযোগ’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে ভূতেরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন জিআর চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন দুর্নীতির অভিযোগে ঝালকাঠি এলএসডির কর্মকর্তা বদলি

সিলেটে নতুন করে করোনা ভাইরাসের হানা, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সিলেটে নতুন করে করোনা ভাইরাসের হানা, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সিলেট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে হানা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। দীর্ঘ ১৪ মাস পর সিলেটে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১৮ জনের হাম শনাক্ত এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯১ জন। একই সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে আরও চারজনের শরীরে। এক সঙ্গে তিন সংক্রামক রোগের প্রকোপে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সিলেটে বাড়ছে উদ্বেগ।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এবং শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হামে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, শিশুর সাথে আছে তরুণীও সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মারা গেছেন আরও তিন জন। মৃতদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণবারী ৩ বছর ৮ মাস বয়সী মো. এহসানুল হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ১৮ বছর বয়সী বর্ণা রানী দাস বানিয়াচং উপজেলার এবং শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৮ মাস বয়সী আয়ান সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ৭ আগস্ট সিলেট বিভাগে ২ শিশুর মৃত্যু হলেও ৮ আগস্ট কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এক দিন পর ৯ আগস্টের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।
মৃত ১২৫ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয় জনের। বাকি ১১৯ জন মারা গেছেন হাম উপসর্গ নিয়ে। জেলা ভিত্তিক মৃতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে ৪৪, হবিগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯১ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৯ জন। এর মধ্যে সিলেটে ২৯১, হবিগঞ্জে ১০৩, মৌলভীবাজারে ১০২ এবং সুনামগঞ্জে ৩৩৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের শনাক্তদের মধ্যে দু’জন রুবেলা আক্রান্ত।
সিলেটের ডেপুটী সিভিল সার্জন ডা. জন্মে জয় শংকর দত্ত জানান, সিলেটে একজন করোনা রোগী শনাক্ত নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তবে হামে মৃত্যুর বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে প্রাপ্ত বয়স্কদের আক্রান্ত এবং মৃত্যুর বিষয়টি আরও উদ্বেগের বিষয়। হাম উপসর্গে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের অনেকেই টিকা নেয়নি। টিকা ক্যাম্পেইন চলাকালে হয়তো স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের খুঁজে বের করতে পারেনি, নয়তো অভিভাবকরা টিকা দিতে আগ্রহ দেখায়নি। ডেঙ্গুর বিষয়টি নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সিলেটে নতুন করে করোনা ভাইরাসের হানা, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সিলেটে নতুন করে করোনা ভাইরাসের হানা, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে হানা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। দীর্ঘ ১৪ মাস পর সিলেটে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১৮ জনের হাম শনাক্ত এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯১ জন। একই সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে আরও চারজনের শরীরে। এক সঙ্গে তিন সংক্রামক রোগের প্রকোপে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সিলেটে বাড়ছে উদ্বেগ।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এবং শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হামে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, শিশুর সাথে আছে তরুণীও সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মারা গেছেন আরও তিন জন। মৃতদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণবারী ৩ বছর ৮ মাস বয়সী মো. এহসানুল হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ১৮ বছর বয়সী বর্ণা রানী দাস বানিয়াচং উপজেলার এবং শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৮ মাস বয়সী আয়ান সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ৭ আগস্ট সিলেট বিভাগে ২ শিশুর মৃত্যু হলেও ৮ আগস্ট কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এক দিন পর ৯ আগস্টের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।
মৃত ১২৫ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয় জনের। বাকি ১১৯ জন মারা গেছেন হাম উপসর্গ নিয়ে। জেলা ভিত্তিক মৃতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে ৪৪, হবিগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯১ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৯ জন। এর মধ্যে সিলেটে ২৯১, হবিগঞ্জে ১০৩, মৌলভীবাজারে ১০২ এবং সুনামগঞ্জে ৩৩৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের শনাক্তদের মধ্যে দু’জন রুবেলা আক্রান্ত।
সিলেটের ডেপুটী সিভিল সার্জন ডা. জন্মে জয় শংকর দত্ত জানান, সিলেটে একজন করোনা রোগী শনাক্ত নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তবে হামে মৃত্যুর বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে প্রাপ্ত বয়স্কদের আক্রান্ত এবং মৃত্যুর বিষয়টি আরও উদ্বেগের বিষয়। হাম উপসর্গে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের অনেকেই টিকা নেয়নি। টিকা ক্যাম্পেইন চলাকালে হয়তো স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের খুঁজে বের করতে পারেনি, নয়তো অভিভাবকরা টিকা দিতে আগ্রহ দেখায়নি। ডেঙ্গুর বিষয়টি নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।