সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ,

বরগুনায় ৩ হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩ ৭১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স॥ বরগুনায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। রোজা ও তীব্র তাপদাহের কারণে তরমুজের চাহিদা বেশি থাকায় চাষিরা দামও বেশি পেয়েছেন। জেলায় উৎপাদিত তরমুজের ৯৫ শতাংশ এরই মধ্যে বিক্রি হয়েছে। এখনো অবিক্রিত রয়েছে পাঁচ শতাংশ তরমুজ ক্ষেত।

তবে অভিজ্ঞ চাষিরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারলেও নতুন চাষিরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই তারা হারিয়েছেন তাদের মূলধন।

বরগুনা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ৫১২ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় তরমুজ চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৮শ ৩৮ হেক্টর জমিতে। গত বছরের থেকে চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ৩২৬ হেক্টর বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। জেলায় এ বছর মোট তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন। যা বিক্রি হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকায়।

মৌসুমের মাঝামাঝি সময় বৃষ্টিতে প্রায় ৩ হাজার ৭২১ হেক্টর তরমুজ ক্ষেত তলিয়ে যায়। যার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৭১ হেক্টর জমির তরমুজ। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৮৬৬ হেক্টর তরমুজ ক্ষেত। অনেক চাষির ক্ষতি হলেও তরমুজের বাজারমূল্য ভালো থাকায় তারা তাদের লোকসান মিটিয়ে লাভের মুখ দেখেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার স্থানীয় অভিজ্ঞ তরমুজ চাষিরা বৃষ্টির কারণে তেমন ক্ষতির মুখে পড়েননি। তারা তাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করে তরমুজ ক্ষেত স্বাভাবিক রেখেছেন। তবে বৃষ্টিতে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন অন্য জেলা থেকে আসা তরমুজ চাষিরা। তারা এই অঞ্চলের আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের প্রস্তুতি রাখেননি। তাছাড়া বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত শ্রমিক প্রয়োজন পড়েছিল। তখন তারা শ্রমিক পাননি।

আমতলী উপজেলার গাজীপুর এলাকার তরমুজচাষি সোহেল মিয়া বলেন, এ বছর রৌদ্রের তাপ বেশি থাকায় তরমুজের দাম বেশি ছিল। তাই চাষিরা তরমুজের দাম ভালো পেয়েছেন। তবে অল্প কিছু সংখ্যক চাষি লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকে আবার তাদের সম্পূর্ণ পুঁজি হারিয়েছেন। তবে তার পরিমাণ খুব সীমিত সংখ্যক।

সাতক্ষীরা থেকে তালতলী উপজেলায় তরমুজ চাষ করতে আসা ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমরা দূর থেকে এখানে এসে তরমুজ চাষ করেছি। বৃষ্টিতে আমাদের সম্পূর্ণ পুঁজি হারিয়েছি। এর কারণ হলো এ অঞ্চলের উঁচু জমিগুলো স্থানীয় চাষিরা চাষ করেছেন। আমরা যে জমিতে চাষ করেছি তা স্থানীয়দের থেকে তুলনামূলক অনেক নিচু। তাই বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সিএম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে তরমুজচাষির ক্ষতি কাটাতে আমরা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছি। সে কারণে তরমুজচাষিদের তেমন ক্ষতি হয়নি। পাশাপাশি রোজা ও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকায় চাষিরা ভালো দাম পেয়েছেন।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ জোবাইদুল আলম বলেন, জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে। এ বছর জেলায় দুই হাজার ৮শ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। জেলায় উৎপাদিত তরমুজের ৯৫ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। এখনো ৫ শতাংশ তরমুজ বিক্রি চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বরগুনার তরমুজ সুস্বাদু হওয়ার কারণে অন্যান্য অঞ্চলের থেকে চাহিদা বেশি থাকে। তাই চাষিরা বেশি দামে বিক্রি করতে পেরেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বরগুনায় ৩ হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি

আপডেট সময় : ১১:২২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩

আজকের ক্রাইম ডেক্স॥ বরগুনায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। রোজা ও তীব্র তাপদাহের কারণে তরমুজের চাহিদা বেশি থাকায় চাষিরা দামও বেশি পেয়েছেন। জেলায় উৎপাদিত তরমুজের ৯৫ শতাংশ এরই মধ্যে বিক্রি হয়েছে। এখনো অবিক্রিত রয়েছে পাঁচ শতাংশ তরমুজ ক্ষেত।

তবে অভিজ্ঞ চাষিরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারলেও নতুন চাষিরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই তারা হারিয়েছেন তাদের মূলধন।

বরগুনা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ বছর তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১১ হাজার ৫১২ হেক্টর। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় তরমুজ চাষ হয়েছে ১৫ হাজার ৮শ ৩৮ হেক্টর জমিতে। গত বছরের থেকে চলতি বছর জেলায় ৪ হাজার ৩২৬ হেক্টর বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। জেলায় এ বছর মোট তরমুজ উৎপাদন হয়েছে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন। যা বিক্রি হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকায়।

মৌসুমের মাঝামাঝি সময় বৃষ্টিতে প্রায় ৩ হাজার ৭২১ হেক্টর তরমুজ ক্ষেত তলিয়ে যায়। যার মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৭১ হেক্টর জমির তরমুজ। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৮৬৬ হেক্টর তরমুজ ক্ষেত। অনেক চাষির ক্ষতি হলেও তরমুজের বাজারমূল্য ভালো থাকায় তারা তাদের লোকসান মিটিয়ে লাভের মুখ দেখেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার স্থানীয় অভিজ্ঞ তরমুজ চাষিরা বৃষ্টির কারণে তেমন ক্ষতির মুখে পড়েননি। তারা তাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা দিয়ে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করে তরমুজ ক্ষেত স্বাভাবিক রেখেছেন। তবে বৃষ্টিতে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন অন্য জেলা থেকে আসা তরমুজ চাষিরা। তারা এই অঞ্চলের আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের প্রস্তুতি রাখেননি। তাছাড়া বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত শ্রমিক প্রয়োজন পড়েছিল। তখন তারা শ্রমিক পাননি।

আমতলী উপজেলার গাজীপুর এলাকার তরমুজচাষি সোহেল মিয়া বলেন, এ বছর রৌদ্রের তাপ বেশি থাকায় তরমুজের দাম বেশি ছিল। তাই চাষিরা তরমুজের দাম ভালো পেয়েছেন। তবে অল্প কিছু সংখ্যক চাষি লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেকে আবার তাদের সম্পূর্ণ পুঁজি হারিয়েছেন। তবে তার পরিমাণ খুব সীমিত সংখ্যক।

সাতক্ষীরা থেকে তালতলী উপজেলায় তরমুজ চাষ করতে আসা ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমরা দূর থেকে এখানে এসে তরমুজ চাষ করেছি। বৃষ্টিতে আমাদের সম্পূর্ণ পুঁজি হারিয়েছি। এর কারণ হলো এ অঞ্চলের উঁচু জমিগুলো স্থানীয় চাষিরা চাষ করেছেন। আমরা যে জমিতে চাষ করেছি তা স্থানীয়দের থেকে তুলনামূলক অনেক নিচু। তাই বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ হয়ে ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সিএম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টির কারণে তরমুজচাষির ক্ষতি কাটাতে আমরা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছি। সে কারণে তরমুজচাষিদের তেমন ক্ষতি হয়নি। পাশাপাশি রোজা ও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকায় চাষিরা ভালো দাম পেয়েছেন।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু সৈয়দ মোহাম্মদ জোবাইদুল আলম বলেন, জেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে। এ বছর জেলায় দুই হাজার ৮শ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে। জেলায় উৎপাদিত তরমুজের ৯৫ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। এখনো ৫ শতাংশ তরমুজ বিক্রি চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বরগুনার তরমুজ সুস্বাদু হওয়ার কারণে অন্যান্য অঞ্চলের থেকে চাহিদা বেশি থাকে। তাই চাষিরা বেশি দামে বিক্রি করতে পেরেছেন।