সংবাদ শিরোনাম ::
চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রলীগের সেক্রেটারী আটক সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির পাওনা পরিবারকে বুঝিয়ে দিল সমকাল কর্তৃপক্ষ কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন

২৫ বিঘা জমির মালিকও নিচ্ছেন দুস্থ নারীর চাল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩ ৯৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

নন্দীগ্রামের বুড়ইল ইউনিয়নের দাসগ্রামের ধনী কৃষক কৃষ্ণ দাস। তিনি অন্তত ২৫ বিঘা জমির মালিক। আছে দুটি সেচপাম্প। বাস করেন পাকা বাড়িতে। তিনি বিত্তশালী হলেও নিজের স্ত্রীকে মনে করেন দুস্থ-অসহায়! তাই তো সহধর্মিণী আরতি রানীর নাম দিয়েছেন সরকারের দুস্থ মহিলা উন্নয়ন ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচিতে। এই কার্ডের আওতায় দুই বছর মেয়াদে মাসে ৩০ কেজি করে চাল তুলছেন তাঁরা।

দেশে যেসব পরিবারে আয়ের উৎস নেই, বর্গাচাষি, হতদরিদ্র সেসব পরিবারের নারীরা ভিডব্লিউবি কার্ডের সুবিধা পেলেও বুড়ইলে ঘটেছে তার ব্যতিক্রম। একই ইউনিয়নের কৈগাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তারের স্ত্রী ও এমবিএস চিকিৎসকের মা হাসনা বানুর নামও আছে এই তালিকায়। রিধুইল গ্রামের মহসিন আলীর আছে ১২ বিঘা জমি, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ। অথচ তাঁর স্ত্রী জোছনা খাতুনের নামও দুস্থদের তালিকায়। তাঁদের হতদরিদ্র নারী উল্লেখ করে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল তোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য। তালিকায় আছেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শংকর চন্দ্র সরকারের ভাই স্বপন চন্দ্র সরকারের স্ত্রী সুচিত্রা সরকারের নামও। সচ্ছল পরিবারের এই গৃহবধূও নিয়মিত তুলছেন হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ চাল।

শুধু আরতি রানী, হাসনা বানু ও জোছনা খাতুনই নন, এ ইউনিয়নের কৈগাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী আবু সাইদের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বিবি, দামুয়া গ্রামের সচ্ছল কৃষক অরুণের স্ত্রী নলিতা রানী, রিধুইল গ্রামের ১২ বিঘা জমির মালিক জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খাদিজা খাতুনসহ অর্ধশতাধিক সচ্ছল পরিবার তুলে নিচ্ছে গরিব-অহসায়দের চাল। আবার টাকার বিনিময়েও অনেকের নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

দুস্থদের তালিকায় সচ্ছলদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় প্রথমে অনিয়ম খুঁজে পান একই ইউনিয়নের বড়ইচড়া গ্রামের এনামুল হক, রিধুইল গ্রামের মালেকা বিবি ও মিনারা বেগম। তাঁরা অভিযোগগুলো তুলে ধরে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত ১৪ মার্চ লিখিত দেন। সেখানে তাঁরা ৪৫ জনের নামের একটি তালিকাও দিয়েছেন, যাঁরা সবাই সচ্ছল বলে তাদের দাবি।

তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে রিধুইল গ্রামের মহসিনের স্ত্রী জোছনা বলেন, ‘আমার নাম তালিকায় দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল আমার স্বামী। সেই আবেদনের কারণেই আমি চাল তুলছি।’ এ বিষয়ে তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সটকে পড়েন। অন্যরাও প্রায় একই কথা বলেছেন। ভিজিডি কার্ডভোগী দাসগ্রামের আরতি রানী বলেন, আমাদের এলাকার মেম্বারের মাধ্যমে আমরা এই চাল পাই। তাঁর মাধ্যমে আবেদন করেছিলাম। তাঁরাই সবার তালিকা তৈরি করে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শংকর চন্দ্র সরকার বলেন, চাহিদাপত্র অনুযায়ী আবেদনকারীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। কে সচ্ছল আর কে অসচ্ছল তা বাছবিচার করার দায়িত্ব আমার নয়। আমার ভাই অসচ্ছল, তাই তার স্ত্রীর নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। টাকার বিনিময়ে কারও নাম দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ আছে, তালিকা তৈরির সময় চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব চেয়ারম্যানের। তিনি নিজেই এ তালিকায় সচ্ছল স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অন্যদের নিয়ে আপত্তি জানাননি। আবার মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়েও নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, ভুলে কিছু সচ্ছল ব্যক্তির নাম ভিজিডির তালিকায় অন্তভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি করেছেন।

ইউএনও শিফা নুসরাত বলেন, তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, তদন্ত কাজ প্রায় শেষের দিকে। দু’তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২৫ বিঘা জমির মালিকও নিচ্ছেন দুস্থ নারীর চাল

আপডেট সময় : ০৮:৫৯:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৩

আজকের ক্রাইম ডেক্স

নন্দীগ্রামের বুড়ইল ইউনিয়নের দাসগ্রামের ধনী কৃষক কৃষ্ণ দাস। তিনি অন্তত ২৫ বিঘা জমির মালিক। আছে দুটি সেচপাম্প। বাস করেন পাকা বাড়িতে। তিনি বিত্তশালী হলেও নিজের স্ত্রীকে মনে করেন দুস্থ-অসহায়! তাই তো সহধর্মিণী আরতি রানীর নাম দিয়েছেন সরকারের দুস্থ মহিলা উন্নয়ন ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচিতে। এই কার্ডের আওতায় দুই বছর মেয়াদে মাসে ৩০ কেজি করে চাল তুলছেন তাঁরা।

দেশে যেসব পরিবারে আয়ের উৎস নেই, বর্গাচাষি, হতদরিদ্র সেসব পরিবারের নারীরা ভিডব্লিউবি কার্ডের সুবিধা পেলেও বুড়ইলে ঘটেছে তার ব্যতিক্রম। একই ইউনিয়নের কৈগাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তারের স্ত্রী ও এমবিএস চিকিৎসকের মা হাসনা বানুর নামও আছে এই তালিকায়। রিধুইল গ্রামের মহসিন আলীর আছে ১২ বিঘা জমি, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ। অথচ তাঁর স্ত্রী জোছনা খাতুনের নামও দুস্থদের তালিকায়। তাঁদের হতদরিদ্র নারী উল্লেখ করে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল তোলার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য। তালিকায় আছেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শংকর চন্দ্র সরকারের ভাই স্বপন চন্দ্র সরকারের স্ত্রী সুচিত্রা সরকারের নামও। সচ্ছল পরিবারের এই গৃহবধূও নিয়মিত তুলছেন হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ চাল।

শুধু আরতি রানী, হাসনা বানু ও জোছনা খাতুনই নন, এ ইউনিয়নের কৈগাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী আবু সাইদের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বিবি, দামুয়া গ্রামের সচ্ছল কৃষক অরুণের স্ত্রী নলিতা রানী, রিধুইল গ্রামের ১২ বিঘা জমির মালিক জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খাদিজা খাতুনসহ অর্ধশতাধিক সচ্ছল পরিবার তুলে নিচ্ছে গরিব-অহসায়দের চাল। আবার টাকার বিনিময়েও অনেকের নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

দুস্থদের তালিকায় সচ্ছলদের নাম অন্তর্ভুক্ত করায় প্রথমে অনিয়ম খুঁজে পান একই ইউনিয়নের বড়ইচড়া গ্রামের এনামুল হক, রিধুইল গ্রামের মালেকা বিবি ও মিনারা বেগম। তাঁরা অভিযোগগুলো তুলে ধরে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত ১৪ মার্চ লিখিত দেন। সেখানে তাঁরা ৪৫ জনের নামের একটি তালিকাও দিয়েছেন, যাঁরা সবাই সচ্ছল বলে তাদের দাবি।

তালিকায় নাম থাকার বিষয়ে রিধুইল গ্রামের মহসিনের স্ত্রী জোছনা বলেন, ‘আমার নাম তালিকায় দেওয়ার জন্য আবেদন করেছিল আমার স্বামী। সেই আবেদনের কারণেই আমি চাল তুলছি।’ এ বিষয়ে তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সটকে পড়েন। অন্যরাও প্রায় একই কথা বলেছেন। ভিজিডি কার্ডভোগী দাসগ্রামের আরতি রানী বলেন, আমাদের এলাকার মেম্বারের মাধ্যমে আমরা এই চাল পাই। তাঁর মাধ্যমে আবেদন করেছিলাম। তাঁরাই সবার তালিকা তৈরি করে চেয়ারম্যানের কাছে পাঠিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শংকর চন্দ্র সরকার বলেন, চাহিদাপত্র অনুযায়ী আবেদনকারীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। কে সচ্ছল আর কে অসচ্ছল তা বাছবিচার করার দায়িত্ব আমার নয়। আমার ভাই অসচ্ছল, তাই তার স্ত্রীর নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। টাকার বিনিময়ে কারও নাম দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ আছে, তালিকা তৈরির সময় চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব চেয়ারম্যানের। তিনি নিজেই এ তালিকায় সচ্ছল স্বজনদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে অন্যদের নিয়ে আপত্তি জানাননি। আবার মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়েও নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান বলেন, ভুলে কিছু সচ্ছল ব্যক্তির নাম ভিজিডির তালিকায় অন্তভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি করেছেন।

ইউএনও শিফা নুসরাত বলেন, তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেওয়ার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, তদন্ত কাজ প্রায় শেষের দিকে। দু’তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।