সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ ​রাজাপুরে টিসিবি ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ​ ঝালকাঠিতে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আগৈলঝাড়ায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে দোকান দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ, থানায় দুই অভিযোগ ঝালকাঠিতে বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও “ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী” নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ,

হলে ছাত্রলীগের টর্চার সেল, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা নীরব ভূমিকায় পাবিপ্রবি প্রশাসন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ এপ্রিল ২০২৩ ৬০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ও হলে প্রায়ই ছাত্রদের মারধরের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতারাই এ কাজে জড়িত। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষকে টর্চার সেলে পরিণত করেছেন। সবকিছু জেনেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয় না হল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষকদের একটি অংশ ও প্রশাসন তাদের বিভিন্ন অপকর্মে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে তারা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না। এ অবস্থায় সবসময় আতঙ্কে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে বঙ্গবন্ধু হলে আটকে ৩ ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় এই আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।

নির্যাতনের শিকার ছাত্ররা বলেন, গত মঙ্গলবার তারাবির নামাজের পর তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের শিবিরের কর্মী বলে চড়-থাপ্পড় দেন। এরপর বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে তাঁদের আলাদা তিনটি কক্ষে নেওয়া হয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তাঁরা জানান, হলের কক্ষে দ্বিতীয় দফায় চড়-থাপ্পড় মারা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। হাতের আঙুলে গরম কিছু দিয়ে ছ্যাঁক দেওয়া হয়। পরে একজন এসে প্লাস দিয়ে হাত ও পায়ের আঙুলে চাপ দিতে থাকেন। এভাবে তাঁদের শিবিরের কর্মী বলে স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক নির্যাতন করার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা হলে উপস্থিত হন। পরে তাঁদের পুলিশে দেওয়া হয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই পুলিশি পাহারায় একজনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের চিকিৎসা শেষে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মারধরের শিকার ছাত্ররা হলেন– বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দশম ব্যাচের ছাত্র আসাদুল ইসলাম, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের ১১তম ব্যাচের ছাত্র আজিজুল হক এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের নবম ব্যাচের ছাত্র গোলাম রহমান।

পাবনা সদর থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, যে অভিযোগে ওই তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীরা জানান, মারধরের ঘটনায় বরাবরই নীরব ভূমিকায় থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিজেদের অসহায়ত্বের পরিচয় দিচ্ছেন তারা। হলে অছাত্রদের অনাগোনা থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের বন্ধুর মতো সম্পর্ক। শিক্ষার্থীদের মারধরের পরও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উল্টো ছাত্রদেরই পুলিশে দিয়ে আসছে।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থী গোলাম রহমান বলেন, বিনা কারণে আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। একজনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলেই পরে কী করা যায় ভেবে দেখব।

বঙ্গবন্ধু হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, হলে লেলিনসহ কয়েকজন অছাত্র ছাত্রলীগের সঙ্গে বসবাস করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ছাত্রশিবিরের গোপন বৈঠক চলাকালে তাঁদের আটক করি আমরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করলে তাঁদের পুলিশে দেওয়া হয়। তাঁদের কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

হলে টর্চার সেলের বিষয়ে তিনি বলেন, হলে এ ধরনের কোনো কক্ষ নেই। সব কক্ষেই ছাত্ররা বসবাস করেন। তাঁদের সঙ্গে কোনো অছাত্র থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে অন্য কোনো সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হলে ছাত্রলীগের টর্চার সেল, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা নীরব ভূমিকায় পাবিপ্রবি প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ এপ্রিল ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে ও হলে প্রায়ই ছাত্রদের মারধরের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতারাই এ কাজে জড়িত। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষকে টর্চার সেলে পরিণত করেছেন। সবকিছু জেনেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয় না হল বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষকদের একটি অংশ ও প্রশাসন তাদের বিভিন্ন অপকর্মে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে তারা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না। এ অবস্থায় সবসময় আতঙ্কে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ ক্যাম্পাস থেকে তুলে নিয়ে বঙ্গবন্ধু হলে আটকে ৩ ছাত্রকে মারধরের ঘটনায় এই আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।

নির্যাতনের শিকার ছাত্ররা বলেন, গত মঙ্গলবার তারাবির নামাজের পর তিন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদের শিবিরের কর্মী বলে চড়-থাপ্পড় দেন। এরপর বঙ্গবন্ধু হলে নিয়ে তাঁদের আলাদা তিনটি কক্ষে নেওয়া হয়।

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তাঁরা জানান, হলের কক্ষে দ্বিতীয় দফায় চড়-থাপ্পড় মারা হয়। একপর্যায়ে তাঁরা রড দিয়ে পেটাতে থাকেন। হাতের আঙুলে গরম কিছু দিয়ে ছ্যাঁক দেওয়া হয়। পরে একজন এসে প্লাস দিয়ে হাত ও পায়ের আঙুলে চাপ দিতে থাকেন। এভাবে তাঁদের শিবিরের কর্মী বলে স্বীকার করানোর চেষ্টা করা হয়। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক নির্যাতন করার পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা হলে উপস্থিত হন। পরে তাঁদের পুলিশে দেওয়া হয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই পুলিশি পাহারায় একজনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের চিকিৎসা শেষে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মারধরের শিকার ছাত্ররা হলেন– বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দশম ব্যাচের ছাত্র আসাদুল ইসলাম, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের ১১তম ব্যাচের ছাত্র আজিজুল হক এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের নবম ব্যাচের ছাত্র গোলাম রহমান।

পাবনা সদর থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, যে অভিযোগে ওই তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ দেয়নি বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীরা জানান, মারধরের ঘটনায় বরাবরই নীরব ভূমিকায় থাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিজেদের অসহায়ত্বের পরিচয় দিচ্ছেন তারা। হলে অছাত্রদের অনাগোনা থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাদের বন্ধুর মতো সম্পর্ক। শিক্ষার্থীদের মারধরের পরও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উল্টো ছাত্রদেরই পুলিশে দিয়ে আসছে।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থী গোলাম রহমান বলেন, বিনা কারণে আমাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। একজনের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁকে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হলেই পরে কী করা যায় ভেবে দেখব।

বঙ্গবন্ধু হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, হলে লেলিনসহ কয়েকজন অছাত্র ছাত্রলীগের সঙ্গে বসবাস করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।

ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ছাত্রশিবিরের গোপন বৈঠক চলাকালে তাঁদের আটক করি আমরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করলে তাঁদের পুলিশে দেওয়া হয়। তাঁদের কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

হলে টর্চার সেলের বিষয়ে তিনি বলেন, হলে এ ধরনের কোনো কক্ষ নেই। সব কক্ষেই ছাত্ররা বসবাস করেন। তাঁদের সঙ্গে কোনো অছাত্র থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার দিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হবে। ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে অন্য কোনো সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।