সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের উদ্যোগে ৮ লক্ষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল সড়কে চলন্ত ইজিবাইক চালকের হৃদরোগে মৃত্যু রাজাপুরে আলোচিত দুই ডাকাতি মামলা: ৪ ডাকাত গ্রেপ্তার নারী চিকিৎসককে কক্ষে ডাকতেন-কুপ্রস্তাব দিতেন ব/র/গু/না জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।

অনিয়মের বেড়াজালে বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৭১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে যেন অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে টাকা ও দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। সম্প্রতি এসবের প্রমাণও মিলেছে অনুসন্ধানে।

টাকা ছাড়া পাসপোর্ট অফিসে ফাইল নড়ে না এমন অভিযোগের প্রমাণ খুঁজতে ছদ্মবেশে বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনে হাজির হয় সময়ের টিম। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই রাজ ট্রাভেলস নামের এক দোকানের সহযোগী শহিদুল ইসলাম জানান, কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই পাসপোর্ট করে দিতে পারবেন তিনি।

পরে পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে ফিশারি রোডের এক দোকানে গেলে কম্পিউটার অপারেটর ইয়াসিন জানান, ১০ বছরের একটি পাসপোর্ট করতে ৮ হাজার ও ৫ বছরের একটি পাসপোর্ট করতে নেয়া হয় ৬ হাজার টাকা। মাত্র ৩০ মিনিটেই ফিঙ্গারসহ সবকিছু করে দেয়ার নিশ্চয়তাও দেন তিনি।

এরপর গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে হাজির হলে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন তারা। শহিদুল বলেন, ‘আমি শুধু আপনাকে অনলাইনে আবেদনের কথা বলেছি। আর কিছুই বলিনি। আর ইয়াসিন বলেন, আমার পাসপোর্ট অফিসে কোনো লোক নেই। আমরা আবেদন করা ছাড়া আর কোনো কাজ করি না।’

শুধু শহিদুল ও ইয়াসিনের দোকানটিই নয়। পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অর্ধশত কম্পিউটারের দোকান। দোকানদাররা জানান, টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট গ্রহীতাদের সেবা দিয়ে থাকেন তারা।

বরিশাল পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। রহিম নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা অনেকটাই দিশেহারা হয়ে যাই পাসপোর্ট অফিসে আসলে। এখানে অনিয়মটাই নিয়ম।

মাওলাদ নামে অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, টাকা দিলে সব হয় এখানে। চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটও লাগে না।

তবে সদ্য যোগদান করা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের প্রধান আবু নোমান মো. জাকির হোসেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স বলে দাবি করেন।

৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টে সরকারি ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা, তবে দালালচক্র নেয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আর ১০ বছর মেয়াদিতে ৫ হাজার ৭৫০ হলেও হাতিয়ে নেয়া হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। বরিশাল বিভাগে মোট ৬টি জেলা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার মানুষ এই পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অনিয়মের বেড়াজালে বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক: বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে যেন অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে টাকা ও দালাল ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। সম্প্রতি এসবের প্রমাণও মিলেছে অনুসন্ধানে।

টাকা ছাড়া পাসপোর্ট অফিসে ফাইল নড়ে না এমন অভিযোগের প্রমাণ খুঁজতে ছদ্মবেশে বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সামনে হাজির হয় সময়ের টিম। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতেই রাজ ট্রাভেলস নামের এক দোকানের সহযোগী শহিদুল ইসলাম জানান, কোনোরকম ভোগান্তি ছাড়াই পাসপোর্ট করে দিতে পারবেন তিনি।

পরে পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে ফিশারি রোডের এক দোকানে গেলে কম্পিউটার অপারেটর ইয়াসিন জানান, ১০ বছরের একটি পাসপোর্ট করতে ৮ হাজার ও ৫ বছরের একটি পাসপোর্ট করতে নেয়া হয় ৬ হাজার টাকা। মাত্র ৩০ মিনিটেই ফিঙ্গারসহ সবকিছু করে দেয়ার নিশ্চয়তাও দেন তিনি।

এরপর গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়ে হাজির হলে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন তারা। শহিদুল বলেন, ‘আমি শুধু আপনাকে অনলাইনে আবেদনের কথা বলেছি। আর কিছুই বলিনি। আর ইয়াসিন বলেন, আমার পাসপোর্ট অফিসে কোনো লোক নেই। আমরা আবেদন করা ছাড়া আর কোনো কাজ করি না।’

শুধু শহিদুল ও ইয়াসিনের দোকানটিই নয়। পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে অর্ধশত কম্পিউটারের দোকান। দোকানদাররা জানান, টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট গ্রহীতাদের সেবা দিয়ে থাকেন তারা।

বরিশাল পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। রহিম নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমরা অনেকটাই দিশেহারা হয়ে যাই পাসপোর্ট অফিসে আসলে। এখানে অনিয়মটাই নিয়ম।

মাওলাদ নামে অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, টাকা দিলে সব হয় এখানে। চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটও লাগে না।

তবে সদ্য যোগদান করা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের প্রধান আবু নোমান মো. জাকির হোসেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স বলে দাবি করেন।

৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টে সরকারি ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা, তবে দালালচক্র নেয় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আর ১০ বছর মেয়াদিতে ৫ হাজার ৭৫০ হলেও হাতিয়ে নেয়া হয় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। বরিশাল বিভাগে মোট ৬টি জেলা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার মানুষ এই পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসেন।