সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশালে হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে খুশি মালিকরা, প্রশংসিত কাউনিয়া থানা পুলিশ ভান্ডারিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েও দমানো যায়নি, এবার সাংবাদিক আসলামকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ছক! বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

অনিয়ম-দুর্নীতি আর দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় অনিয়ম-দুর্নীতি আর দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর গত ১৮ জানুয়ারি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার ঘৃতকান্দি গ্রামের মিলন সরকার তাঁর তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল গত ১৬ জানুয়ারি একটি ব্যাংকে পরিশোধ করেন। ওই দিন দুপুরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মিলনের বাড়িতে যায় রামদিয়া সাব-জোনাল অফিসের লোকজন। এ সময় বাড়ির লোকজন পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের কপি দেখান। তবে বিলটি ছুড়ে ফেলে দেন দলটির নেতৃত্বে থাকা এজিএম ওমর আলী। বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে চলে যান। পরের দিন অফিসে গিয়ে এজিএমের সঙ্গে দেখা করেন ওই গ্রাহক। এজিএম গ্রাহককে বলেন, ‘এক মাস পরে বিদ্যুৎ পাবি।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিয়ে বের করে দেন। এরপর অফিসের লাইনম্যান রুহুল আমিন পুনঃসংযোগের কথা বলে তাঁর কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। রুহুলকে উৎকোচ দিয়েও বিদ্যুৎ পাননি মিলন।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর ফুকরা গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক সাহিদুল মুন্সী ও মো. মন্টু মুন্সী। তাঁদের দুটি মিটারে তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া থাকায় ডিসেম্বর মাসে অফিসের লোকজন গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এক ঘণ্টা পর ফের বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তাঁদের বাড়িতে আসে। বকেয়া ১ হাজার ৫০০ ও দুই মিটারের পুনঃসংযোগ ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা নিয়ে তাৎক্ষণিক সংযোগ দিয়ে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী অফিসে ডিসি/আরসি ফি ৬৯০ টাকা অফিসে জমা দিয়ে রশিদ নিতে হয়। এরপর জমা রশিদ দেখানোর পর বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা গিয়ে পুনঃসংযোগ দেন। এ ব্যাপারে রামদিয়া সাব-জোনাল অফিসে ওই দুই গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং টাকা জমার তথ্য পাওয়া যায়নি।

তারাইল ফুকরা আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা ভ্যানচালক আখি মোল্যার বকেয়া ছিল ৪০৭ টাকা। এক সপ্তাহ আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন। তিন দিন পর অফিসের লোকজন গিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করে পুনঃসংযোগ দেয়। তবে অফিসে টাকা জমার তথ্য নেই।

ফুকরা গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগমের ভাষ্য, তাঁর ছোট ভাইয়ের দুই মাসের বিল বকেয়া ছিল। তাই বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে। তিনি এক দিনের সময় চান। অনুরোধ রক্ষা না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে নিষেধ করেন তিনি। এ সময় এজিএম ওমর আলীর নির্দেশে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. ওমর আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে বাধ্য নই।’

গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেনারেল ম্যানেজার স্যার দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি দেখবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অনিয়ম-দুর্নীতি আর দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকরা

আপডেট সময় : ০৮:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩

অনলাইন ডেস্ক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় অনিয়ম-দুর্নীতি আর দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার বরাবর গত ১৮ জানুয়ারি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার ঘৃতকান্দি গ্রামের মিলন সরকার তাঁর তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল গত ১৬ জানুয়ারি একটি ব্যাংকে পরিশোধ করেন। ওই দিন দুপুরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মিলনের বাড়িতে যায় রামদিয়া সাব-জোনাল অফিসের লোকজন। এ সময় বাড়ির লোকজন পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিলের কপি দেখান। তবে বিলটি ছুড়ে ফেলে দেন দলটির নেতৃত্বে থাকা এজিএম ওমর আলী। বাড়ির লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে চলে যান। পরের দিন অফিসে গিয়ে এজিএমের সঙ্গে দেখা করেন ওই গ্রাহক। এজিএম গ্রাহককে বলেন, ‘এক মাস পরে বিদ্যুৎ পাবি।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিয়ে বের করে দেন। এরপর অফিসের লাইনম্যান রুহুল আমিন পুনঃসংযোগের কথা বলে তাঁর কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। রুহুলকে উৎকোচ দিয়েও বিদ্যুৎ পাননি মিলন।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর ফুকরা গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক সাহিদুল মুন্সী ও মো. মন্টু মুন্সী। তাঁদের দুটি মিটারে তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল ১ হাজার ৫০০ টাকা বকেয়া থাকায় ডিসেম্বর মাসে অফিসের লোকজন গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এক ঘণ্টা পর ফের বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তাঁদের বাড়িতে আসে। বকেয়া ১ হাজার ৫০০ ও দুই মিটারের পুনঃসংযোগ ফি বাবদ ৩ হাজার টাকা নিয়ে তাৎক্ষণিক সংযোগ দিয়ে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী অফিসে ডিসি/আরসি ফি ৬৯০ টাকা অফিসে জমা দিয়ে রশিদ নিতে হয়। এরপর জমা রশিদ দেখানোর পর বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীরা গিয়ে পুনঃসংযোগ দেন। এ ব্যাপারে রামদিয়া সাব-জোনাল অফিসে ওই দুই গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং টাকা জমার তথ্য পাওয়া যায়নি।

তারাইল ফুকরা আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা ভ্যানচালক আখি মোল্যার বকেয়া ছিল ৪০৭ টাকা। এক সপ্তাহ আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন। তিন দিন পর অফিসের লোকজন গিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করে পুনঃসংযোগ দেয়। তবে অফিসে টাকা জমার তথ্য নেই।

ফুকরা গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগমের ভাষ্য, তাঁর ছোট ভাইয়ের দুই মাসের বিল বকেয়া ছিল। তাই বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে। তিনি এক দিনের সময় চান। অনুরোধ রক্ষা না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে নিষেধ করেন তিনি। এ সময় এজিএম ওমর আলীর নির্দেশে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. ওমর আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে বক্তব্য দিতে বাধ্য নই।’

গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেনারেল ম্যানেজার স্যার দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি দেখবেন।