ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভারতে নয় কারাগারে
- আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

মাহতাব উদ্দনি আল মাহমুদ,ঘোড়াঘাট(দিনাজপুর) প্রতনিধিঃ
মেডিকেল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও মানি লন্ডারিং মামলার অন্যতম আসামী দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভারতে নয় কারাগারে আটক রয়েছেন।
গত ২৭ নভেম্বর ২২ইং তারিখে ঢাকার এক আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আটক হন তিনি । সাজ্জাদ হোসেন চিকিসার জন্য ভারতে গেছেন এমন কথা তার কথা পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হলেও তিনি এখন হাজত বাস করছেন তিনি।
৪৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় সিআইডি। এর আগে সালাম, জসীম ও প্রভাষক সাজ্জাদসহ চক্রের ১৪ জনকে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলাটি করেন সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমা।
সিআইডি ঢাকা সাইবার ইনভেস্টিগেশনস এন্ড অপারেশনস, সাইবার পুলিশ সেন্টার, বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি, ঢাকা শাখার সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার জুয়েল চাকমার ধানমন্ডী মডেল থানায় করা মামলার এজাহারে জানা যায়,মেডিকেল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৪৪ জনকে চিহ্নিত করা হয়।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে উঠে আসা ৪৪ জনের ১৪ জনই চিকিৎসক,শিক্ষক এবং দুজন মেডিকেল কলেজের ছাত্র।এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ৩০/৪০ জনকে জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
র্যাব ও সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রশ্নফাঁসকারী চক্ররে প্রধান হোতা জসমি উদ্দনি ভূইয়া মুন্নু এর ঘনিষ্ট সহযোগী মোঃ আলনাস হোসেন শেখ ও অপর গুরুত্বপুর্ণ আসামি সাজ্জাদ ভর্তি পরীক্ষার মৌসুমে ঢাকায় এসে জসিমের সঙ্গে মিটিং করতো এবং ফাঁসকৃত প্রশ্ন পত্র মোটা অংকে কিনে সেগুলো শিক্ষার্থ ীদের কাছে বিক্রি করতো ।
এমনকি ২০১৫ সালে জসীম তার অপর সহযোগী ঢাকার ডিও্রএইচএস একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয়, সে দিন কিছুক্ষণ আগেও আলমাস এবং সাজ্জাদ ওই বাড়িতে ছিল। তারা প্রশ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় ।পর্রবতীতে আলমাস ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়। গ্রেফতারকৃত আসামি সানোয়ার আলমাসের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁস এবং অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত জবানবন্দি দিয়েছেন আদালতে।
প্রশ্নফাঁসের টাকায় আলমাস দিনাজপুরে আরডিএফ নামে একটি এনজিও গড়ে তুলেছেন। মোঃ আলমাস হোসেন শেখ এর নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ২টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া যায়। ২ টি ব্যাংকে ১৪ ্অক্টোবর ১০ইং থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০ইং পর্যন্ত মোট ৫৮ লাখ ৫৫ হাজার ৬৮০ টাকা ৫০ পয়সা বিভিন্ন সময় জমা করে মোঃ আলমাস হোসেন শেখ এবং ৫৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ২৬৯ টাকা ৫০ পয়সা) টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর করে ।
আসামি সানোয়ার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁস এবং অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত জবানবন্দী দিয়ে ছিল বিজ্ঞ আদালতে । মোঃ সাজ্জাত হোসেনের এর নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে মোট ৬টি ব্যাংক হিসাব পাওয়া যায়। ৬টি ব্যাংকে হিসাবে ৩১ ডিসেম্বর ০৬ ইং থেকে ২২ নভেম্বর ২০ পর্যন্ত মোট ৩৪ লক্ষ ৫১œ হাজার ৩১৭ টাকা ৯৪ পয়সা) জমা করে। পর্রবতীতে মোঃ সাজ্জাত হোসন হিসাব নং থেকে ৩৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬২৭ টাকা ২৭ পয়সা) টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর করে।
চক্রের হোতারা ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে মেডিকেল কলেজের অন্তত ৫ বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে ৯৯ কোটি ৮১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৯৩ টাকা ৩১ পয়সা হাতিয়ে নিয়ে বিপুল অর্থ ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও তাদের প্রাক্কলিত সম্পদের বাজার বা প্রকৃত মূল্য এর চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রিন্টিং প্রেস থেকে ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন প্রেসের তৎকালীন মেশিনম্যান আবদুস সালাম খান।
সেই ফাঁস করা প্রশ্ন তিনি ও তার খালাতো ভাই জসীম বিভিন্ন কোচিং সেন্টার এবং নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেন। এ ভাবে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও শত শত শিক্ষার্থী টাকার বিনিময়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে ইতোমধ্যে চিকিৎসক বনে গেছেন।
ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, গ্রেফতারকৃত আসামিদের জবানবন্দি, উদ্ধার গোপন ডায়েরি ও তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে মেলে চক্রটির ৪৪ জন সদস্যের খোঁজ। এদের মধ্যে চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যাংকার, কোচিং সেন্টারের মালিক, শিক্ষার্থী, ছাত্রলীগ নেতা ও আবাসন ব্যবসায়ী রয়েছেন।
যাদের সম্পৃক্ততা মিলে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রিন্টিং প্রেসের মেশিনম্যান আবদুস সালাম খান ও তার খালাতো ভাই জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া ওরফে মুন্নু, জসিমের স্ত্রী শারমিন আরা জেসমিন, বড় বোন শাহজাদি আক্তার ওরফে মিরা,
দুই ভাই জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মুক্তার ও মোস্তফা ভূঁইয়া, তার দুই ভগ্নিপতি আলমগীর হোসেন ও জাকির হোসেন, ভায়রা সামিউল জাফর ওরফে সিটু এবং ভাতিজা এম এইচ পারভেজ খান ছাড়াও এ চক্রে আরও ৩৪ জনের সম্পৃক্ততা পায় সিআইডি।
যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি করে তাদের মধ্যে রয়েছেন- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা ‘চক্ষু চিকিৎসক ও ফেইথ কোচিং সেন্টারের পরিচালক মুহাম্মদ ময়েজ উদ্দিন আহমেদ প্রধান, তার স্ত্রী ডা. সোহেলী জামান ও বড় ভাই বোরহান উদ্দিন, শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী রাশেদ খান মেনন,
মুগদা মেডিকেলের চিকিৎসক জেড এম এস সালেহীন শোভন, দিনাজপুরের একটি এনজিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমাস হোসেন শেখ, কলেজশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন ও শহীদুল ইসলাম সুজন, আবাসন ব্যবসায়ী আবদুস সালাম ও রওশন আলী হিমু, ঠাকুরগাঁও জেলা
ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোতাহার হোসেন, চিকিৎসক নূর আলম রনি, সাবেক টিঅ্যান্ডটি কর্মকর্তা আবদুস সাদেক হাওলাদার, মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আল মামুন, একটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাকির আহমেদ, টাঙ্গাইলের এভিস কোচিং সেন্টারের পরিচালক কাওছার আহমেদ ও উজ্জ্বল সরকার, টাঙ্গাইলের চিকিৎসক ইমরুল কায়েস হিমেল ও তার বাবা স্কুলশিক্ষক আবদুল কুদ্দুস সরকার,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় কর্মরত চিকিৎসক মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ, পংগু হাসপাতালের চিকিৎসক জিল্লুর হাসান রনি, জসীমের ড্রাইভার নওগাঁর নজিপুরের মাসুদ রানা, খুলনা মেডিকেল কলেজের ছাত্র টাঙ্গাইলের নাফিস হাসান রোজ, ঢাকার থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডা. কে এম বশিরুল হক, খুলনা থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডা. ইউনুচ উজ্জামান খান তারিম,
মুনসুর আলী মেডিকেল কলেজের ক্যাশিয়ার আবদুল লতিফ আকন্দ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা চিকিৎসক মো. রুবেল, জসীমের ম্যানেজার মো. মাহমুদুন নবী মজনু, কিশোরগঞ্জের কোচিং ব্যবসায়ী আবু রায়হান, চিকিৎসক কোরবান আলী রনি, মেডিকো কোচিং সেন্টারের পরিচালক ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ রনি, ব্যাংক এশিয়া থেকে চাকরি হারানো কর্মকর্তা এস এম আহমেদুল হক মনন এবং তার স্ত্রী ডা. তানিয়া রহমান,
জসীমের কর্মচারী নিতাই কুমার বিশ্বাস ওরফে প্রকাশ এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সোলায়মান হোসেন মেহেদী।
এরা পারস্পরিক যোগসাজশে ডেন্টাল ও মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতেন। জিসিম উদ্দিন ভূঁইয়া মুন্নু ও তার স্ত্রী শারমিন আরা জেসমিনের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য ও বিপুল সম্পদ ও অর্থের খোঁজ পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া জসীম দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩২টি দলিলে প্রায় ১৩ একর জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য ১৫ কোটি টাকার বেশি। ঢাকার মিরপুরে ‘পৃথ্বী ভিলা’ ও ‘শাম্মী মঞ্জিল’ নামে জসিমের দুটি বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ঢাকার মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে ১৯.৬ কাঠার আয়তনের জসিমের মোট ৪ টি জমির প্লটের সন্ধান পাওয়া যায়। যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া জসিমের মায়ের নামে ৫টি দলিলে ১.৬৫ একর জমির সন্ধান পাওয়া যায়। এর বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকারও বেশি।
স্ত্রীর নামে ৬টি দলিলে ২.৮৬ একর জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকারও বেশি। এ ছাড়া মিরপুর ও সাভারে ৫টি দলিলে তার ১৩.১৯০৬ একর জমির সন্ধান পাওয়া যায়, যার দলিল মূল্য ২০ কোটি টাকা হলেও বাজারমূল্য ৩০ কোটি টাকারও বেশি।


























