সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

কালকিনিতে অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২ ১২১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃ রাজু আহ‌ম্মেদ মাদারীপুরজেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়, শিক্ষকদের বেতন বকেয়া, নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও অধ্যক্ষের প্রশাসনিক কর্মকান্ডের বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে সভাপতির সাথে অধ্যক্ষের বিরোধের জের ধরে এ সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আজ শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন অধ্যক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্বিবিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানুল সিরাজীর সাথে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়, অধ্যক্ষের প্রশাসনিক কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক বিষয় ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া, ননএমপিও শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও নতুন শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুকের দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত ২১ নভেম্বর দুপুরে অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ সভাপতি ও তার লোকজন বিছিন্ন করেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অপরদিকে সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী অধ্যক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কলেজের শিক্ষক বলেন, আমরা এই কলেজে ২৮জন নন এমপিও শিক্ষক রয়েছি। এবং আমরা প্রায় ২২ মাস যাবত কলেজ থেকে কোন বেতন পাচ্ছিনা। তাই আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন কাটাচ্ছি।
নজরুল ইসলাম নামে একজন শিক্ষার্থী অভিভাবক বলেন, সভাপতি ও অধ্যক্ষের দ্বন্দ্বে দক্ষিন অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে আমরা এর সমাধান চাই।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপিত আবুল কালাম আজাদ বলেন, অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ সভাপতি বিছিন্ন করেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি । আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তবে আমরা খুব শীঘ্র এ বিষয়টি নিয়ে বসবো।
অধ্যক্ষ মো. হাসানুল সিরাজী বলেন, আমাকে দিয়ে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করার চেষ্টা, আমার প্রশাসনিক কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে আমার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সভাপতির সিদ্ধান্ত আমার উপরে চাপিয়ে দেয়া, প্রাতিষ্ঠানিক রুটিন প্রনয়ন, বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমনকি অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাসমূহের কমিটি গঠন সহ অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপসহ সকল বিষয়ে সভাপতি তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সভাপতির সাথে আমার মতপার্থক্য চলে আসছে। তাই সে আমার অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করছেন। আমি এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহা ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরকে জানিয়েছি। তবে শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে তিনি জানান, কলেজে ব্যয় অনুযায়ী আয় নেই তাই শিক্ষকদের বেতন বকেয়া রয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মীর গোলাম ফারুক বলেন, অধ্যক্ষের রুমের সিসিটিভির কোন লাইন বিছিন্ন করা হয় নাই। আসলে অধ্যক্ষ কলেজটি ধ্বংস করে দিতেছে।
এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহা বলেন, অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করার বিষয়টি আমাকে অধ্যক্ষ জানিয়েছে। তবে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডেকে এ বিষয়টি দেখার জন্য বলে দিয়েছি। এবং আমি এ বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কালকিনিতে অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৪৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর ২০২২

মোঃ রাজু আহ‌ম্মেদ মাদারীপুরজেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়, শিক্ষকদের বেতন বকেয়া, নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও অধ্যক্ষের প্রশাসনিক কর্মকান্ডের বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে সভাপতির সাথে অধ্যক্ষের বিরোধের জের ধরে এ সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আজ শুক্রবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন অধ্যক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্বিবিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানুল সিরাজীর সাথে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়, অধ্যক্ষের প্রশাসনিক কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক বিষয় ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া, ননএমপিও শিক্ষকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ ও নতুন শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুকের দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত ২১ নভেম্বর দুপুরে অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ সভাপতি ও তার লোকজন বিছিন্ন করেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অপরদিকে সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী অধ্যক্ষ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কলেজের শিক্ষক বলেন, আমরা এই কলেজে ২৮জন নন এমপিও শিক্ষক রয়েছি। এবং আমরা প্রায় ২২ মাস যাবত কলেজ থেকে কোন বেতন পাচ্ছিনা। তাই আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন কাটাচ্ছি।
নজরুল ইসলাম নামে একজন শিক্ষার্থী অভিভাবক বলেন, সভাপতি ও অধ্যক্ষের দ্বন্দ্বে দক্ষিন অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে আমরা এর সমাধান চাই।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপিত আবুল কালাম আজাদ বলেন, অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ সভাপতি বিছিন্ন করেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি । আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তবে আমরা খুব শীঘ্র এ বিষয়টি নিয়ে বসবো।
অধ্যক্ষ মো. হাসানুল সিরাজী বলেন, আমাকে দিয়ে অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করার চেষ্টা, আমার প্রশাসনিক কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে আমার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সভাপতির সিদ্ধান্ত আমার উপরে চাপিয়ে দেয়া, প্রাতিষ্ঠানিক রুটিন প্রনয়ন, বোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এমনকি অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাসমূহের কমিটি গঠন সহ অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপসহ সকল বিষয়ে সভাপতি তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সভাপতির সাথে আমার মতপার্থক্য চলে আসছে। তাই সে আমার অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করছেন। আমি এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহা ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরকে জানিয়েছি। তবে শিক্ষকদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে তিনি জানান, কলেজে ব্যয় অনুযায়ী আয় নেই তাই শিক্ষকদের বেতন বকেয়া রয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মীর গোলাম ফারুক বলেন, অধ্যক্ষের রুমের সিসিটিভির কোন লাইন বিছিন্ন করা হয় নাই। আসলে অধ্যক্ষ কলেজটি ধ্বংস করে দিতেছে।
এ ব্যাপরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিংকি সাহা বলেন, অধ্যক্ষের অফিস রুমের সিসিটিভির সংযোগ বিছিন্ন করার বিষয়টি আমাকে অধ্যক্ষ জানিয়েছে। তবে কলেজের ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডেকে এ বিষয়টি দেখার জন্য বলে দিয়েছি। এবং আমি এ বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারকে জানিয়েছি।