সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

২ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই শেবাচিম হাসপাতালের ৩ ইউনিটে, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ নভেম্বর ২০২২ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স

বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের তিনটি ইউনিটে দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে রোগী, চিকিৎসক এবং নার্সরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। সন্ধ্যার পর ওই তিনটি ইউনিটের রোগী ও স্বজনরা শৌচাগারে যেতে পারেন না। প্রয়োজন হলে মোবাইল ফোনের আলো ও টর্চ জ্বেলে শৌচাগারে যেতে হয়। সন্ধ্যার পর মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে নার্সদের। অপরদিকে রেডিওলজি বিভাগে বিদ্যুৎ নেই ১৮ দিন ধরে। এ সব ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত বা পুনঃস্থাপনে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগও নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন চিকিৎসক, রোগী এবং তাদের স্বজনরা। বিদ্যুৎ না থাকা ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে- পুরুষ সার্জারি বিভাগের ব্লক ৩ ও ৪ এবং চক্ষু বিভাগ (পুরুষ ওয়ার্ড)।

শেবাচিম হাসপাতালের তিনটি ইউনিটে এবং রেডিওলজি বিভাগে বিদ্যুত না থাকার কথা নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে বার বার বলা হলেও তারা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় তিনটি ইউনিটে চিকিৎসাসেবা মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। রেডিওলজি বিভাগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।’

পুরুষ সার্জারি ইউনিটের এক চিকিৎসক বলেন, ‘আলোর স্বল্পতার কারণে রোগীদের ইনজেকশন ও অন্যান্য সেবা দিতে দুর্ভোগ হচ্ছে। হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছাড়া সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আমাদের সেটাই করতে হচ্ছে। কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে তা কর্তৃপক্ষ এখনও উদঘাটন করতে পারেনি। এ ভাবে বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় হাসপাতালে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

সার্জারি ওয়ার্ডের ইউনিট-৩ এর রোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর রোগীর স্বজনরা অন্ধকার দূর করতে মোবাইলের আলো ও মোমবাতি জ্বেলে রাখেন। বিদ্যুৎ না থকায় যথাযথভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না চিকিৎসক ও নার্সরা।’

সার্জারি ইউনিটের এক রোগীর স্বজন মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আলো না থাকায় চরম অসুবিধার মধ্যে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’ অপর এক রোগীর স্বজন আরাফাত হোসেন শাওন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে ঠিকমত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মনে হয় এ হাসপাতালের কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। এভাবে বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় হাসপাতাল চলে কী করে?’

হাসপাতালের এক নার্স সমকালকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে আমরা ঠিকভাবে ইনজেকশন দিতে পারছি না। চলাফেরা করতে পারছি না। মোমবাতি আর মোবাইলের আলো ব্যবহার করে সেবা দিতে হচ্ছে।’

ক্ষুব্ধ এক রোগীর স্বজন মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের সামনে কোটি টাকা ব্যয় করে গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ দুই দিন ধরে তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ নেই। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। ব্যয়বহুল গেট নির্মাণের চেয়ে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না।’

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ১হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ নেই বুধবার থেকে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং’র পর থেকে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে রেডিওলজি বিভাগ। এতে রোগীদের সরকারিভাবে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসক ও নার্সরা সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না। রোগীরা দুর্ভোগে আছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে বার বার বলা হলেও তারা কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না।’

পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতালটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করা হয়নি। এ জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে বিদ্যুতের কেবল নষ্ট হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বহুবার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সুফল মেলেনি।’

এ বিষয়ে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানকে একাধিকবার কল এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই শেবাচিম হাসপাতালের ৩ ইউনিটে, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

আপডেট সময় : ০১:২৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ নভেম্বর ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স

বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের তিনটি ইউনিটে দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এতে রোগী, চিকিৎসক এবং নার্সরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। সন্ধ্যার পর ওই তিনটি ইউনিটের রোগী ও স্বজনরা শৌচাগারে যেতে পারেন না। প্রয়োজন হলে মোবাইল ফোনের আলো ও টর্চ জ্বেলে শৌচাগারে যেতে হয়। সন্ধ্যার পর মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে নার্সদের। অপরদিকে রেডিওলজি বিভাগে বিদ্যুৎ নেই ১৮ দিন ধরে। এ সব ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামত বা পুনঃস্থাপনে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগও নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন চিকিৎসক, রোগী এবং তাদের স্বজনরা। বিদ্যুৎ না থাকা ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে- পুরুষ সার্জারি বিভাগের ব্লক ৩ ও ৪ এবং চক্ষু বিভাগ (পুরুষ ওয়ার্ড)।

শেবাচিম হাসপাতালের তিনটি ইউনিটে এবং রেডিওলজি বিভাগে বিদ্যুত না থাকার কথা নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে বার বার বলা হলেও তারা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় তিনটি ইউনিটে চিকিৎসাসেবা মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। রেডিওলজি বিভাগ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।’

পুরুষ সার্জারি ইউনিটের এক চিকিৎসক বলেন, ‘আলোর স্বল্পতার কারণে রোগীদের ইনজেকশন ও অন্যান্য সেবা দিতে দুর্ভোগ হচ্ছে। হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছাড়া সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আমাদের সেটাই করতে হচ্ছে। কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছে তা কর্তৃপক্ষ এখনও উদঘাটন করতে পারেনি। এ ভাবে বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় হাসপাতালে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

সার্জারি ওয়ার্ডের ইউনিট-৩ এর রোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর রোগীর স্বজনরা অন্ধকার দূর করতে মোবাইলের আলো ও মোমবাতি জ্বেলে রাখেন। বিদ্যুৎ না থকায় যথাযথভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না চিকিৎসক ও নার্সরা।’

সার্জারি ইউনিটের এক রোগীর স্বজন মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আলো না থাকায় চরম অসুবিধার মধ্যে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’ অপর এক রোগীর স্বজন আরাফাত হোসেন শাওন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে ঠিকমত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মনে হয় এ হাসপাতালের কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। এভাবে বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় হাসপাতাল চলে কী করে?’

হাসপাতালের এক নার্স সমকালকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে আমরা ঠিকভাবে ইনজেকশন দিতে পারছি না। চলাফেরা করতে পারছি না। মোমবাতি আর মোবাইলের আলো ব্যবহার করে সেবা দিতে হচ্ছে।’

ক্ষুব্ধ এক রোগীর স্বজন মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের সামনে কোটি টাকা ব্যয় করে গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ দুই দিন ধরে তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ নেই। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। ব্যয়বহুল গেট নির্মাণের চেয়ে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এ ভাবে একটি হাসপাতাল চলতে পারে না।’

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ১হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ নেই বুধবার থেকে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং’র পর থেকে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে রেডিওলজি বিভাগ। এতে রোগীদের সরকারিভাবে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসক ও নার্সরা সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না। রোগীরা দুর্ভোগে আছেন। বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে বার বার বলা হলেও তারা কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন না।’

পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শেবাচিম হাসপাতালটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত করা হয়নি। এ জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে বিদ্যুতের কেবল নষ্ট হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বহুবার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সুফল মেলেনি।’

এ বিষয়ে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানকে একাধিকবার কল এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।