সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে বাহারী ফলের সমাহার ফল বিক্রি করে চলে তাদের সংসার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)

মহাসড়কের ধার ঘেঁষে বেশ কয়েকটি বাহারী ফলের দোকান। মাটির উপরে পলিথিন বিছিয়ে সাজিয়ে রাখা আছে রং-বেরং এর সুস্বাদু ফল। এক কথায় ভ্রাম্যমান ফলের দোকান। এসব ফলের দোকান বসে শুধুমাত্র সপ্তাহের হাটবারে। বিভিন্ন জেলায় ফল বেঁচেই সংসার চলে এসব ফল বিক্রেতাদের।

উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর গরুর হাট বসে রানীগঞ্জ বাজারে। এটি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত। প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার এখানে হাট লাগে। এই হাট বারে রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমান ফলের দোকান নিয়ে বসে কয়েকজন ফল বিক্রেতা। তারা সবাই পাশ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা।

ফল বিক্রেতারা জানান প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ফলের দোকান দেয় তারা। হাটবার অনুযায়ী বসে তাদের দোকান। লক্ষ্য হাটে আসা ব্যক্তিদের কাছে ফল বিক্রি করা। এভাবেই ফল বেচে সুখে সংসার চলছে তাদের।

সোমবার হাট বসেছিল ছিল রানীগঞ্জ বাজারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ধারঘেঁষে ৭টি ফলের দোকান বসেছে। মাটির উপর পলিথিন বিছিয়ে সাজানো আছে ড্রাগন, মাল্টা, আপেল, কমলা, পেয়ারা ও আনার। হাটে আসা ব্যক্তিরা দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের এসব ফল কিনতে ভীড় জমিয়ে আছেন। সপ্তাহে দু’দিন এই স্থানে তারা দোকান লাগায়।

এসব দোকানে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪শ টাকা কেজিতে। মাল্টা ৮০ টাকা, আপেল ১৬০ টাকা, কমলা জাতভেদে ৮০/১৬০/২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পেয়ারা ৫০ টাকা এবং আনার ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

দেশীজাতের এসব কমলা তারা কিনে আনে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। ড্রাগন ফল তারা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। হাটবারে বাজার থেকে শাক-সবজি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন রহিম মোল্লা। তার বয়স ৬৭। ফলের দোকানে ৫০০ গ্রাম ড্রাগন ফল কিনতে দেখা যায় তাকে। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘এই ফল আমরা দেখিনি। নতুন নাকি বের হয়েছে। তাই নাতির জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছি। গত সপ্তাহে এই দোকান থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে গেছি। বেশ সুস্বাদু ছিল।’

পাশের আরেকটি দোকানে আনার ফল কিনছিলেন হাবিবুর রহমান নামের এক যুবক। সে বলেন, ‘আনার ফল শরীরে রক্ত বৃদ্ধি করে। আমার মা অসুস্থ। তাই মায়ের জন্য ২ কেজি আনার নিয়ে যাচ্ছি। স্থানীয় দোকানের চেয়ে এখানে কিছুটা কম দামে ফল কিনতে পাওয়া যায়। মানও বেশ ভালো।’

কথা হয় ফলের দোকানদার ইসাহাক মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘এক যুগ থেকে হারা এল্লা ফলের দোকান করে সংসার চালাওছি। একেকদিন একেক জেলাত যাই। হাটের দিন করে হামরা দোকান দেই। ফল বেঁচে হামার প্রতিদিন আয় ১ হাজার থেকে ১৫শ টেকা। হামরা নিজেরাই পাইকারী মাল কিনি। তাই ক্রেতাহেরে কাছে ৫-১০ টাকা কম দামে ফল বেচবার পাই।’

ছবি ক্যাপশন| দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে মহাসড়কের ধারে বাহারী ফলের সমাহার নিয়ে বসেছে বিক্রেতারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে বাহারী ফলের সমাহার ফল বিক্রি করে চলে তাদের সংসার

আপডেট সময় : ০৬:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর ২০২২

মাহতাব উদ্দিন আল মাহমুদ, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর)

মহাসড়কের ধার ঘেঁষে বেশ কয়েকটি বাহারী ফলের দোকান। মাটির উপরে পলিথিন বিছিয়ে সাজিয়ে রাখা আছে রং-বেরং এর সুস্বাদু ফল। এক কথায় ভ্রাম্যমান ফলের দোকান। এসব ফলের দোকান বসে শুধুমাত্র সপ্তাহের হাটবারে। বিভিন্ন জেলায় ফল বেঁচেই সংসার চলে এসব ফল বিক্রেতাদের।

উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর গরুর হাট বসে রানীগঞ্জ বাজারে। এটি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত। প্রতি সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার এখানে হাট লাগে। এই হাট বারে রাস্তার ধারে ভ্রাম্যমান ফলের দোকান নিয়ে বসে কয়েকজন ফল বিক্রেতা। তারা সবাই পাশ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা।

ফল বিক্রেতারা জানান প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ফলের দোকান দেয় তারা। হাটবার অনুযায়ী বসে তাদের দোকান। লক্ষ্য হাটে আসা ব্যক্তিদের কাছে ফল বিক্রি করা। এভাবেই ফল বেচে সুখে সংসার চলছে তাদের।

সোমবার হাট বসেছিল ছিল রানীগঞ্জ বাজারে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ধারঘেঁষে ৭টি ফলের দোকান বসেছে। মাটির উপর পলিথিন বিছিয়ে সাজানো আছে ড্রাগন, মাল্টা, আপেল, কমলা, পেয়ারা ও আনার। হাটে আসা ব্যক্তিরা দেশী-বিদেশী বিভিন্ন জাতের এসব ফল কিনতে ভীড় জমিয়ে আছেন। সপ্তাহে দু’দিন এই স্থানে তারা দোকান লাগায়।

এসব দোকানে ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪শ টাকা কেজিতে। মাল্টা ৮০ টাকা, আপেল ১৬০ টাকা, কমলা জাতভেদে ৮০/১৬০/২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও পেয়ারা ৫০ টাকা এবং আনার ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

দেশীজাতের এসব কমলা তারা কিনে আনে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। ড্রাগন ফল তারা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে। হাটবারে বাজার থেকে শাক-সবজি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন রহিম মোল্লা। তার বয়স ৬৭। ফলের দোকানে ৫০০ গ্রাম ড্রাগন ফল কিনতে দেখা যায় তাকে। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, ‘এই ফল আমরা দেখিনি। নতুন নাকি বের হয়েছে। তাই নাতির জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছি। গত সপ্তাহে এই দোকান থেকে মাল্টা কিনে নিয়ে গেছি। বেশ সুস্বাদু ছিল।’

পাশের আরেকটি দোকানে আনার ফল কিনছিলেন হাবিবুর রহমান নামের এক যুবক। সে বলেন, ‘আনার ফল শরীরে রক্ত বৃদ্ধি করে। আমার মা অসুস্থ। তাই মায়ের জন্য ২ কেজি আনার নিয়ে যাচ্ছি। স্থানীয় দোকানের চেয়ে এখানে কিছুটা কম দামে ফল কিনতে পাওয়া যায়। মানও বেশ ভালো।’

কথা হয় ফলের দোকানদার ইসাহাক মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ‘এক যুগ থেকে হারা এল্লা ফলের দোকান করে সংসার চালাওছি। একেকদিন একেক জেলাত যাই। হাটের দিন করে হামরা দোকান দেই। ফল বেঁচে হামার প্রতিদিন আয় ১ হাজার থেকে ১৫শ টেকা। হামরা নিজেরাই পাইকারী মাল কিনি। তাই ক্রেতাহেরে কাছে ৫-১০ টাকা কম দামে ফল বেচবার পাই।’

ছবি ক্যাপশন| দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারে মহাসড়কের ধারে বাহারী ফলের সমাহার নিয়ে বসেছে বিক্রেতারা।