সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই আলোর মুখ দেখবে শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে – অটো ড্রেন ক্লিনার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ আলী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ উদ্ভাবক স্কুল ছাত্র ওবায়দুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন ড্রেন ও খালের ময়লা পরিষ্কার করার একটি যন্ত্র। নাম দিয়েছেন অটো ড্রেন ক্লিনার। এটা চালাতে কোনো লোকবল লাগবে না। চলবে আধুনিক পদ্ধতিতে সেন্সরের বিশেষ সিগন্যালের মাধ্যমে। শহরের ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনামুক্ত করতে এই অটো ক্লিনার যন্ত্রটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেন ওবায়দুল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই আবিষ্কার সম্পর্কে জানাতে চান তিনি। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই নতুন আবিষ্কার আলোর মুখ দেখবে এবং শহর-নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তার এ অটো ড্রেন ক্লিনার নিয়ে আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরে বেশ আলোচনায় আসে তরুণ উদ্ভাবক ওবায়দুলের অটো ড্রেন ক্লিনার।

এমনকি তৎকালীন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমীনুল ইসলাম তার উদ্ভাবনী অটো ড্রেন ক্লিনার দেখে অার্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং তার এ উদ্ভাবনী অটো ড্রেন ক্লিনার বাস্তবে রুপ পাওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এক বছর পেরেছি গেলেও আলোর মুখ দেখেনি ওবায়দুলের অটো ড্রেন ক্লিনার।

আর্থিক অভাব অনটনের কারণে ওবায়দুলের উদ্ভাবনী অটো ড্রেন ক্লিনার বাস্তবে রুপ দিতে না পারায় তার স্বপ্ন স্বপ্নেই রয়ে গেল।

রোববার সকালে সরেজমিনে ওবায়দুল এর
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, বাড়ির এক কোণে আধাশতক জায়গায় ছোট্ট একটি টিনের চালার নিচে কোনরকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওবায়দুল ও তার মা।

ওবাইদুল এর কাছে তার অটো ড্রেন ক্লিনার সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল বলেন, আপনারা যখন আসছিলেন আমার অটো ড্রেন ক্লিনার দেখতে তখন আমরা বড় মামার বাসায় থাকতাম। বড় মামা চাকরির সুবাদে সিলেটে থাকার কারণে তার বাসায় আমরা থাকতাম। মামা অবসরে আসার পর তার পরিবার নিয়ে সে তার বাসায় থাকেন। তার বাসায় তাদের নিজেদেরই থাকা কষ্টকর।

ওবাইদুল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল স্যার কে বাসায় এনে দেখেছিলাম বিষয়টা পরবর্তীতে স্যার কিছু আর্থিক হেল্প ও টিন দেয়ার কথা বলছিল। তখন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান স্যারও সাথে ছিল। এমনকি তৎকালীন ইউএনও আমিনুল ইসলাম স্যারকেও বলেছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে আর এটার আর কোন সমাধান পাইনি আমি। বেঁচে থাকার জন্য টুকটাক ইলেকট্রিক কাজ করছি আর কিছু সরকারি চাকরির এপ্লাই করা আছে সেটার জন্য পড়ালেখা করছি।

ওবায়দুলের মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে থাকতে একটু কষ্ট হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে পানিতে সবকিছু ভিজে যায়। কষ্ট হচ্ছে তারপরও কি আর করার আছে। ছেলেটার একটা চাকরি হলে এতো কষ্ট আর হবে না।

উল্লেখ্য, ওবায়দুল ইসলাম বরিশালের বাবুগঞ্জের মাধবপাশা ইউনিয়নের পাংশা গ্রামে মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে বড় হন। তিনি বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ভোকেশনাল শাখায় জেনারেল মেকানিকস ট্রেডে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে ম্যানগ্রোভ ইনস্টিটিউট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা কোর্স করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলেই আলোর মুখ দেখবে শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে – অটো ড্রেন ক্লিনার

আপডেট সময় : ০১:০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২২

মোহাম্মদ আলী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ উদ্ভাবক স্কুল ছাত্র ওবায়দুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন ড্রেন ও খালের ময়লা পরিষ্কার করার একটি যন্ত্র। নাম দিয়েছেন অটো ড্রেন ক্লিনার। এটা চালাতে কোনো লোকবল লাগবে না। চলবে আধুনিক পদ্ধতিতে সেন্সরের বিশেষ সিগন্যালের মাধ্যমে। শহরের ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনামুক্ত করতে এই অটো ক্লিনার যন্ত্রটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেন ওবায়দুল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই আবিষ্কার সম্পর্কে জানাতে চান তিনি। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই নতুন আবিষ্কার আলোর মুখ দেখবে এবং শহর-নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তার এ অটো ড্রেন ক্লিনার নিয়ে আজকের পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরে বেশ আলোচনায় আসে তরুণ উদ্ভাবক ওবায়দুলের অটো ড্রেন ক্লিনার।

এমনকি তৎকালীন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমীনুল ইসলাম তার উদ্ভাবনী অটো ড্রেন ক্লিনার দেখে অার্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং তার এ উদ্ভাবনী অটো ড্রেন ক্লিনার বাস্তবে রুপ পাওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এক বছর পেরেছি গেলেও আলোর মুখ দেখেনি ওবায়দুলের অটো ড্রেন ক্লিনার।

আর্থিক অভাব অনটনের কারণে ওবায়দুলের উদ্ভাবনী অটো ড্রেন ক্লিনার বাস্তবে রুপ দিতে না পারায় তার স্বপ্ন স্বপ্নেই রয়ে গেল।

রোববার সকালে সরেজমিনে ওবায়দুল এর
খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, বাড়ির এক কোণে আধাশতক জায়গায় ছোট্ট একটি টিনের চালার নিচে কোনরকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওবায়দুল ও তার মা।

ওবাইদুল এর কাছে তার অটো ড্রেন ক্লিনার সম্পর্কে জানতে চাইলে ওবায়দুল বলেন, আপনারা যখন আসছিলেন আমার অটো ড্রেন ক্লিনার দেখতে তখন আমরা বড় মামার বাসায় থাকতাম। বড় মামা চাকরির সুবাদে সিলেটে থাকার কারণে তার বাসায় আমরা থাকতাম। মামা অবসরে আসার পর তার পরিবার নিয়ে সে তার বাসায় থাকেন। তার বাসায় তাদের নিজেদেরই থাকা কষ্টকর।

ওবাইদুল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলাল স্যার কে বাসায় এনে দেখেছিলাম বিষয়টা পরবর্তীতে স্যার কিছু আর্থিক হেল্প ও টিন দেয়ার কথা বলছিল। তখন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান স্যারও সাথে ছিল। এমনকি তৎকালীন ইউএনও আমিনুল ইসলাম স্যারকেও বলেছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে আর এটার আর কোন সমাধান পাইনি আমি। বেঁচে থাকার জন্য টুকটাক ইলেকট্রিক কাজ করছি আর কিছু সরকারি চাকরির এপ্লাই করা আছে সেটার জন্য পড়ালেখা করছি।

ওবায়দুলের মায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে থাকতে একটু কষ্ট হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে পানিতে সবকিছু ভিজে যায়। কষ্ট হচ্ছে তারপরও কি আর করার আছে। ছেলেটার একটা চাকরি হলে এতো কষ্ট আর হবে না।

উল্লেখ্য, ওবায়দুল ইসলাম বরিশালের বাবুগঞ্জের মাধবপাশা ইউনিয়নের পাংশা গ্রামে মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে বড় হন। তিনি বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ভোকেশনাল শাখায় জেনারেল মেকানিকস ট্রেডে মাধ্যমিক পাস করেন। পরে ম্যানগ্রোভ ইনস্টিটিউট সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা কোর্স করেন।