সংবাদ শিরোনাম ::
অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

পিরোজপুরে ৫০০ টাকার জন্য হত্যা করা হয় সাংবাদিক আমির খসরুর মাকে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২ ১০৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স ॥ পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হালিম হাওলাদারের সহধর্মিনী ও ভয়েস অব আমেরিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আমির খসরুর মা মোসাম্মাৎ সেতারা হালিমের (৭৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাস পর বুধবার একই এলাকার সিআই পাড়া (কৃষ্ণচূড়া মোড়) থেকে প্রধান আসামি দিনমজুর শুক্কুর আলী হাওলাদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারের পর ঘাতক শুক্কুর আলী হাওলাদার (৩৪) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মাত্র ৫ শ’ টাকার জন্য তিনি সেতারা বেগমকে গলায় স্যালাইনের পাইপ দিয়ে বেঁধে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করেন বলে জানান। শুক্কুর আলী ইন্দুরকানী উপজেলার চরগাজীরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিব হাওলাদের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল হাসান জানান, শুক্কুর গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হলে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. জাকারিয়া জানান, সেতারা হালিমের বাসায় শুক্কুর একদিন কাজ করে ৭ শ’ টাকার চুক্তিতে। কাজ শেষে তাকে ২ শ’ টাকা দেওয়া হয়।

সমিতির কিস্তি পরিশোধের জন্য শুক্কুর কয়েক দিন পর পাওনা ৫ শ’ টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়। পরদিন কিস্তি পরিশোধ করেতে না পারায় সমিতির লোকজন শুক্কুরের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।

শুক্কুর বাসায় ফেরার পর স্ত্রী তাকে এ ঘটনা জানালে সেদিনই সে প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হয় এবং সেতারা হালিমের এক পরিচিত জনের সঙ্গে খুন করার পরিকল্পনা করে।

পরিচিতজনের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক সেতারা হালিমের ঘরে ঢুকে যে মালামাল পাওয়া যাবে তা তারা দুজনে ভাগাভাগি করে নেবে-এমন পরিকল্পনাও হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে শুক্কুর ও পরিচিতজনকে নিয়ে সেতারা হালিমের ঘরে কলিং বেল বাজিয়ে প্রবেশ করে।

পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায় স্যালাইনের পাইপ গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সেতারা হালিমকে। সেতারা হালিম নিজ ভবনের দোতলায় একা থাকতেন। হত্যা শেষে বাসায় থাকা স্বর্ণের গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে পেছনের দরজা খুলে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ আসামি শুক্কুর আলীকে গ্রেফতার করতে পারলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সেতারা হালিমের পরিচিতজনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পিরোজপুরে ৫০০ টাকার জন্য হত্যা করা হয় সাংবাদিক আমির খসরুর মাকে

আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২

আজকের ক্রাইম ডেক্স ॥ পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হালিম হাওলাদারের সহধর্মিনী ও ভয়েস অব আমেরিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি আমির খসরুর মা মোসাম্মাৎ সেতারা হালিমের (৭৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পাঁচ মাস পর বুধবার একই এলাকার সিআই পাড়া (কৃষ্ণচূড়া মোড়) থেকে প্রধান আসামি দিনমজুর শুক্কুর আলী হাওলাদারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারের পর ঘাতক শুক্কুর আলী হাওলাদার (৩৪) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মাত্র ৫ শ’ টাকার জন্য তিনি সেতারা বেগমকে গলায় স্যালাইনের পাইপ দিয়ে বেঁধে শ্বাসরুদ্ধ করে খুন করেন বলে জানান। শুক্কুর আলী ইন্দুরকানী উপজেলার চরগাজীরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাবিব হাওলাদের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল হাসান জানান, শুক্কুর গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হলে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. জাকারিয়া জানান, সেতারা হালিমের বাসায় শুক্কুর একদিন কাজ করে ৭ শ’ টাকার চুক্তিতে। কাজ শেষে তাকে ২ শ’ টাকা দেওয়া হয়।

সমিতির কিস্তি পরিশোধের জন্য শুক্কুর কয়েক দিন পর পাওনা ৫ শ’ টাকা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়। পরদিন কিস্তি পরিশোধ করেতে না পারায় সমিতির লোকজন শুক্কুরের বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।

শুক্কুর বাসায় ফেরার পর স্ত্রী তাকে এ ঘটনা জানালে সেদিনই সে প্রতিশোধ নিতে উদ্যত হয় এবং সেতারা হালিমের এক পরিচিত জনের সঙ্গে খুন করার পরিকল্পনা করে।

পরিচিতজনের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক সেতারা হালিমের ঘরে ঢুকে যে মালামাল পাওয়া যাবে তা তারা দুজনে ভাগাভাগি করে নেবে-এমন পরিকল্পনাও হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার রাতে শুক্কুর ও পরিচিতজনকে নিয়ে সেতারা হালিমের ঘরে কলিং বেল বাজিয়ে প্রবেশ করে।

পরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায় স্যালাইনের পাইপ গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সেতারা হালিমকে। সেতারা হালিম নিজ ভবনের দোতলায় একা থাকতেন। হত্যা শেষে বাসায় থাকা স্বর্ণের গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে পেছনের দরজা খুলে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ আসামি শুক্কুর আলীকে গ্রেফতার করতে পারলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সেতারা হালিমের পরিচিতজনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।