সংবাদ শিরোনাম ::
বানারীপাড়ায় টেন্ডার ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৪টি গাছ বিক্রি প্রতিমন্ত্রীর জাল সিল-স্বাক্ষরে কোটি টাকার তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ মোংলায় চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার, উদ্ধার জাল সিল-স্ট্যাম্প ৫২ নম্বর রহমতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত ইঞ্জিনিয়ার ইয়াছির আরাফাত নলছিটিতে ২ ভূমি কর্মকর্তা শোকজ, কানুনগো বদলি গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার দুইজন গ্রেপ্তার, মানববন্ধন ঝালকাঠিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত নলছিটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান: ৫টি দোকানকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা পটুয়াখালী নৌযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক পদে নতুন মুখ: নির্বাচিত হলেন আলোচিত অন্তর বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর থেকে হরিণ চুরির অভিযোগে কেয়ারটেকার ও মালী গ্রেপ্তার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের দাতা সদস্য কুদ্দুস খান বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় প্রেসক্লাবের সভাপতি শুভেচ্ছা

পরকীয়া প্রেমের টানে স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে শালিকে বিয়ে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২ ১১২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভোলা প্রতিনিধি: পরকীয়া প্রেমের টানে স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন দুলাভাই। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলা ৩নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চর পক্ষিয়া গ্রামে।
জানা গেছে, চর পক্ষিয়া গ্রামের মো. আলী লার্টের ছেলে মো. সুজন ৭ বছর আগে প্রেম করে একই গ্রামের মো. রতন বেপারীর মেয়ে সাজেদা বেগমকে (২৫) বিয়ে করেন। সে সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
বিয়ের ৫ বছর পর আপন শ্যালিকা ও স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী হাছনুর বেগমের (১৪) সঙ্গে দুলাভাই সুজনের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ সম্পর্ক গোপন থাকলেও একপর্যায়ে তা আর গোপন থাকেনি।
শ্যালিকাকে তাঁর (দুলাভাইয়ের) বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে এসে কোরবানি ঈদের একদিন আগে ৯ জুলাই বিয়ে করেন দুলাভাই সুজন।
স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করায় শুরু হয় বিপত্তি। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে সুজন শ্যালিকাকে ভোলা শহরের একটি ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে রাখেন। বর্তমানে শ্যালিকা ওই ভাড়াটিয়া বাসায় আছে বলেও সুজন জানিয়েছে।
এদিকে স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করায় এর ন্যায় বিচারের দাবিতে স্থানীয় বিচারকদের ধারে ধারে ঘুরেও কোনো ন্যায় বিচার পাচ্ছেন বলে দাবি সুজনের শশুর রতন বেপারীর।
তিনি অভিযোগ করে জানান, তাঁর জামাই সুজন গোপনে তাঁর স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম করে সকলের অজান্তে তাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ হলে এ নিয়ে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যর কাছে বিচার দিয়েও তিনি ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে সুজন জানান, তিনি দীর্ঘ দুই বছর ধরে শ্যালিকা হাছনুর বেগমের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। তাকে (হাছনুরকে) স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে তিনি ভর্তিও করে দিয়েছেন। শ্যালিকা ও তাঁর প্রেম খুব গভীর হওয়ার ফলে তিনি স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন।
তিনি আরও জানান, শ্যালিকাকে বিয়ে করে ভোলা শহরের একটি ভাড়াটিয়া বাসায় তাকে নিয়ে বসবাস করছেন। আর স্ত্রী সাজেদা বেগমকে তিনি গ্রামের বাড়িতে রেখেছেন।
স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, এসব বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে এখন তিনি তাঁর স্বামীর সংসারেই আছেন।
এ বিষয়ে চর পক্ষিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. জসিম খালাসি জানান, সুজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে একজন মাদক কারবারি। কয়েকমাস পূর্বেও পুলিশ তাকে মাদকসহ গ্রেফতার করেছে। স্থানীয়ভাবে সে লার্ট গ্রুপের বংশধর হওয়ায় স্থানীয় বিচারকরা তাঁর বিচার করতে অসম্মতি জানান।
পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জহির জানান, বিষয়টি তাকে অবগত করা হয়েছে৷ সুজন উশৃংখল হওয়ায় মেয়েটির পরিবারকে আইনের সহায়তা নিতে বলেছিলেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পরকীয়া প্রেমের টানে স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে শালিকে বিয়ে

আপডেট সময় : ০৪:২১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২

ভোলা প্রতিনিধি: পরকীয়া প্রেমের টানে স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে ৮ম শ্রেণীতে পড়ুয়া শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন দুলাভাই। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভোলা সদর উপজেলা ৩নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের চর পক্ষিয়া গ্রামে।
জানা গেছে, চর পক্ষিয়া গ্রামের মো. আলী লার্টের ছেলে মো. সুজন ৭ বছর আগে প্রেম করে একই গ্রামের মো. রতন বেপারীর মেয়ে সাজেদা বেগমকে (২৫) বিয়ে করেন। সে সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
বিয়ের ৫ বছর পর আপন শ্যালিকা ও স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী হাছনুর বেগমের (১৪) সঙ্গে দুলাভাই সুজনের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের এ সম্পর্ক গোপন থাকলেও একপর্যায়ে তা আর গোপন থাকেনি।
শ্যালিকাকে তাঁর (দুলাভাইয়ের) বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে এসে কোরবানি ঈদের একদিন আগে ৯ জুলাই বিয়ে করেন দুলাভাই সুজন।
স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করায় শুরু হয় বিপত্তি। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে সুজন শ্যালিকাকে ভোলা শহরের একটি ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে রাখেন। বর্তমানে শ্যালিকা ওই ভাড়াটিয়া বাসায় আছে বলেও সুজন জানিয়েছে।
এদিকে স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করায় এর ন্যায় বিচারের দাবিতে স্থানীয় বিচারকদের ধারে ধারে ঘুরেও কোনো ন্যায় বিচার পাচ্ছেন বলে দাবি সুজনের শশুর রতন বেপারীর।
তিনি অভিযোগ করে জানান, তাঁর জামাই সুজন গোপনে তাঁর স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেম করে সকলের অজান্তে তাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ হলে এ নিয়ে তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যর কাছে বিচার দিয়েও তিনি ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে সুজন জানান, তিনি দীর্ঘ দুই বছর ধরে শ্যালিকা হাছনুর বেগমের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। তাকে (হাছনুরকে) স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীতে তিনি ভর্তিও করে দিয়েছেন। শ্যালিকা ও তাঁর প্রেম খুব গভীর হওয়ার ফলে তিনি স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে করেছেন।
তিনি আরও জানান, শ্যালিকাকে বিয়ে করে ভোলা শহরের একটি ভাড়াটিয়া বাসায় তাকে নিয়ে বসবাস করছেন। আর স্ত্রী সাজেদা বেগমকে তিনি গ্রামের বাড়িতে রেখেছেন।
স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, এসব বিষয় নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে এখন তিনি তাঁর স্বামীর সংসারেই আছেন।
এ বিষয়ে চর পক্ষিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. জসিম খালাসি জানান, সুজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সে একজন মাদক কারবারি। কয়েকমাস পূর্বেও পুলিশ তাকে মাদকসহ গ্রেফতার করেছে। স্থানীয়ভাবে সে লার্ট গ্রুপের বংশধর হওয়ায় স্থানীয় বিচারকরা তাঁর বিচার করতে অসম্মতি জানান।
পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জহির জানান, বিষয়টি তাকে অবগত করা হয়েছে৷ সুজন উশৃংখল হওয়ায় মেয়েটির পরিবারকে আইনের সহায়তা নিতে বলেছিলেন তিনি।