সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

বাবুগঞ্জে কীটনাশক দিয়ে মাছ শিকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মে ২০২২ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে কীটনাশক দিয়ে মাছ শিকার করে আসছেন একশ্রেণীর অসাধু মাছ শিকারী। তবে এরা শুধু নদীতেই নয় বিভিন্ন মাছের ঘের এবং খালেও কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ পদ্ধতিতে শিকার করা মাছ খেলে যেমন কিডনি ও লিভারের জন্য ক্ষতিকারক তেমনি মাছের বংশ বিনষ্ট হবার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে নদীতে স্রোতের গতিবেগ কমে আসার সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে নদীর তীরে বিষ প্রয়োগ করতে শুরু করে এই অসাধু চক্র। বিষ প্রয়োগে শিকার হওয়া মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। বিগত সময়ে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে আসছিলো যে চক্র সেই চক্রের লোকজন এবারও বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছেন। এই বিষ প্রয়োগ চক্রের লোকজন আরও সক্রিয় হয়েছেন এবার।

বিভিন্ন বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে এই বিষ তারা ক্রয় করেন। পরে রাতের অগ্রভাগে অথবা রাতের শেষ ভাগে নদীর কিনারে নির্দিষ্ট স্থানে বিষ প্রয়োগ করেন। কিছু সময় পর এই বিষের তীব্র দুর্গন্ধের অসহ্য যন্ত্রণায় ছোট বড় চিংড়ি মাছসহ নানা প্রজাতির মাছ লাফিয়ে উঠে শুকনায়। পরে এসব মাছ তারাই নদীর কিনার থেকে কুড়িয়ে তোলেন। পরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন এই মাছ। বিষ প্রয়োগের ক্রিয়া শুরু হতে কিছু সময় পার হওয়ায় এই চক্রের লোকজনকে কেউ সহজে ধরতে পারেননি। এদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রামের মোঃ শাহাব উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খাালে বিষ প্রয়োগ করে অসাধু চক্রের লোকজন মাছ শিকার করে চলেছেন। এভাবে মাছ শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।

প্রতক্ষ্যদর্শী বাবুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ফিরোজ বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রহমতপুর ইউনিয়নের রাজকর এলাকার একটি খালে কে বা কাহারা কীটনাশক প্রযোগ করে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খালের পানির উপরিভাগে ভাসতে দেখে স্থানীয় জনগণকে মাছ ধরতে দেখা গেছে।

এছাড়াও তিনি বলেন, শুকনা মৌসুম আসলে নদীতে পানি স্রোতের গতিবেগ কমে আসে। এই সময় অসাধু মাছ শিকারীরা নদীতে বিষ প্রয়োগ করেন। কিছুক্ষণ পর বিষের তীব্র দুর্গন্ধে নদীর কিনারে ভেসে উঠে মাছ। চিংড়ি মাছ শুকনায় লাফিয়ে উঠে। এসময় যারা বিষ প্রয়োগ করেন তারাই আবার সাধু সেজে নদীর কিনার থেকে মাছ কুড়িয়ে নেন। প্রকৃত বিষ প্রয়োগকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

আর মৎস বিভাগ বলছে, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুবাস সরকার জানান, কেমিক্যাল দিয়ে মাছ শিকার করা হলে, এগুলো মাছের চেয়ে মানুষের জন্য বেশি ক্ষতিকর। এসব মাছ খেলে কিডনি, যকৃৎ, হৃৎপি- অকেজোর মতো জটিল রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

বাবুগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, মাছের ঘেরে কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ পেয়েছি। খুব শীগ্রই প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবুগঞ্জে কীটনাশক দিয়ে মাছ শিকার

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মে ২০২২

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে সন্ধ্যা, সুগন্ধা ও আড়িয়াল খাঁ নদীতে কীটনাশক দিয়ে মাছ শিকার করে আসছেন একশ্রেণীর অসাধু মাছ শিকারী। তবে এরা শুধু নদীতেই নয় বিভিন্ন মাছের ঘের এবং খালেও কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ শিকার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ পদ্ধতিতে শিকার করা মাছ খেলে যেমন কিডনি ও লিভারের জন্য ক্ষতিকারক তেমনি মাছের বংশ বিনষ্ট হবার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে নদীতে স্রোতের গতিবেগ কমে আসার সাথে সাথে বিভিন্ন স্থানে নদীর তীরে বিষ প্রয়োগ করতে শুরু করে এই অসাধু চক্র। বিষ প্রয়োগে শিকার হওয়া মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর নদীতে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করা হয়। বিগত সময়ে নদীতে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে আসছিলো যে চক্র সেই চক্রের লোকজন এবারও বিষ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছেন। এই বিষ প্রয়োগ চক্রের লোকজন আরও সক্রিয় হয়েছেন এবার।

বিভিন্ন বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে এই বিষ তারা ক্রয় করেন। পরে রাতের অগ্রভাগে অথবা রাতের শেষ ভাগে নদীর কিনারে নির্দিষ্ট স্থানে বিষ প্রয়োগ করেন। কিছু সময় পর এই বিষের তীব্র দুর্গন্ধের অসহ্য যন্ত্রণায় ছোট বড় চিংড়ি মাছসহ নানা প্রজাতির মাছ লাফিয়ে উঠে শুকনায়। পরে এসব মাছ তারাই নদীর কিনার থেকে কুড়িয়ে তোলেন। পরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন এই মাছ। বিষ প্রয়োগের ক্রিয়া শুরু হতে কিছু সময় পার হওয়ায় এই চক্রের লোকজনকে কেউ সহজে ধরতে পারেননি। এদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভূতেরদিয়া গ্রামের মোঃ শাহাব উদ্দিন বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে উপজেলার বিভিন্ন নদী ও খাালে বিষ প্রয়োগ করে অসাধু চক্রের লোকজন মাছ শিকার করে চলেছেন। এভাবে মাছ শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।

প্রতক্ষ্যদর্শী বাবুগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ফিরোজ বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রহমতপুর ইউনিয়নের রাজকর এলাকার একটি খালে কে বা কাহারা কীটনাশক প্রযোগ করে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ খালের পানির উপরিভাগে ভাসতে দেখে স্থানীয় জনগণকে মাছ ধরতে দেখা গেছে।

এছাড়াও তিনি বলেন, শুকনা মৌসুম আসলে নদীতে পানি স্রোতের গতিবেগ কমে আসে। এই সময় অসাধু মাছ শিকারীরা নদীতে বিষ প্রয়োগ করেন। কিছুক্ষণ পর বিষের তীব্র দুর্গন্ধে নদীর কিনারে ভেসে উঠে মাছ। চিংড়ি মাছ শুকনায় লাফিয়ে উঠে। এসময় যারা বিষ প্রয়োগ করেন তারাই আবার সাধু সেজে নদীর কিনার থেকে মাছ কুড়িয়ে নেন। প্রকৃত বিষ প্রয়োগকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

আর মৎস বিভাগ বলছে, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এব্যাপারে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুবাস সরকার জানান, কেমিক্যাল দিয়ে মাছ শিকার করা হলে, এগুলো মাছের চেয়ে মানুষের জন্য বেশি ক্ষতিকর। এসব মাছ খেলে কিডনি, যকৃৎ, হৃৎপি- অকেজোর মতো জটিল রোগে আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

বাবুগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন, মাছের ঘেরে কীটনাশক প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অভিযোগ পেয়েছি। খুব শীগ্রই প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।