সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ঝালকাঠিতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মারক সংবর্ধনা বরিশালে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে জামায়াতকর্মী আটক সভাপতি-আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক- মনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা সবুজ বাংলাদেশ গড়তে ঝালকাঠিতে ১ হাজার ৫শ গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন ৮২ নং পূর্ব চাঁদপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষানুরাগী ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদুল ইসলাম মেমনগর বি.ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভাষক মো. মশিউর রহমান চুয়াডাঙ্গার আদালত মামলা পরিচালনা করতে যেয়ে ভুয়া আইনজীবীসহ আটক ২ গৌরনদীতে সাংবাদিকের ওপর হামলা, সকল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল চুয়াডাঙ্গা থানা মোড়ে ৩০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালে ওজন কম পাওয়ার অভিযোগ, ডিলার ও কর্মকর্তার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

বাবুগঞ্জে গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২ ৮১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জঃ বাড়ছে জনসংখ্যা, কমছে ফসলি জমি। তাই মানুষের চাহিদা পূরণ করতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে স্বল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন সরকার।

বরিশালের বাবুগঞ্জ একটি কৃষি প্রধান উপজেলা। উপজেলায় বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি অনেক জমিতে গমের উৎপাদন হতো। তবে দিন দিন গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। ফলে কমছে গমের উৎপাদন।

জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলায় গমের আবাদ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় গমের দাম অনেক কম থাকা, ব্লাস্টসহ বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রমণ হওয়া এবং প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা না পাওয়া সহ নানান কারণে গমের আবাদ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল কিন্তু চাষাবাদ হয়েছিল ৭০ হেক্টর জমিতে, ২০২১ সালে লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল ৭০ হেক্টর জমিতে কিন্তু আবাদ হয়েছিল ৫৮ হেক্টর জমিতে।

আর চলতি মৌসুমে গমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৫ হেক্টর জমিতে তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে কৃষি বিভাগ। এবছর গমের আবাদ হয়েছে ৬০ হেক্টর জমিতে। পর পর ৩ বছর গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি কৃষি বিভাগ।

বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাদল ফকির, জামাল মোল্লা সহ বেশ কয়েকজন জানান, যারা প্রকৃত কৃষক তাঁরা অনেকেই সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন তারাও হয়তো গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কারণ এক মণ গম উৎপাদন করতে ৬শ থেকে ৭শ টাকা খরচ হয়ে যায়। মৌসুমে বাজারে প্রতি মণ গম বিক্রি হয় মাত্র ৫শ থেকে ৬শ টাকা। সরকারি ভাবেও যথা সময়ে গম কেনা হয় না। এতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিন দিন গমের আবাদ থেকে সরে আসছে।

উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের কৃষক জালাল আহমেদ জানান, বাজারে গমের থেকে ধানের চাহিদা বেশি, গমের থেকে ধানের দামও বেশি। সেজন্য তার মতো অনেক কৃষক দিন দিন গমের আবাদ ছেড়ে দিয়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, গমের বীজ বপনের যখন সঠিক সময় তখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে সময় মতো চাষিরা তাদের জমিতে এ বছর গমের বীজ বপন করতে পারেনি।
এছাড়াও কৃষকরা বোরো ধানের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় গমের আবাদ কম হয়েছে। কয়েকবছর আগে বাবুগঞ্জে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০০ হেক্টর জমিতে কিন্তু বর্তমানে ৩হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের গম আবাদে উৎসাহিত করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাবুগঞ্জে গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা

আপডেট সময় : ১০:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ এপ্রিল ২০২২

মোহাম্মদ আলী, বাবুগঞ্জঃ বাড়ছে জনসংখ্যা, কমছে ফসলি জমি। তাই মানুষের চাহিদা পূরণ করতে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে স্বল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন সরকার।

বরিশালের বাবুগঞ্জ একটি কৃষি প্রধান উপজেলা। উপজেলায় বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি অনেক জমিতে গমের উৎপাদন হতো। তবে দিন দিন গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। ফলে কমছে গমের উৎপাদন।

জানা গেছে, বাবুগঞ্জ উপজেলায় গমের আবাদ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় গমের দাম অনেক কম থাকা, ব্লাস্টসহ বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রমণ হওয়া এবং প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা না পাওয়া সহ নানান কারণে গমের আবাদ দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষকরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলায় ৭৫ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল কিন্তু চাষাবাদ হয়েছিল ৭০ হেক্টর জমিতে, ২০২১ সালে লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছিল ৭০ হেক্টর জমিতে কিন্তু আবাদ হয়েছিল ৫৮ হেক্টর জমিতে।

আর চলতি মৌসুমে গমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬৫ হেক্টর জমিতে তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে কৃষি বিভাগ। এবছর গমের আবাদ হয়েছে ৬০ হেক্টর জমিতে। পর পর ৩ বছর গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি কৃষি বিভাগ।

বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের বাদল ফকির, জামাল মোল্লা সহ বেশ কয়েকজন জানান, যারা প্রকৃত কৃষক তাঁরা অনেকেই সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন তারাও হয়তো গম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কারণ এক মণ গম উৎপাদন করতে ৬শ থেকে ৭শ টাকা খরচ হয়ে যায়। মৌসুমে বাজারে প্রতি মণ গম বিক্রি হয় মাত্র ৫শ থেকে ৬শ টাকা। সরকারি ভাবেও যথা সময়ে গম কেনা হয় না। এতে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দিন দিন গমের আবাদ থেকে সরে আসছে।

উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের কৃষক জালাল আহমেদ জানান, বাজারে গমের থেকে ধানের চাহিদা বেশি, গমের থেকে ধানের দামও বেশি। সেজন্য তার মতো অনেক কৃষক দিন দিন গমের আবাদ ছেড়ে দিয়ে অন্য ফসলের দিকে ঝুঁকছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন জানান, গমের বীজ বপনের যখন সঠিক সময় তখন প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে সময় মতো চাষিরা তাদের জমিতে এ বছর গমের বীজ বপন করতে পারেনি।
এছাড়াও কৃষকরা বোরো ধানের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় গমের আবাদ কম হয়েছে। কয়েকবছর আগে বাবুগঞ্জে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০০ হেক্টর জমিতে কিন্তু বর্তমানে ৩হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

তবে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের গম আবাদে উৎসাহিত করার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।