সংবাদ শিরোনাম ::
কাঠালিয়া আমুয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মনস্বিতা কলেজ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন, রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি। বাবুগঞ্জে দুই বাসের সংঘর্ষ, গাছের সঙ্গে ধাক্কা। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা যাত্রীরা দর্শনায় কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেফতার কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের জরুরি বৈঠক: অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন ও ঐক্যের সংকল্প ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বাল্যবিবাহ , ঝুঁকিতে কিশোরীদের ভবিষ্যৎ ঘোড়াঘাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলোচনা সভা কাঠালিয়াতে অটোকে সাইড দিতে গিয়ে দেবে গেল বিআরটিসি বাস, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা সুমন হত্যার বিচার ও খুনির ফাঁসির দাবিতে কবাই ইউনিয়ন বিএনপির মানববন্ধন ঘোড়াঘাটের পাশা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের চালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় নাগরিক সেবা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি চুয়াডাঙ্গার সকল সরকারী দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বিনিময় সভা,

রাজশাহী নগরীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে পুকুর ভরাট ।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মে ২০২১ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী নগরীর শাহমুখদুম থানাধীন বড়বনগ্রাম (চকপাড়ায়), গত কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের কার্যক্রম। আজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুকুরের এক-তৃতীয়াংশ ভরাটের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করে ফেলা হয়েছে।

২০০০ সালের জলাশয় সংরক্ষণ আইনের এর ২ (চ) ধারায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংজ্ঞাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত মামলার রায় পাওয়ার এক বছরের মধ্যে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিবকে এ আদেশটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। গেজেট প্রকাশিত হলে, ব্যক্তি মালিকানার পুকুরও চাইলেই ভরাট করে ফেলা যাবে না।
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এ সংক্রান্ত রায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে রুল শুনানিতে অ্যাডেভোকেট মনজিল মোরসেদ আদালতকে বলেন, পরিবেশ আইন-১৯৯৫ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর বিধান অনুসারে যে কোনও জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ এবং ব্যক্তিগত পুকুর হলেও তা জলাধারের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা ভরাট করা যাবে না।

কিন্তু অলৌকিক ক্ষমতায় এই বৈশ্বিক করোনা মহামারিতেও নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে পুকুর ভরাটের কাজ। এদিকে এলাকাবাসীর দাবী পুকুরটি ভরাট হলে ঐ এলাকার শত শত বাড়ি ঘর পানিতে নিমজ্জিত সহ নানা দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
পুকুরটি ভরাট বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঐ এলাকার অসহায় ভুক্তভুগী সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রাজশাহী নগরীর শাহমুখদুম থানাধীন বড়বনগ্রাম (চকপাড়ায়) যে অবৈধ পুকুর ভরাট চলছে, এর সাথে জড়িত রয়েছে ঐ এলাকার জমির দালাল ও প্লট ব্যবসায়ী কয়েক জনের নাম। পুকুর ভরাটে জড়িতরা হলেন, মোস্তফা, আলম, শফিকুল ও সেলিম। এলাকাবাসী বলছেন, অলৌকিকভাবে তারা ধরা ছোয়ার বাহিরে আছেন।

যখন সরকারী অফিস আদালত বন্ধসহ সারাদেশে চলছে লকডাউন, ঠিক তখনই সুযোগ সন্ধানীরা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পুকুর ভরাট করছেন।
প্রায় দেড় থেকে দু বিঘার এই পুকুরটি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত এলাকায় পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রনী ভুমিকা রেখেছে। কিন্তু সম্প্রতি এই পুকুরটি ভরাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পুকুর খেকো এই ভুমি দস্যুরা।
রাতের আধাঁরেই ইতিমধ্যে পুকুরটি এক তৃতীয়াংশ ভরাট করা হয়েছে। তাই ঐ এলাকার ভুক্তভুগী জনগণ সহ নগরীর সচেতন মহলের দাবী দ্রুতই এই অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে সরকারী পুকুর হলে আমাদের করণীয় ছিল। কিন্তু এটি পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ।

পরে বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবুল হায়াত’কে, মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মাহামুদা আক্তার কে ফোন দিলে তিনিও ফোন রিসিভ করেনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে ১৭ নং ওয়ার্ড কমিশনার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত আছি, ঐ এলাকার কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে গভীর রাতে বালু ফেলে অবৈধভাবে পুকুরটি ভরাট করছে।

এ বিষয়ে আরোও জানতে শাহ্মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত রয়েছি, আইনগতভাবে যেটা ব্যবস্থা নেয়ার আমি সেটা নিব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজশাহী নগরীতে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে পুকুর ভরাট ।

আপডেট সময় : ০৬:২৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ মে ২০২১

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহী নগরীর শাহমুখদুম থানাধীন বড়বনগ্রাম (চকপাড়ায়), গত কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে অবৈধভাবে পুকুর ভরাটের কার্যক্রম। আজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুকুরের এক-তৃতীয়াংশ ভরাটের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন করে ফেলা হয়েছে।

২০০০ সালের জলাশয় সংরক্ষণ আইনের এর ২ (চ) ধারায় প্রাকৃতিক জলাশয়ের সংজ্ঞাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত মামলার রায় পাওয়ার এক বছরের মধ্যে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সচিবকে এ আদেশটি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। গেজেট প্রকাশিত হলে, ব্যক্তি মালিকানার পুকুরও চাইলেই ভরাট করে ফেলা যাবে না।
বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের এ সংক্রান্ত রায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে রুল শুনানিতে অ্যাডেভোকেট মনজিল মোরসেদ আদালতকে বলেন, পরিবেশ আইন-১৯৯৫ ও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ এর বিধান অনুসারে যে কোনও জলাশয় ভরাট নিষিদ্ধ এবং ব্যক্তিগত পুকুর হলেও তা জলাধারের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তা ভরাট করা যাবে না।

কিন্তু অলৌকিক ক্ষমতায় এই বৈশ্বিক করোনা মহামারিতেও নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে পুকুর ভরাটের কাজ। এদিকে এলাকাবাসীর দাবী পুকুরটি ভরাট হলে ঐ এলাকার শত শত বাড়ি ঘর পানিতে নিমজ্জিত সহ নানা দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
পুকুরটি ভরাট বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ঐ এলাকার অসহায় ভুক্তভুগী সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, রাজশাহী নগরীর শাহমুখদুম থানাধীন বড়বনগ্রাম (চকপাড়ায়) যে অবৈধ পুকুর ভরাট চলছে, এর সাথে জড়িত রয়েছে ঐ এলাকার জমির দালাল ও প্লট ব্যবসায়ী কয়েক জনের নাম। পুকুর ভরাটে জড়িতরা হলেন, মোস্তফা, আলম, শফিকুল ও সেলিম। এলাকাবাসী বলছেন, অলৌকিকভাবে তারা ধরা ছোয়ার বাহিরে আছেন।

যখন সরকারী অফিস আদালত বন্ধসহ সারাদেশে চলছে লকডাউন, ঠিক তখনই সুযোগ সন্ধানীরা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে পুকুর ভরাট করছেন।
প্রায় দেড় থেকে দু বিঘার এই পুকুরটি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত এলাকায় পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রনী ভুমিকা রেখেছে। কিন্তু সম্প্রতি এই পুকুরটি ভরাটে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পুকুর খেকো এই ভুমি দস্যুরা।
রাতের আধাঁরেই ইতিমধ্যে পুকুরটি এক তৃতীয়াংশ ভরাট করা হয়েছে। তাই ঐ এলাকার ভুক্তভুগী জনগণ সহ নগরীর সচেতন মহলের দাবী দ্রুতই এই অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমর কুমার পাল বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ভিতরে সরকারী পুকুর হলে আমাদের করণীয় ছিল। কিন্তু এটি পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ।

পরে বোয়ালিয়া জোনের সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবুল হায়াত’কে, মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এরপর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মাহামুদা আক্তার কে ফোন দিলে তিনিও ফোন রিসিভ করেনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে ১৭ নং ওয়ার্ড কমিশনার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত আছি, ঐ এলাকার কয়েকজন মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে গভীর রাতে বালু ফেলে অবৈধভাবে পুকুরটি ভরাট করছে।

এ বিষয়ে আরোও জানতে শাহ্মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত রয়েছি, আইনগতভাবে যেটা ব্যবস্থা নেয়ার আমি সেটা নিব।