সিলেটে হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি !! বর্ষা মৌসুমে তা বেস্তে যাবার সম্ভাবনা। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১ ১২০ বার পড়া হয়েছে

আবুল কাশেম রুমন,সিলেট: আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগাম শর্তকর্তা কিছু দিনের ভেতরে সিলেটে কাল বৈশাখী ঝড় বৃষ্টি হতে পারে। বর্ষা মৌসুমে সিলেটের নি¤œা অঞ্চল এলাকা প্রায়ই নিমজ্জ্বিত থাকে বন্যার পানিতে। তলিয়ে যায় হাজার হাজার হেক্টর হাওর বাওরের ধান খেত। হাওরের উন্নয়ন বাধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) দীর্ঘ দিন ধরে প্রকল্প নিয়ে কাজ করলেও তা চলছে ধীর গতিতে।
জানা গেছে, এবার সিলেট বিভাগে ৬৭৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৪ কোটি ৮ লাখ টাকা।
চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে সিলেট বিভাগের সকল হাওর রক্ষা বাঁধ ও ক্লোজার নির্মাণে ৬৭৪ দশমিক ৯০৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করছে পাউবো। ৯১১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৩৪ কোটি ৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা। কাজের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭২ কোটি ৯৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা অবমুক্ত করেছে পাউবো।
পাউবোর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলায় বাঁধ ও পিআইসির সংখ্যা সর্বোচ্চ। সুনামগঞ্জ জেলায় ৮০৯টি পিআইসির মাধ্যমে ৬২০ দশমিক ২১৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় নির্ধারণ হয়েছে ১২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কাজের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭৯ কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা অবমুক্ত করা হয়েছে। সিলেট জেলায় ৪৩টি পিআইসির মাধ্যমে ২৩ দশমিক ৭১৭ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা অবমুক্ত হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলায় ১২টি পিআইসির মাধ্যমে নির্মাণ করা হবে ৬ দশমিক ৯৬০ কিলোমিটার বাঁধ। এতে ব্যয় ধরা হয় ৫০ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা অবমুক্ত হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় ৪৭টি পিআইসির মাধ্যমে ২৪ দশমিক ১৪ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করবে পাউবো। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এ পর্যন্ত ১ কোটি ৬৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা অবমুক্ত হয়েছে।
পাউবোর সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৩৩টি পিআইসির মধ্যে ৩১টির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৪১টির মধ্যে ২২টির, জামালগঞ্জ উপজেলার ৪৪টির মধ্যে ৪৩টি, তাহিরপুর উপজেলার ৮৩টির মধ্যে ৭৩টি, ধর্মপাশা উপজেলার ১৭০টির মধ্যে ১৬৩টি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ৪৫টির মধ্যে ২৬টি, জগন্নাথপুর উপজেলার ৩৬টির মধ্যে ২৯টি, দিরাই উপজেলার ১২০টির মধ্যে ১০৫টি, শাল্লা উপজেলার ১৫৬টির মধ্যে ১৪৮টি, ছাতক উপজেলার ১৮টির মধ্যে ১৫টি ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ৪৬টি পিআইসির মধ্যে ৩১টির মাটির কাজ শেষ হয়েছে।
এখনো ৩৯টি পিআইসির মাটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। মাটির কাজ শেষ হওয়া, প্রকল্প সমূহে দূর্বাঘাস লাগানো, সুলুফ কাটিংসহ নানান কাজ চলছে বলে পাউবো সূত্র জানিয়েছে।
এ দিকে সিলেট জেলার মধ্যে সিলেট সদর উপজেলায় ২টি, বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৪টি, ওসমানীনগর উপজেলায় ৩টি, গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৭টি, জৈন্তাপর উপজেলায় ৬টি, কানাইঘাট উপজেলায় ৮টি, জকিগঞ্জ উপজেলায় ১টি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ১২টি পিআইসি হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ করছে। এগুলোর মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজ হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলার মধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪টি, বাহুবল উপজেলায় ৩টি, নবীগঞ্জ উপজেলায় ৬টি, লাখাই উপজেলায় ৮টি, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ৯টি, মাধবপুর উপজেলায় ৭টি ও বানিয়াচং উপজেলায় ১০টি পিআইসির মাধ্যমে বাঁধের কাজ চলছে। এ পর্যন্ত এলাগুলোতে ৮৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। বর্তমানে দূর্বাঘাস লাগানো, ড্রেসিংসহ অন্যান্য কাজ চলছে।
মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় ৩টি, কুলাউড়া উপজেলায় ৩টি, বড়লেখা উপজেলায় ১টি, কমলগঞ্জ উপজেলায় ১টি, রাজনগর উপজেলায় ৩টি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১টি পিআইসির মাধ্যমে হাওর রক্ষা বাঁধের কাজ করছে পাউবো। এ জেলায় ১২টি পিআইসির শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জেলাগুলোতে হাওর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বর্ষা মৌসুমের আগে সম্পন্ন নালে। অতি বন্যায় প্রকল্পের কাজ কাজ বেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে হাওর বিশ্লেষকদের ধারণা ।
















