বরিশালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ১২২ বার পড়া হয়েছে

আজকের ক্রাইম ডেক্স: পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া ও বাতিল করার অভিযোগে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। বাবুগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে নগরীর বান্দ রোডের মেসার্স পিওর এন্টারপ্রাইজের মালিক মিজানুর রহমান রোববার মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক মো. আতিকুজ্জামান মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী দিন ধার্য করেন। মামলার অন্য বিবাদীরা হলেন- আরএমও, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, উপজেলা বন কর্মকর্তা, বরিশাল সিভিল সার্জন ও বাবুগঞ্জ বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠীর ঠিকাদার শফিকুর রহমান খান।
মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, মেসার্স পিওর এন্টারপ্রাইজের মালিক মিজানুর রহমান বর্তমানে মেহেন্দিগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ এবং বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ২০২০-২০২১ অর্থবছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য পথ্যসামগ্রী, মনোহরি ও বিবিধ সামগ্রী সরবরাহ এবং ময়লা কাপড় ধোলাই করতে ঠিকাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করেন।
ওই দরপত্রে ২৪টি শর্তাবলী উল্লেখ করা হয়। এতে ৩১ ডিসেম্বর ঠিকাদার মিজানুর রহমান কাজ পেতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দরপত্র ফরম দাখিল করেন। একই সঙ্গে চাহিদামতো সব কাগজপত্র সংযুক্ত করেন কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিয়মবহির্ভূতভাবে দরপত্রসহ অন্যান্য কাগজপত্র নিজের বাসায় রাখেন।
দরপত্র দাখিলের পর থেকে ১ সপ্তাহের মধ্যে ঠিকাদার যাচাই-বাছাই করে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়; যা আরও ৯টি উপজেলায় একইভাবে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দরপত্র দাখিলের পর ২৮ দিন অতিবাহিত হলেও সিদ্ধান্ত নেয়া থেকে বিরত থাকেন।
ঠিকাদার মিজানুর রহমান সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও তাকে কার্যাদেশ না দিয়ে কালক্ষেপণ করেন। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে ঠিকাদার শফিকুর রহমান খানের শর্তাবলীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার পরও নিজ বাসায় বসে পূর্বের তারিখে ফরম ফিলাপ করে ঠিকাদার মিজানুর রহমানকে দরপত্রের কার্যাদেশ দেয়া থেকে বঞ্চিত করেন।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানে শর্তাবলী ভঙ্গ করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদার শফিকুর রহমান খানকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগে ২১ জানুয়ারি ঠিকাদার মিজানুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করে তিন দিনের মধ্যে তাকে কার্যাদেশ বুঝিয়ে দিতে অনুরোধ করেন।
একই সঙ্গে তিনি বরিশাল সিভিল সার্জন বরাবর আপিল দায়ের করেন। সিভিল সার্জন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু ২৭ জানুয়ারি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কোনো প্রকার কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে মিজানুর রহমানকে শুধুমাত্র মনোহরি ও বিবিধ মালামাল সরবরাহ এবং কাপড় ধোলাই কাজের ঠিকাদার নিয়োগ করেন। একই সঙ্গে তাকে পথ্য সরবরাহের কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলেন।
অপরদিকে শফিকুর রহমান খানকে শর্তাবলীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও পথ্য সরবরাহের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করেন। এ ঘটনায় রোববার মামলাটি দায়ের করলে বিচারক উপরোক্ত আদেশ দেন।


























