সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জের চাঁদপাশা ইউপিতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম। ঝালকাঠিতে ১০ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার ঝালকাঠিতে স্টেকহোল্ডারদের সাথে নৌ পুলিশের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভীমরুলি পেয়ারা বাগানে শব্দযন্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, দুই ট্রলারকে জরিমানা ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী পেয়ারা বাগান পরিদর্শনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেখার যেন কেউ নেই ! বানারীপাড়া-বরিশাল সড়কে খানাখন্দে অন্তহীণ জনদুর্ভোগ বাবুগঞ্জে গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ঘটনায় ৩জনকে আসামি করে মামলা কলাপাড়ায় স্কুলের সামনে নিম্নমানের শিশু খাদ্য বিক্রির অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা বরিশালে পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মেলন: সম্প্রীতির আহ্বান, গুণীজনদের সম্মাননা মোরেলগঞ্জে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় সংলাপ

আমাকে অপহরণ করা হয়নি’ বললেন স্ত্রী, তবুও স্বামীর ২০ বছরের কারাদণ্ড। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ১০৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের ক্রাইম ডেক্স
৯ বছরের সংসারে রয়েছে দু’টি সন্তান। অথচ স্ত্রী অপহরণের মামলায় স্বামীকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সন্তান নিয়ে বার বার আদালতে চক্কর কাটছেন স্ত্রী। আইনজীবীরা বলছেন, রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক মনোভাব প্রয়োগ করা হয়নি।

প্রথম স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে ঘর ছাড়েন বরগুনার ফাতিমা। কিছুদিন পর স্বামীকে তালাক দেন তিনি। বিয়ে করেন শাহ আলমকে। ৯ বছর ধরে সুখে শান্তিতেই ছিলেন তারা। আরাফাত ও আরিয়ান নামে ৭ ও ৫ বছরের দুটি সন্তান রয়েছে তাদের।
ফাতিমা যখন দ্বিতীয় বিয়ে করেন তখন প্রাক্তন স্বামী তার স্ত্রীকে অপহরণের মামলা করেন শাহ আলমের বিরুদ্ধে। সেই মামলার বিচার চলেছে ৯ বছর ধরে। একাধিকবার ফাতিমা আদালতে গিয়ে বলেছেন, দ্বিতীয় স্বামী শাহ আলম তাকে অপহরণ করেননি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

দীর্ঘ শুনানি শেষে স্ত্রীকে অপহরণের দায়ে স্বামী শাহ আলমকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। অপহরণে সহযোগিতার দায়ে আরও ৭ জনকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফাতিমা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ‘আমাকে শাহ আলম অপহরণ করে নাই। শাহ আলমকে আমি মাস খানেক আগে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি। ২০০৭ সালে জাকিরের সঙ্গে বিয়ে হয়। জাকিরের অত্যাচারের অতিষ্ঠ হয়ে শাহ আলমকে বিয়ে করি। জাকিরকে ৪/৫ মাস পূর্বে তালাক দেই। সে এখন আর আমার স্বামী নয়। আমাকে কেউ অপহরণ করে নাই।’
যাকে অপহরণ নিয়ে এত কাহিনী, তিনি জবানবন্দি দেয়ার পরও কেন এমন রায়? প্রশ্নের উত্তরে আসামির আইনজীবী জানান, এ মামলায় বিচারিক মনোভাব দেখাননি বিচারক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘অপহরণ মামলার মূল বিষয়বস্তু হলো ২২ ধারার জবানবন্দি। ২২ ধারার জবানবন্দিতে ভিকটিম কি বলল, এটাই মূল আলোচ্য বিষয়। এবং ভিকটিমের বয়স ২৭ বছর তার মানে ভিকটিম এডাল্ট। ভিকটিম এসে আদালতে বলছে যে, ‘আমি অপহৃত হয়নি। আমি স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি।’ তাহলে সেখানে আর কিছু থাকার কথা না। এ মামলায় অনিবার্যভাবে খালাস দেওয়া ছাড়া আর কোনো অপশনই থাকার কথা না।’
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শাহ আলমের জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি হবে উচ্চ আদালত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমাকে অপহরণ করা হয়নি’ বললেন স্ত্রী, তবুও স্বামীর ২০ বছরের কারাদণ্ড। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:৩৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আজকের ক্রাইম ডেক্স
৯ বছরের সংসারে রয়েছে দু’টি সন্তান। অথচ স্ত্রী অপহরণের মামলায় স্বামীকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সন্তান নিয়ে বার বার আদালতে চক্কর কাটছেন স্ত্রী। আইনজীবীরা বলছেন, রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক মনোভাব প্রয়োগ করা হয়নি।

প্রথম স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে ঘর ছাড়েন বরগুনার ফাতিমা। কিছুদিন পর স্বামীকে তালাক দেন তিনি। বিয়ে করেন শাহ আলমকে। ৯ বছর ধরে সুখে শান্তিতেই ছিলেন তারা। আরাফাত ও আরিয়ান নামে ৭ ও ৫ বছরের দুটি সন্তান রয়েছে তাদের।
ফাতিমা যখন দ্বিতীয় বিয়ে করেন তখন প্রাক্তন স্বামী তার স্ত্রীকে অপহরণের মামলা করেন শাহ আলমের বিরুদ্ধে। সেই মামলার বিচার চলেছে ৯ বছর ধরে। একাধিকবার ফাতিমা আদালতে গিয়ে বলেছেন, দ্বিতীয় স্বামী শাহ আলম তাকে অপহরণ করেননি। কিন্তু কে শোনে কার কথা।

দীর্ঘ শুনানি শেষে স্ত্রীকে অপহরণের দায়ে স্বামী শাহ আলমকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। অপহরণে সহযোগিতার দায়ে আরও ৭ জনকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফাতিমা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, ‘আমাকে শাহ আলম অপহরণ করে নাই। শাহ আলমকে আমি মাস খানেক আগে স্বেচ্ছায় বিয়ে করেছি। ২০০৭ সালে জাকিরের সঙ্গে বিয়ে হয়। জাকিরের অত্যাচারের অতিষ্ঠ হয়ে শাহ আলমকে বিয়ে করি। জাকিরকে ৪/৫ মাস পূর্বে তালাক দেই। সে এখন আর আমার স্বামী নয়। আমাকে কেউ অপহরণ করে নাই।’
যাকে অপহরণ নিয়ে এত কাহিনী, তিনি জবানবন্দি দেয়ার পরও কেন এমন রায়? প্রশ্নের উত্তরে আসামির আইনজীবী জানান, এ মামলায় বিচারিক মনোভাব দেখাননি বিচারক।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ‘অপহরণ মামলার মূল বিষয়বস্তু হলো ২২ ধারার জবানবন্দি। ২২ ধারার জবানবন্দিতে ভিকটিম কি বলল, এটাই মূল আলোচ্য বিষয়। এবং ভিকটিমের বয়স ২৭ বছর তার মানে ভিকটিম এডাল্ট। ভিকটিম এসে আদালতে বলছে যে, ‘আমি অপহৃত হয়নি। আমি স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি।’ তাহলে সেখানে আর কিছু থাকার কথা না। এ মামলায় অনিবার্যভাবে খালাস দেওয়া ছাড়া আর কোনো অপশনই থাকার কথা না।’
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শাহ আলমের জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি হবে উচ্চ আদালত।