বরিশালে বৌভাতে ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে বরের চাচা নিহত, কনেসহ আটক ২০। আজকের ক্রাইম-নিউজ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী ২০২১ ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

✪ আরিফ আহমেদ মুন্না ➤ বাবুগঞ্জে বৌভাতের অনুষ্ঠানে মাংস দিতে দেরি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে কনেপক্ষের বেধড়ক মারপিটে বরের চাচা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। একই সময় কমবেশি আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক অতিথি। গুরুতর অবস্থায় ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাত্রী ও তার বাবাসহ কনেপক্ষের ২০ জনকে আটক করেছে গ্রামবাসী। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দক্ষিণ রফিয়াদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম আজাহার আলী মীর (৬৫)। তিনি রফিয়াদী গ্রামের মৃত মৌজে আলী মীরের ছেলে ও বিয়ের পাত্র সজীব মীরের চাচা। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিয়ের পাত্রী রুনা আক্তার ও তার বাবা আবুল কালাম হাওলাদারসহ কনেপক্ষের মোট ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। বিয়ের কনেসহ আটককৃতদের অধিকাংশের বাড়ি বরিশালের কাউনিয়া এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রফিয়াদী গ্রামের মৃত মোতাহার আলী মীরের ছেলে সজীব মীরের সাথে বরিশালের কাউনিয়া সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার আবুল কালাম হাওলাদারের মেয়ে রুনা আক্তারের সঙ্গে গত শুক্রবার বিয়ে হয়। ওই বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার দুপুরে কাউনিয়া এলাকা থেকে কনেপক্ষের অর্ধশতাধিক মেহমান রফিয়াদী গ্রামে বর সজীব মীরের বাড়িতে উপস্থিত হয়।
স্থানীয় চাঁদপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফারুকুল ইসলাম জানান, বিয়ের বর সজীব মীরের বাড়িতে বৌভাতের খাবার পরিবেশনের সময় কনেপক্ষের একটি টেবিলে মাংস দিতে দেরি করায় বাদানুবাদের এক পর্যায়ে খাবার পরিবেশনকারীর ওপর হামলা চালায় কনেপক্ষ। এসময় বরের চাচা আজাহার আলী মীর তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে তাকেও বেধড়ক মারপিট শুরু করে কনেপক্ষের উত্তেজিত অতিথিরা। কনেপক্ষের উপর্যুপরি মারপিটে এসময় বরের চাচা আজাহার আলী মীর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে তুমূল সংঘর্ষ শুরু হলে বিয়েবাড়ি মূহুর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সৈয়দ ফারুকুল ইসলামসহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মাংস দিতে দেরি হওয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট ওই সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বৌভাতের মঞ্চ ছেড়ে অতিথিদের সঙ্গে নববধূ রুনা আক্তার নিজেও মারপিটে অংশগ্রহণ করেন। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মেহমান কমবেশি আহত হন। একপর্যায়ে পাত্রপক্ষের অতিথি ও রফিয়াদী গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে নববধূ রুনা আক্তার ও তার বাবা আবুল কালাম হাওলাদারসহ কনেপক্ষের ২০ জনকে আটক করে একটি ঘরে আটকে রাখে এলাকাবাসী। পরে এয়ারপোর্ট থানায় খবর দিলে পুলিশ সন্ধ্যায় আটককৃতদের থানায় নিয়ে যায়।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাহিদ বিন আল জানান, বিএমপির এয়ারপোর্ট থানাধীন বাবুগঞ্জের রফিয়াদী গ্রামে বিয়ে বাড়িতে সংঘর্ষের খবর পেয়ে উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আজাহার আলী মীর নামে (৬৫) এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় এসময় ঘটনাস্থল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোট ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং নববধূসহ ১১ জন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় বরপক্ষ থেকে কনেপক্ষের বিরুদ্ধে একটি হত্যামামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওসি।


























