সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

আমি ও বাবার অভিভাবক ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক’। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ছিলেন আমার এবং আমার বাবারও অভিভাবক। তিনিই আমাকে ল পড়তে বলেছেন। নিজে গ্যারান্টি হয়ে ভিসা করে লন্ডন পাঠিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুর পর নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থ।

‘চলে গেলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, স্যারকে নিয়ে লিখে শেষ করতে পারব না। তখন আমার বয়স ১৭, ভবিষ্যতে কী করব তেমন কোনও পরিকল্পনা ছিল না। হঠাৎ ডেকে নিয়ে গেলেন স্যার। বলল ল’ পড়, তুই পারবি, নিজে গ্যারান্টি হয়ে ভিসা করে দিলেন, কলেজে ভর্তি করে দিলেন। নিজের ভাইকে দায়িত্ব দিলেন লন্ডনে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে।’
‘সেই থেকে আমার শুরু, ফিরে এসে স্যারের সঙ্গেই কাজ শুরু। স্যার না থাকলে আমি হয়তো আজ আমি হতাম না। স্যার আমার অভিভাবক ছিলেন, আমার বাবারও অভিভাবক ছিল।’
‘জীবনের সকল উপার্জন নীরবে দান করে গেছেন। কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। একজন বিপদের বন্ধু, জাতির অভিভাবক। A True Legend (সত্যিকারের কিংবদন্তি) চিরকাল ঋণী থাকবে। আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক।’
উল্লেখ্য শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবীণ এই আইনজীবী। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রফিক-উল হক।

রফিক-উল হকের স্ত্রী ফরিদা হক বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান। তার ছেলে ফাহিম-উল হকও আইনজীবী।
রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। তার বাল্যকাল কেটেছে কলকাতার চেতলায়। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তৎকালীন পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে চলে আসেন ঢাকায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারি আইনে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
সফলতার অনেক গল্পই আছে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই বিপুল পরিচিতি এনে দেয় তাকে। ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনীতিবিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সঙ্গে তাদের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেও দ্বিধা করেননি তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে আইন প্রণয়নে তারও ভূমিকা ছিল। ১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক। কিন্তু কোনো সম্মানী নেননি তিনি। পেশাগত জীবনে সফল এই মানুষটি অর্থ, বিত্তবৈভবের প্রতি মোহ ছিল না মোটেই। বিলিয়েছেন অর্থ মানুষের সেবায়। গড়েছেন হাসপাতাল। যুক্ত ছিলেন অসংখ্য সেবামূলক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।
উজ্জ্বল ব্যতিক্রমের উদাহরণ রেখে চলে গেলেন তিনি। তবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার যে মশাল জ্বালিয়ে গেলেন তা আলো দেবে আগামীর মানুষকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমি ও বাবার অভিভাবক ছিলেন ব্যারিস্টার রফিক’। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৮:২৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

অনলাইন ডেস্ক
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক ছিলেন আমার এবং আমার বাবারও অভিভাবক। তিনিই আমাকে ল পড়তে বলেছেন। নিজে গ্যারান্টি হয়ে ভিসা করে লন্ডন পাঠিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুর পর নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থ।

‘চলে গেলেন ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, স্যারকে নিয়ে লিখে শেষ করতে পারব না। তখন আমার বয়স ১৭, ভবিষ্যতে কী করব তেমন কোনও পরিকল্পনা ছিল না। হঠাৎ ডেকে নিয়ে গেলেন স্যার। বলল ল’ পড়, তুই পারবি, নিজে গ্যারান্টি হয়ে ভিসা করে দিলেন, কলেজে ভর্তি করে দিলেন। নিজের ভাইকে দায়িত্ব দিলেন লন্ডনে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে।’
‘সেই থেকে আমার শুরু, ফিরে এসে স্যারের সঙ্গেই কাজ শুরু। স্যার না থাকলে আমি হয়তো আজ আমি হতাম না। স্যার আমার অভিভাবক ছিলেন, আমার বাবারও অভিভাবক ছিল।’
‘জীবনের সকল উপার্জন নীরবে দান করে গেছেন। কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। একজন বিপদের বন্ধু, জাতির অভিভাবক। A True Legend (সত্যিকারের কিংবদন্তি) চিরকাল ঋণী থাকবে। আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক।’
উল্লেখ্য শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবীণ এই আইনজীবী। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে আদ-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রফিক-উল হক।

রফিক-উল হকের স্ত্রী ফরিদা হক বেশ কয়েক বছর আগে মারা যান। তার ছেলে ফাহিম-উল হকও আইনজীবী।
রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর কলকাতার সুবর্ণপুর গ্রামে। তার বাল্যকাল কেটেছে কলকাতার চেতলায়। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে তৎকালীন পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে চলে আসেন ঢাকায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারি আইনে তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
সফলতার অনেক গল্পই আছে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনি লড়াই বিপুল পরিচিতি এনে দেয় তাকে। ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনীতিবিদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সঙ্গে তাদের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করতেও দ্বিধা করেননি তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও কাজ করেছেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নে আইন প্রণয়নে তারও ভূমিকা ছিল। ১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক। কিন্তু কোনো সম্মানী নেননি তিনি। পেশাগত জীবনে সফল এই মানুষটি অর্থ, বিত্তবৈভবের প্রতি মোহ ছিল না মোটেই। বিলিয়েছেন অর্থ মানুষের সেবায়। গড়েছেন হাসপাতাল। যুক্ত ছিলেন অসংখ্য সেবামূলক ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে।
উজ্জ্বল ব্যতিক্রমের উদাহরণ রেখে চলে গেলেন তিনি। তবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার যে মশাল জ্বালিয়ে গেলেন তা আলো দেবে আগামীর মানুষকে।