সংবাদ শিরোনাম ::
ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা। বানারীপাড়ায় চাঁদাবাজি মামলায় জামিনে বের হয়ে বাদীসহ তিনজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম ঝালকাঠিতে গৃহবধূ মলিনা রায় হত্যা: মামলার দ্বিতীয় আসামি ঢাকায় গ্রেফতার সড়কে ঝড়লো সাংবাদিক পুত্রের প্রাণ, বিএমএসএফ’র শোক বাবুগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি আটক ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ত্রিমুখী সংঘর্ষে রিকসা চালক নিহত, আহত-১০ ​ঝালকাঠিতে ‘ফ্রি নিউজ গ্রুপ’-এর সাংবাদিকদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

বরিশালে সেই আলোচিত দুই পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত। আজকের ক্রাইম নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৬৩৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডেক্স প্রতিবেদক:; বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও তা মূল্যায়ন করেননি কোতয়ালি মডেল থানার দুই কর্মকর্তা বশির আহম্মেদ ও শরিফুল ইসলাম শরিফ। তার খেসারত হিসেবে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা বরাখাস্ত করা হয়েছে।গতকাল সোমবার রাতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এই আদেশ দেওয়া হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার মো. রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার বলেন, নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে তারা দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। যা বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি জানান। সাময়িক বরখাস্ত এসআই বশির আহম্মেদ ও এএসআই শরিফুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে বরিশাল সদর উপজেলার বুখাইনগর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় দলিল লেখক রিয়াজ হত্যা মামলায় বশির আহম্মেদ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিহতের স্ত্রী লিজা আক্তারকে ফাঁসিয়ে দিতে জবরদস্তিমুলক স্বীকারোক্তি নেন। তার সাথে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই শরিফুল ইসলাম শরিফ একত্রিত হয়ে লিজাকে আদালতে উপস্থিত করেছিলেন।

এই জবানবন্দি এবং মামলা তদন্ত নিয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ হলে অন্যদিকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলা তদন্তে মাঠে নামলে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করলে বেড়িয়ে হত্যার আসল রহস্য। সেক্ষেত্রে নিহতের স্ত্রী লিজাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে তদন্তে গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে।

এই ঘটনাসহ আরও বেশকিছু অভিযোগ ওঠে বশির ও শরিফের বিরুদ্ধে। সঙ্গত কারণে মেট্রো কমিশনার তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই তদন্তে প্রাথমিকভাবে বশির ও শরিফের বিরুদ্ধে ওই হত্যাকান্ড নিয়ে বাণিজ্য এবং বেশকিছু অভিযোগের প্রমাণ মেলে। অত:পর সোমবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার পদক্ষেপ হিসেবে বরখাস্ত করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বশির ও শরিফের ক্ষমতার অপব্যহার ও বেসামাল হয়ে ওঠার পেছনে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে করোনা দুর্যোগের চরম মুহূর্তে একজন জেলের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের ঘটনা গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিল। পাশাপাশি তাদের বেঘোরে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার সমমর্যদার অপরাপর কর্মকর্তারা সংক্ষুব্ধ হলেও থানা ওসির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস দেখাননি।

ঘটনাচক্রে বুখাইনগরে আলোচিত হত্যাকান্ড নিয়ে একজন নারী ঘিরে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহারে অন্তত কোতয়ালি থানায় দাপটীয় যুগের পতন ঘটলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বরিশালে সেই আলোচিত দুই পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত। আজকের ক্রাইম নিউজ

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

ডেক্স প্রতিবেদক:; বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও তা মূল্যায়ন করেননি কোতয়ালি মডেল থানার দুই কর্মকর্তা বশির আহম্মেদ ও শরিফুল ইসলাম শরিফ। তার খেসারত হিসেবে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা বরাখাস্ত করা হয়েছে।গতকাল সোমবার রাতে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে এই আদেশ দেওয়া হয়।

কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী কমিশনার মো. রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার বলেন, নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে তারা দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। যা বিভাগীয় তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি জানান। সাময়িক বরখাস্ত এসআই বশির আহম্মেদ ও এএসআই শরিফুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে বরিশাল সদর উপজেলার বুখাইনগর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় দলিল লেখক রিয়াজ হত্যা মামলায় বশির আহম্মেদ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিহতের স্ত্রী লিজা আক্তারকে ফাঁসিয়ে দিতে জবরদস্তিমুলক স্বীকারোক্তি নেন। তার সাথে ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এএসআই শরিফুল ইসলাম শরিফ একত্রিত হয়ে লিজাকে আদালতে উপস্থিত করেছিলেন।

এই জবানবন্দি এবং মামলা তদন্ত নিয়ে শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ হলে অন্যদিকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলা তদন্তে মাঠে নামলে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করলে বেড়িয়ে হত্যার আসল রহস্য। সেক্ষেত্রে নিহতের স্ত্রী লিজাকে ফাঁসিয়ে দিয়ে তদন্তে গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে।

এই ঘটনাসহ আরও বেশকিছু অভিযোগ ওঠে বশির ও শরিফের বিরুদ্ধে। সঙ্গত কারণে মেট্রো কমিশনার তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই তদন্তে প্রাথমিকভাবে বশির ও শরিফের বিরুদ্ধে ওই হত্যাকান্ড নিয়ে বাণিজ্য এবং বেশকিছু অভিযোগের প্রমাণ মেলে। অত:পর সোমবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার পদক্ষেপ হিসেবে বরখাস্ত করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বশির ও শরিফের ক্ষমতার অপব্যহার ও বেসামাল হয়ে ওঠার পেছনে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে করোনা দুর্যোগের চরম মুহূর্তে একজন জেলের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের ঘটনা গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিল। পাশাপাশি তাদের বেঘোরে চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার সমমর্যদার অপরাপর কর্মকর্তারা সংক্ষুব্ধ হলেও থানা ওসির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস দেখাননি।

ঘটনাচক্রে বুখাইনগরে আলোচিত হত্যাকান্ড নিয়ে একজন নারী ঘিরে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহারে অন্তত কোতয়ালি থানায় দাপটীয় যুগের পতন ঘটলো।