সংবাদ শিরোনাম ::
ভান্ডারিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিছন্নতা অভিযান ও কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত মাথায় পিস্তল ঠেকিয়েও দমানো যায়নি, এবার সাংবাদিক আসলামকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ছক! বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫

মাদারীপুরে পুলিশের হাতে জীনের বাদশার দুই সহযোগি গ্রেফতার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২০ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রি‌পোটঃ‌মোঃরাজুআহ‌ম্মেদ,মাদারীপুর জেলা প্রতি‌নি‌ধিঃ
মাদারীপুর জেলা পুলিশের একটি দল প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকা থেকে জ¦ীনের বাদশার সহযোগি দুই সদস্য গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, চট্টগ্রামের রাউজান থানার গোশতী মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত. মনিরুল হকের ছেলে জ¦ীনের সহযোগি জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬), ও একই থানার বাগওয়ান লাম্বুর হাট গ্রামের জসীম উদিনের ছেলে আব্দুর রহমান আমান (২২)।
মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বুধবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাজরাপুর গ্রামের মৃত আঃ রাজ্জাকের স্ত্রী মোসাঃ রহিমা বেগম গত ৯ আগস্ট সদর মডেল থানায় প্রতারণার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আনন্দ টিভি ও বাংলা টিভির বিজ্ঞাপন দেখে জানতে পারেন যে, তাহাদের নিকট হতে ঔষুধ ক্রয় করিলে এলার্জি চর্মরোগ থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া যাবে। বিজ্ঞাপন দেখে মোবাইল নম্বরে ফোন করিলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জানায়, তাহার গুরুজীর সাথে কথা বলিলে সব সমস্যা সমাধান করিয়া দিবেন। গুরুজীর সাথে কথা বলার চার্জ হিসেবে ৩২০ টাকা দিতে হবে। সেই থেকে তিনি গুরুজীর সাথে কথা বলিয়া তার পাঠানো তাবিজ ও ঔষুধ সেবন করিতে থাকেন। গুরুজী জ¦ীন নিয়ে খেলা করে বলিয়া প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিপুল পরিমান টাকার লোভ দেখায় রহিমা বেগমকে। পরবর্তীতে জ¦ীন দ্বারা তার ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনিদের ক্ষতি করার কথা বলিয়া পর্যায়ক্রমে বিকাশ ও নগদ এর মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় জ¦ীনের বাদশা ও তার সদস্যরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লার তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার এস.আই হাদী মো. খসরুজ্জামান ও এস.আই সুমন কমার আইচ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের রাউজান থানার গোশতী মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত. মনিরুল হকের ছেলে জীনের সহযোগি জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬), ও একই থানার বাগওয়ান লাম্বুর হাট গ্রামের জসীম উদিনের ছেলে আব্দুর রহমান আমান (২২) কে প্রতারকদের অফিস থেকে ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগমের প্রেরিত টাকার মধ্য হতে মোবাইলে থাকা ৪ লাখ এক হাজার টাকা জব্দ করা হয় এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। অতপর আসামী দ্বয়কে মাদারীপুর নিয়ে এসে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রতারণার কথা বিজ্ঞ আদালতের কাছে দোষ স্বীকারমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্য মধ্যে প্রধান জ¦ীনের বাদশা আঃ হাকিম চৌধূরীসহ অন্যান্য সদস্যকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে।
মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, জীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে কিছু প্রতারক চক্র মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাজরাপুর এলাকার এক মহিলার কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি টাকা বিকাশ ও নগদ এর মাধ্যমে নিয়ে গেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এবং পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি দুই জন এসআইকে সাথে নিয়ে জ¦ীনের বাদশা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করার জন্য চট্টগ্রামের রাউজান থানা এলাকা অভিযান পরিচালনা করি এবং তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রতারক চক্রের এক একজন সদস্য প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। প্রধান জিনের বাদশাকে খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করতে পারবো বলে আমি আশাবাদি। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি বিলম্বে সাংবাদিকদের জানালো হলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাদারীপুরে পুলিশের হাতে জীনের বাদশার দুই সহযোগি গ্রেফতার। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ০৫:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২০

রি‌পোটঃ‌মোঃরাজুআহ‌ম্মেদ,মাদারীপুর জেলা প্রতি‌নি‌ধিঃ
মাদারীপুর জেলা পুলিশের একটি দল প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকা থেকে জ¦ীনের বাদশার সহযোগি দুই সদস্য গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, চট্টগ্রামের রাউজান থানার গোশতী মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত. মনিরুল হকের ছেলে জ¦ীনের সহযোগি জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬), ও একই থানার বাগওয়ান লাম্বুর হাট গ্রামের জসীম উদিনের ছেলে আব্দুর রহমান আমান (২২)।
মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বুধবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাজরাপুর গ্রামের মৃত আঃ রাজ্জাকের স্ত্রী মোসাঃ রহিমা বেগম গত ৯ আগস্ট সদর মডেল থানায় প্রতারণার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, আনন্দ টিভি ও বাংলা টিভির বিজ্ঞাপন দেখে জানতে পারেন যে, তাহাদের নিকট হতে ঔষুধ ক্রয় করিলে এলার্জি চর্মরোগ থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া যাবে। বিজ্ঞাপন দেখে মোবাইল নম্বরে ফোন করিলে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জানায়, তাহার গুরুজীর সাথে কথা বলিলে সব সমস্যা সমাধান করিয়া দিবেন। গুরুজীর সাথে কথা বলার চার্জ হিসেবে ৩২০ টাকা দিতে হবে। সেই থেকে তিনি গুরুজীর সাথে কথা বলিয়া তার পাঠানো তাবিজ ও ঔষুধ সেবন করিতে থাকেন। গুরুজী জ¦ীন নিয়ে খেলা করে বলিয়া প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিপুল পরিমান টাকার লোভ দেখায় রহিমা বেগমকে। পরবর্তীতে জ¦ীন দ্বারা তার ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনিদের ক্ষতি করার কথা বলিয়া পর্যায়ক্রমে বিকাশ ও নগদ এর মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় জ¦ীনের বাদশা ও তার সদস্যরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লার তত্ত্বাবধানে সদর মডেল থানার এস.আই হাদী মো. খসরুজ্জামান ও এস.আই সুমন কমার আইচ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের রাউজান থানার গোশতী মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত. মনিরুল হকের ছেলে জীনের সহযোগি জসীম উদ্দিন ইউসুফ (৩৬), ও একই থানার বাগওয়ান লাম্বুর হাট গ্রামের জসীম উদিনের ছেলে আব্দুর রহমান আমান (২২) কে প্রতারকদের অফিস থেকে ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগমের প্রেরিত টাকার মধ্য হতে মোবাইলে থাকা ৪ লাখ এক হাজার টাকা জব্দ করা হয় এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। অতপর আসামী দ্বয়কে মাদারীপুর নিয়ে এসে আদালতে প্রেরণ করে রিমান্ড চাওয়া হলে বিজ্ঞ আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রতারণার কথা বিজ্ঞ আদালতের কাছে দোষ স্বীকারমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্য মধ্যে প্রধান জ¦ীনের বাদশা আঃ হাকিম চৌধূরীসহ অন্যান্য সদস্যকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যহত রয়েছে।
মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, জীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে কিছু প্রতারক চক্র মাদারীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম হাজরাপুর এলাকার এক মহিলার কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বেশি টাকা বিকাশ ও নগদ এর মাধ্যমে নিয়ে গেছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এবং পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশে আমি দুই জন এসআইকে সাথে নিয়ে জ¦ীনের বাদশা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করার জন্য চট্টগ্রামের রাউজান থানা এলাকা অভিযান পরিচালনা করি এবং তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রতারক চক্রের এক একজন সদস্য প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে। প্রধান জিনের বাদশাকে খুব শীঘ্রই গ্রেফতার করতে পারবো বলে আমি আশাবাদি। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি বিলম্বে সাংবাদিকদের জানালো হলো।