সংবাদ শিরোনাম ::
বাবুগঞ্জে খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, স্থানীয় নির্বাচনে থাকবে বিএনপির একক প্রার্থী” — অ্যাড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বরিশালে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ বাবুগঞ্জের দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার শাপলা চত্বরে হত্যাকান্ডের ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা বাজারে সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কড়া নজরদারি সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চুয়াডাঙ্গায় গণপরিবহন ষ্টাফদের ডোপ টেস্ট পটুয়াখালীতে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, খুলনা বিভাগে নতুন আক্রান্ত ৮৫ বাগেরহাটে বন্ধুর হাতেই খুন আইনজীবী শান্ত,হত্যা মামলায় দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৪ বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এমপি সান্টু: ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে চাল বিতরণ

ফেসবুকে মেয়ে সেজে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিন বিদেশি নাগরিক। আজকের ক্রাইম-নিউজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনলাইন ডেস্ক:: ফেসবুকে ফেক আইডি এবং ভুয়া নাম ব্যবহার করে মেয়েবন্ধু সেজে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ওরফে ফয়সাল নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিন বিদেশি নাগরিক।
শুধু ফয়সালই নয়, ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে উপহার দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন কেনিয়া ও ক্যামেরুনের বংশোদ্ভূত সোলেমান ওরফে নিগুয়েগাং তেগোমো বারটিন (৪৭), নিগুয়েনাং তোবোসেরগে ক্রিস্টিয়ান (৩৮) এবং একোঙ্গো এরনাস্ট ইব্রাহিম (৪২)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার দিনগত রাতে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগের প্রধান ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার।

তিনি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা প্রথমে ফেসবুকে ফেক আইডি এবং নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তারা বন্ধুত্ব তৈরি করেন।

এ সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দামি গিফট পাঠান এবং সেটি কাস্টমসে আটকে আছে, ছাড়িয়ে আনতে হবে বলে মোটা অঙ্কের টাকা চান। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কেউ কাস্টমসের কর্মকর্তা অথবা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা কাজে সহায়তা করেন।

প্রতারক চক্রের গ্রেপ্তার সদস্যরা নারী সেজে ফেক আইডি ব্যবহার করে ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

চক্রের এক সদস্য নিজেকে আমেরিকান পরিচয় দিয়ে আরিফুলকে কুরিয়ার এজেন্টের মাধ্যমে উপহার পাঠাবে বলে জানান। এর পর আরিফুলকে উপহার সামগ্রী পাঠানোর কথা বলে চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

সর্বমোট তার কাছ থেকে ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নেয় চক্রের তিন সদস্য। ভুক্তভোগী আরিফুল রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেছেন।

ডিআইজি রেজাউল হায়দার আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আক্রমণাত্মক। অভিযান চলাকালে তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন।

আমরা জানতে পেরেছি, তারা ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের কারও কাছেই পাসপোর্টের কোনো কপি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ভিসার মেয়াদ নেই। অবৈধভাবে তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে আসছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব এবং তাদের চক্রে আর কোনো সদস্য আছে কিনা খুঁজে দেখব। প্রতারক চক্রের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত আছে কিনা তাও খুঁজে দেখা হচ্ছে।

অভিনব এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এমন কতজন আফ্রিকান নাগরিক বাংলাদেশে আছেন- এ বিষয়ে কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, সুনির্দিষ্ট করে আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

তবে যারাই এ প্রতারণা করছে, তারা সবাই একই গ্রুপের নয়। দুজন, তিনজন অথবা পাঁচজন করে একেকটি গ্রুপে এ প্রতারণামূলক কর্মকা-গুলো হচ্ছে। নিশ্চিত করে কতগুলো গ্রুপ আছে, সেটি বলা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফেসবুকে মেয়ে সেজে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিন বিদেশি নাগরিক। আজকের ক্রাইম-নিউজ

আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২০

অনলাইন ডেস্ক:: ফেসবুকে ফেক আইডি এবং ভুয়া নাম ব্যবহার করে মেয়েবন্ধু সেজে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম ওরফে ফয়সাল নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তিন বিদেশি নাগরিক।
শুধু ফয়সালই নয়, ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে উপহার দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন কেনিয়া ও ক্যামেরুনের বংশোদ্ভূত সোলেমান ওরফে নিগুয়েগাং তেগোমো বারটিন (৪৭), নিগুয়েনাং তোবোসেরগে ক্রিস্টিয়ান (৩৮) এবং একোঙ্গো এরনাস্ট ইব্রাহিম (৪২)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার দিনগত রাতে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগের প্রধান ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার।

তিনি বলেন, এই চক্রের সদস্যরা প্রথমে ফেসবুকে ফেক আইডি এবং নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তারা বন্ধুত্ব তৈরি করেন।

এ সুযোগে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দামি গিফট পাঠান এবং সেটি কাস্টমসে আটকে আছে, ছাড়িয়ে আনতে হবে বলে মোটা অঙ্কের টাকা চান। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশি কেউ কাস্টমসের কর্মকর্তা অথবা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা কাজে সহায়তা করেন।

প্রতারক চক্রের গ্রেপ্তার সদস্যরা নারী সেজে ফেক আইডি ব্যবহার করে ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

চক্রের এক সদস্য নিজেকে আমেরিকান পরিচয় দিয়ে আরিফুলকে কুরিয়ার এজেন্টের মাধ্যমে উপহার পাঠাবে বলে জানান। এর পর আরিফুলকে উপহার সামগ্রী পাঠানোর কথা বলে চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।

সর্বমোট তার কাছ থেকে ২২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নেয় চক্রের তিন সদস্য। ভুক্তভোগী আরিফুল রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেছেন।

ডিআইজি রেজাউল হায়দার আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আক্রমণাত্মক। অভিযান চলাকালে তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন।

আমরা জানতে পেরেছি, তারা ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের কারও কাছেই পাসপোর্টের কোনো কপি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের ভিসার মেয়াদ নেই। অবৈধভাবে তারা বাংলাদেশে অবস্থান করে আসছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করব এবং তাদের চক্রে আর কোনো সদস্য আছে কিনা খুঁজে দেখব। প্রতারক চক্রের সঙ্গে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক জড়িত আছে কিনা তাও খুঁজে দেখা হচ্ছে।

অভিনব এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত এমন কতজন আফ্রিকান নাগরিক বাংলাদেশে আছেন- এ বিষয়ে কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, সুনির্দিষ্ট করে আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

তবে যারাই এ প্রতারণা করছে, তারা সবাই একই গ্রুপের নয়। দুজন, তিনজন অথবা পাঁচজন করে একেকটি গ্রুপে এ প্রতারণামূলক কর্মকা-গুলো হচ্ছে। নিশ্চিত করে কতগুলো গ্রুপ আছে, সেটি বলা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।