সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে করোনা মোকাবেলায় কাজপাগল ইউএনও সুমি মজুমদার।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ ৬৬২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোর থেকে ফিরে মোঃ আবুল বাশার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মিনারুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি::-

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। যা ইতোমধ্যেই আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। করোনা মোকাবেলায় যেনাে দম ফেলার ফুসরত নেই সারাদেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ইউএনও। বিভিন্ন পদক্ষেপে তারা মহামারী এই ভাইরাসকে রুখে দিতে চেষ্টা করছেন। এসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে হচ্ছে আলোচনা। আবার অনেকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচনারও জন্ম দিয়েছেন।

এরই মধ্যে এক নারী ইউএনওর মানবিক গুনাবলী সবার নজর কেড়েছে। তিনি নিজের ছয় মাসের শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে করোনা মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। সুমি মজুমদার যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত।

জানা যায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ঝিকরগাছা উপজেলাতেও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ২৩ মার্চ সুমি মজুমদারের নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে একজন কলেজ প্রতিনিধি, একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিনিধি, দুইজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, দুইজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সকল ইউপি সদস্য, সকল সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে একটি করে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলাব্যাপী মাইকিং, ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ মসজিদে ইমামদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের নিয়মগুলো আলোচনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সচেতনতার লক্ষ্যে উপজেলার প্রত্যেক বাজারে লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানার দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জনসমাগম এড়ানো ও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার প্রদত্ত ১০ মেট্রিক টন চাল, আলু, ডাল ও সাবান উপজেলার এক হাজার গরীব ও দুস্থ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ঝিকরগাছা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও রাস্তায় জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার স্প্রে করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগম এড়ানোর জন্য যখনই ফোন কল আসছে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ইউএনও সুমি মজুমদার নিজস্ব উদ্যোগে লিফলেট আকারে একটি বিশেষ ঘোষণা বের করেছেন। তাতে ৮টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

নির্দেশনায় তিনি উল্লেখ করেছেন— বিদেশফেরত প্রত্যেক ব্যক্তি ১৪ দিন অবশ্যই নিজ কক্ষ থেকে বের হতে পারবেন না। তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ তার থেকে আলাদা থাকবেন। তার থালা, বাটি, গ্লাস, কাপড়সহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে এবং ওই পরিবারের সদস্যরা মসজিদসহ কোনো ধরনের লোক সমাগমে যেতে পারবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপজেলায় সকল প্রকার গণজমায়েত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ না করার নির্দেশনা। প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ এবং যত্রতত্র বাজার, মোড় বা দোকানে অযথা আড্ডা এবং যেকোনো ধরনের খেলাধুলা করা নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে। চায়ের স্টলসহ যেকোনো ধরনের দোকানে টিভি ও বসার বেঞ্চ সরিয়ে রাখা একং দোকানের সামনে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ রাখতে হবে। উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা। এ সকল নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্দেশনায় জানানো হয় কোনো ব্যক্তি এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নিকটবর্তী পুলিশ কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকর্মীকে অবহিত করতে হবে এবং যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বসানো হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এএসএম ওহিদুজ্জামান জানান একজন কাজ পাগল মানুষ সুমি মজুমদার। একটা ছয় মাসের শিশু সন্তানকে বাড়ি রেখে সরকারের নির্দেশনা মেনে সাধারণ মানুষের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি নিজে ফিল্ডে কাজ করছেন আবার আমরা কে, কোথায়, কিভাবে কাজ করছি তার সার্বিক তদারকি করছেন।

ঝিকরগাছা সরকারি এমএল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান আজাদ জানান আমার দেখা চৌকস একজন অফিসার সুমি মজুমদার। তিনি করোনা প্রতিরোধে যেভাবে কাজ করছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমি মজুমদার বলেন আমার কাছে দায়িত্বটা অনেক বড়। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমি চাই ঝিকরগাছা উপজেলা করোনা ভাইরাসমুক্ত থাকুক। করোনা মোকাবেলায় তাই সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সুমি মজুমদার নেত্রকোনা জেলা বারহাট্টা উপজেলা শহরের রনজিৎ কুমার মজুমদারের মেয়ে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী। তিনি ২৯ তম ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন উত্তীর্ণ হয়ে ২০১১ সালের ১ আগস্ট নোয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার পদে যোগদান করেন। পরে মাগুরা জেলার শালিখায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগ দান করেন। ২০১৯ সালের ১১ জুন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন সুমি মজুমদার। যোগদানের কয়েকমাস পরেই তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান এবং গতবছরের ২২ সেপ্টেম্বর ছেলে সন্তানের ২ য় জননী হন। ২২ মার্চ কর্মস্থলে ফিরেই করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধ করে যাচ্ছেন এই ইউএনও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে করোনা মোকাবেলায় কাজপাগল ইউএনও সুমি মজুমদার।

আপডেট সময় : ০৭:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০

যশোর থেকে ফিরে মোঃ আবুল বাশার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ মিনারুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি::-

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। যা ইতোমধ্যেই আঘাত হেনেছে বাংলাদেশে। করোনা মোকাবেলায় যেনাে দম ফেলার ফুসরত নেই সারাদেশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ইউএনও। বিভিন্ন পদক্ষেপে তারা মহামারী এই ভাইরাসকে রুখে দিতে চেষ্টা করছেন। এসব নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে হচ্ছে আলোচনা। আবার অনেকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সমালোচনারও জন্ম দিয়েছেন।

এরই মধ্যে এক নারী ইউএনওর মানবিক গুনাবলী সবার নজর কেড়েছে। তিনি নিজের ছয় মাসের শিশু সন্তানকে বাড়িতে রেখে করোনা মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। সুমি মজুমদার যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত।

জানা যায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ঝিকরগাছা উপজেলাতেও প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ২৩ মার্চ সুমি মজুমদারের নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে একজন কলেজ প্রতিনিধি, একজন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিনিধি, দুইজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, দুইজন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সকল ইউপি সদস্য, সকল সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে একটি করে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলাব্যাপী মাইকিং, ইসলামি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ মসজিদে ইমামদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের নিয়মগুলো আলোচনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সচেতনতার লক্ষ্যে উপজেলার প্রত্যেক বাজারে লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানার দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে জনসমাগম এড়ানো ও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার প্রদত্ত ১০ মেট্রিক টন চাল, আলু, ডাল ও সাবান উপজেলার এক হাজার গরীব ও দুস্থ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। ঝিকরগাছা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ও রাস্তায় জীবাণুনাশক ব্লিচিং পাউডার স্প্রে করা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমাগম এড়ানোর জন্য যখনই ফোন কল আসছে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ইউএনও সুমি মজুমদার নিজস্ব উদ্যোগে লিফলেট আকারে একটি বিশেষ ঘোষণা বের করেছেন। তাতে ৮টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

নির্দেশনায় তিনি উল্লেখ করেছেন— বিদেশফেরত প্রত্যেক ব্যক্তি ১৪ দিন অবশ্যই নিজ কক্ষ থেকে বের হতে পারবেন না। তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ তার থেকে আলাদা থাকবেন। তার থালা, বাটি, গ্লাস, কাপড়সহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র আলাদা করে রাখতে হবে এবং ওই পরিবারের সদস্যরা মসজিদসহ কোনো ধরনের লোক সমাগমে যেতে পারবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপজেলায় সকল প্রকার গণজমায়েত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ না করার নির্দেশনা। প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে বাড়ি থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ এবং যত্রতত্র বাজার, মোড় বা দোকানে অযথা আড্ডা এবং যেকোনো ধরনের খেলাধুলা করা নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে। চায়ের স্টলসহ যেকোনো ধরনের দোকানে টিভি ও বসার বেঞ্চ সরিয়ে রাখা একং দোকানের সামনে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ রাখতে হবে। উপজেলার সকল স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা। এ সকল নির্দেশনা না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্দেশনায় জানানো হয় কোনো ব্যক্তি এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নিকটবর্তী পুলিশ কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকর্মীকে অবহিত করতে হবে এবং যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতার জন্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বসানো হয়েছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এএসএম ওহিদুজ্জামান জানান একজন কাজ পাগল মানুষ সুমি মজুমদার। একটা ছয় মাসের শিশু সন্তানকে বাড়ি রেখে সরকারের নির্দেশনা মেনে সাধারণ মানুষের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি নিজে ফিল্ডে কাজ করছেন আবার আমরা কে, কোথায়, কিভাবে কাজ করছি তার সার্বিক তদারকি করছেন।

ঝিকরগাছা সরকারি এমএল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান আজাদ জানান আমার দেখা চৌকস একজন অফিসার সুমি মজুমদার। তিনি করোনা প্রতিরোধে যেভাবে কাজ করছেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমি মজুমদার বলেন আমার কাছে দায়িত্বটা অনেক বড়। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমি চাই ঝিকরগাছা উপজেলা করোনা ভাইরাসমুক্ত থাকুক। করোনা মোকাবেলায় তাই সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

সুমি মজুমদার নেত্রকোনা জেলা বারহাট্টা উপজেলা শহরের রনজিৎ কুমার মজুমদারের মেয়ে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী। তিনি ২৯ তম ব্যাচের বিসিএস প্রশাসন উত্তীর্ণ হয়ে ২০১১ সালের ১ আগস্ট নোয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার পদে যোগদান করেন। পরে মাগুরা জেলার শালিখায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগ দান করেন। ২০১৯ সালের ১১ জুন ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন সুমি মজুমদার। যোগদানের কয়েকমাস পরেই তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যান এবং গতবছরের ২২ সেপ্টেম্বর ছেলে সন্তানের ২ য় জননী হন। ২২ মার্চ কর্মস্থলে ফিরেই করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধ করে যাচ্ছেন এই ইউএনও।