সংবাদ শিরোনাম ::
নলছিটিতে ১৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত বিজয়নগর থানার, আহসান উল্লাহ, রাজাপুরে মাদকের আখড়ায় অভিযান: ইয়াবাসহ আটক ২, বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ঝালকাঠিতে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স খাদ্যে পড়ে আহত ১, পা ভাঙল রোগীর দামুড়হুদার মদনায় বিস্কুট ফ্যাক্টারিতে আগুন ক্ষতি প্রায় ৮ লক্ষাধিক ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল বৈরী আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও অবৈধ জালে সংকটে সুন্দরবন উপকূলের মৎস্য অর্থনীতি সাগরে নেই ট্রলার, আড়তে নেই মাছ বানারীপাড়ায় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম রকি তেতলা পিজিএস স্কুলের সভাপতি বরিশালে সিভিল সার্জনের অপসারনের দাবীতে কক্ষে তালা বাবুগঞ্জে মাদক, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক সভা।

বিড়ি ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার কারনে ৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের কষ্টের শেষ নেই।

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ ২২৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোর থেকে ফিরে মোঃ আবুল বাশার স্টাফ রিপোর্টার/ মোঃ মিনারুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি::-

বর্তমানে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে দেশে তান্ডব বয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ শ্রমিক যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কাজ বন্ধ হয়ে যাবার কারণে খুবই কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে। যাদের মধ্যে যশোর অঞ্চলের বিড়ি শ্রমিকরা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। হাতে তৈরী বিড়ি ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার কারনে দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এ অঞ্চলের ৫ হাজারেরও অধিক নিম্ন আয়ের বিড়ি শ্রমিকদের।

বিড়ি ফ্যাক্টরী ১৭ দিন বন্ধের কবলে পড়ায় এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো পর্যন্ত সরকারী বা মালিক পক্ষ থেকে কোন সাহায্য সহযোগীতা পায়নি বলে জানান তারা। এ কারনে ফ্যাক্টরীর সামনে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন দক্ষিণ অঞ্চলের আহবায়ক সহ মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বিড়ি শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় সিমীত পরিসরে ফ্যাক্টরীর কয়েকশ শ্রমিকের সমন্বয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে ফ্যাক্টরী পরিদর্শন করে জানা যায় করোনা ভাইরাসের সামাজিক সুরক্ষা জনিত কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনার মধ্যে এক সপ্তাহ বন্ধ রয়েছে যশোরের আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী। মোট দশ দিন ফ্যাক্টরী বন্ধ ঘোষনা হলেও পরবর্তীতে নতুন করে আরো ৭ দিন সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি হওয়ায় টানা ১৭ দিন এই বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধের কবলে পড়েছে।

যশোর অঞ্চলের মধ্যে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরীর দুই প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার বিড়ি শ্রমিক বর্তমানে বেকার হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে তাদের পরিবার গুলো। হাতে তৈরী বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকার সুযোগে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকা ও জেটিআই জাপান ট্যোবাকা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেটের রমরমা ব্যবসা।

তাদের প্রোডাক্ট মজুদ এবং মেশিনে তৈরী হওয়ায় তাদের উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ শ্রমিক এবং ফ্যাক্টরী পরিচালনাকারী সদস্যরা। এক দিকে বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ অন্যদিকে কাজের অভাবে হাজার হাজার শ্রমিকরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

শ্রমিকরা জানায় ফ্যাক্টরীর উৎপাদন বন্ধ থাকা কালিন সময়ের জন্য আমাদেরকে মালিক পক্ষ বা সরকারী ভাবে এখনও কোন সাহায্যের ব্যবস্থা করেনি। গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে দিন কাটাচ্ছি একমাত্র আল্লাহ জানেন। কোন রকম সাহায্য না দেওয়া পর্যন্ত নিয়মানুসারে ফ্যাক্টরীর উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে হবে বলে জোর দাবি জানায় তারা। নিম্ন আয়ের সাধারণ শ্রমিকরা বলেন ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকলে আমরা করোনা ভাইরাসে মরবো না বরং না খেয়েই মরবে বিড়ি শ্রমিকরা। মালিক পক্ষ বা সরকারীভাবে সাহায্যের দাবী নিয়ে আমাদের এই সীমিত পরিসরে মানববন্ধন কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে।

আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী নাভারণ, ঝিকরগাছা শাখার ম্যানেজার শান্ত কুমার সাহা বলেন ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা দিন আনে দিন খায়। দীর্ঘদিন বন্ধের কবলে পড়ায় কোন শ্রমিককে সরকারি বা মালিক পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বা কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা করেনি। সে কারনে সাধারণ শ্রমিকসহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা ভীষণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন। দ্রুত সরকারি বা মালিক পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নিলে না খেয়ে মরতে হবে ৫ হাজার শ্রমিকসহ জড়িত আরো কয়েক হাজার মানুষের।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের দক্ষিণ অঞ্চলের আহবায়ক ফজলুর রহমান জানান হাতে তৈরি বিড়ি শিল্প মুলত একটি হস্তশিল্প। এই শিল্পে শুধু যশোরের দুই ফ্যাক্টরীতে অন্তত ৫ হাজার শ্রমিক রয়েছে। যাদের একমাত্র উপার্জনের হাতিয়ার এই বিড়ি শিল্পে। করোনা ভাইরাসের কারনে ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এখানে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক। সরকারি বা মালিক পক্ষ থেকে দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়াতে বিনীত ভাবে অনুরোধ করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিড়ি ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার কারনে ৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিকের কষ্টের শেষ নেই।

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০

যশোর থেকে ফিরে মোঃ আবুল বাশার স্টাফ রিপোর্টার/ মোঃ মিনারুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি::-

বর্তমানে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে দেশে তান্ডব বয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ শ্রমিক যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কাজ বন্ধ হয়ে যাবার কারণে খুবই কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে। যাদের মধ্যে যশোর অঞ্চলের বিড়ি শ্রমিকরা বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। হাতে তৈরী বিড়ি ফ্যাক্টরি বন্ধ হওয়ার কারনে দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এ অঞ্চলের ৫ হাজারেরও অধিক নিম্ন আয়ের বিড়ি শ্রমিকদের।

বিড়ি ফ্যাক্টরী ১৭ দিন বন্ধের কবলে পড়ায় এক সপ্তাহ পার হলেও এখনো পর্যন্ত সরকারী বা মালিক পক্ষ থেকে কোন সাহায্য সহযোগীতা পায়নি বলে জানান তারা। এ কারনে ফ্যাক্টরীর সামনে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষে বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশন দক্ষিণ অঞ্চলের আহবায়ক সহ মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বিড়ি শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় সিমীত পরিসরে ফ্যাক্টরীর কয়েকশ শ্রমিকের সমন্বয়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

সরেজমিনে ফ্যাক্টরী পরিদর্শন করে জানা যায় করোনা ভাইরাসের সামাজিক সুরক্ষা জনিত কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষনার মধ্যে এক সপ্তাহ বন্ধ রয়েছে যশোরের আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী। মোট দশ দিন ফ্যাক্টরী বন্ধ ঘোষনা হলেও পরবর্তীতে নতুন করে আরো ৭ দিন সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি হওয়ায় টানা ১৭ দিন এই বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধের কবলে পড়েছে।

যশোর অঞ্চলের মধ্যে আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরীর দুই প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার বিড়ি শ্রমিক বর্তমানে বেকার হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছে তাদের পরিবার গুলো। হাতে তৈরী বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকার সুযোগে ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকা ও জেটিআই জাপান ট্যোবাকা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিভিন্ন ব্রান্ডের সিগারেটের রমরমা ব্যবসা।

তাদের প্রোডাক্ট মজুদ এবং মেশিনে তৈরী হওয়ায় তাদের উৎপাদন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সাধারণ শ্রমিক এবং ফ্যাক্টরী পরিচালনাকারী সদস্যরা। এক দিকে বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ অন্যদিকে কাজের অভাবে হাজার হাজার শ্রমিকরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

শ্রমিকরা জানায় ফ্যাক্টরীর উৎপাদন বন্ধ থাকা কালিন সময়ের জন্য আমাদেরকে মালিক পক্ষ বা সরকারী ভাবে এখনও কোন সাহায্যের ব্যবস্থা করেনি। গত এক সপ্তাহ ধরে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে দিন কাটাচ্ছি একমাত্র আল্লাহ জানেন। কোন রকম সাহায্য না দেওয়া পর্যন্ত নিয়মানুসারে ফ্যাক্টরীর উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখতে হবে বলে জোর দাবি জানায় তারা। নিম্ন আয়ের সাধারণ শ্রমিকরা বলেন ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকলে আমরা করোনা ভাইরাসে মরবো না বরং না খেয়েই মরবে বিড়ি শ্রমিকরা। মালিক পক্ষ বা সরকারীভাবে সাহায্যের দাবী নিয়ে আমাদের এই সীমিত পরিসরে মানববন্ধন কর্মসূচী দেওয়া হয়েছে।

আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরী নাভারণ, ঝিকরগাছা শাখার ম্যানেজার শান্ত কুমার সাহা বলেন ফ্যাক্টরীর শ্রমিকরা দিন আনে দিন খায়। দীর্ঘদিন বন্ধের কবলে পড়ায় কোন শ্রমিককে সরকারি বা মালিক পক্ষ থেকে খাদ্য সামগ্রী বা কোন রকম সাহায্য সহযোগিতা করেনি। সে কারনে সাধারণ শ্রমিকসহ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা ভীষণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন। দ্রুত সরকারি বা মালিক পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নিলে না খেয়ে মরতে হবে ৫ হাজার শ্রমিকসহ জড়িত আরো কয়েক হাজার মানুষের।

বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের দক্ষিণ অঞ্চলের আহবায়ক ফজলুর রহমান জানান হাতে তৈরি বিড়ি শিল্প মুলত একটি হস্তশিল্প। এই শিল্পে শুধু যশোরের দুই ফ্যাক্টরীতে অন্তত ৫ হাজার শ্রমিক রয়েছে। যাদের একমাত্র উপার্জনের হাতিয়ার এই বিড়ি শিল্পে। করোনা ভাইরাসের কারনে ফ্যাক্টরী বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন এখানে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক। সরকারি বা মালিক পক্ষ থেকে দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়াতে বিনীত ভাবে অনুরোধ করেন তিনি।