সংবাদ শিরোনাম ::
অগ্রিম সতর্কতা: শুরু হওয়ার আগেই ৭,০০০ রিংগিতের নতুন ‘ভিসা ফাঁদ’ পাকাচ্ছে সিন্ডিকেট বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” নলছিটিতে ইভটিজিং, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাধক বিরোধী অভিযানে ১কেজি গাঁজা ও 202 পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার ৪… ঝালকাঠিতে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত কাঠালিয়ায় পাথর বোঝাই ট্রাকসহ আয়রন ব্রিজ ধস: আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, চরম দুর্ভোগ আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সুইজগেট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেনি – জয়নুল আবেদীন এমপি বরিশালে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

আমতলীতে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদওয়ারী শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্ময় করার দাবীতে মানববন্ধন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ২৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জলিলুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার

বরগুনার আমতলী উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদওয়ারী শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্ময় করার দাবীতে মানববন্ধন করেছে অভিভাবক বৃন্দ। বুধবার সকালে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন কর্র্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মোঃ হাসান মৃধা, ইফতেখার রসুল সোহাগ প্যাদাসহ অভিভাবকবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আমতলী উপজেলায় ১৫২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল থাকায় অত্র উপজেলায় প্রায় সকল শিশুরাই বিদ্যালয়গামী ও প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সন্তোষজনক। কিন্তু সরকারী দলের কতিপয় প্রভাবশালী নেতাদের কারনে উপজেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোঠাওয়ারী বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বৈষম্য চোঁখে পড়ার মত। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৪০জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু সরকারী এ নিয়মকে অমান্য করে পৌরসভার বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ২১ জন, একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫০২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ১৮ জন ও ছুড়িকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ৯ জন। এ তিনটি বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৩৬ জন। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী এখানে শিক্ষক থাকার কথা ২৯ জন। বর্তমানে সেখানে শিক্ষক আছে ৪৮ জন। এ সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে উপজেলার শিক্ষা কমিটির সদস্য ও সরকারী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের পছন্দের শিক্ষকদের নিয়োজিত রেখেছেন। শিক্ষক সংকটের কারনে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ঠিকমত পাঠদান করানোই সম্ভব হচ্ছে না।

শহরের বিদ্যালয়গুলোতে স্থাণীয় সরকারী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে ২০১৭ সালের পূর্বে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয় সমুহের শিক্ষকদের কোঠা কেঁটে শহরের বিদ্যালয় গুলোতে অতিরিক্ত কোঠা তৈরী করে সেখানে শিক্ষক নিয়োজিত রেখেছেন। অপরদিকে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

এ বিষয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান মুঠোফোনে উল্লেখিত অনিয়মের বিষয়ের সত্যতা আছে বলে স্বীকার করে বলেন, ২০১৭ সালের পূর্বে উপজেলা শিক্ষা কমিটি গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোঠা কেঁটে শহরে নিয়ে আসার কারনে পৌর শহর ও উহার কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোঠা বেশী রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এ রকম অনিয়ম হলে তা তদন্ত করে সমন্বয় করা হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা ও বক্তারা অনতিবিলম্বে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ব বন্ধ করে সরকারি নিয়ম-অনুযায়ী আমতলী উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্বয় করার দাবী জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমতলীতে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদওয়ারী শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্ময় করার দাবীতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২০

জলিলুর রহমান স্টাফ রিপোর্টার

বরগুনার আমতলী উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদওয়ারী শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্ময় করার দাবীতে মানববন্ধন করেছে অভিভাবক বৃন্দ। বুধবার সকালে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন কর্র্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন মোঃ হাসান মৃধা, ইফতেখার রসুল সোহাগ প্যাদাসহ অভিভাবকবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আমতলী উপজেলায় ১৫২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল থাকায় অত্র উপজেলায় প্রায় সকল শিশুরাই বিদ্যালয়গামী ও প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সন্তোষজনক। কিন্তু সরকারী দলের কতিপয় প্রভাবশালী নেতাদের কারনে উপজেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোঠাওয়ারী বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বৈষম্য চোঁখে পড়ার মত। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৪০জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু সরকারী এ নিয়মকে অমান্য করে পৌরসভার বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ২১ জন, একে হাই সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫০২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ১৮ জন ও ছুড়িকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে ৯ জন। এ তিনটি বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১৩৬ জন। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী এখানে শিক্ষক থাকার কথা ২৯ জন। বর্তমানে সেখানে শিক্ষক আছে ৪৮ জন। এ সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি করে উপজেলার শিক্ষা কমিটির সদস্য ও সরকারী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের পছন্দের শিক্ষকদের নিয়োজিত রেখেছেন। শিক্ষক সংকটের কারনে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ঠিকমত পাঠদান করানোই সম্ভব হচ্ছে না।

শহরের বিদ্যালয়গুলোতে স্থাণীয় সরকারী দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে ২০১৭ সালের পূর্বে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয় সমুহের শিক্ষকদের কোঠা কেঁটে শহরের বিদ্যালয় গুলোতে অতিরিক্ত কোঠা তৈরী করে সেখানে শিক্ষক নিয়োজিত রেখেছেন। অপরদিকে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।

এ বিষয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মজিবুর রহমান মুঠোফোনে উল্লেখিত অনিয়মের বিষয়ের সত্যতা আছে বলে স্বীকার করে বলেন, ২০১৭ সালের পূর্বে উপজেলা শিক্ষা কমিটি গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোঠা কেঁটে শহরে নিয়ে আসার কারনে পৌর শহর ও উহার কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোঠা বেশী রয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এ রকম অনিয়ম হলে তা তদন্ত করে সমন্বয় করা হবে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারীরা ও বক্তারা অনতিবিলম্বে প্রভাবশালীদের দৌরাত্ব বন্ধ করে সরকারি নিয়ম-অনুযায়ী আমতলী উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও সমন্বয় করার দাবী জানান।